পিএসসি, জেএসসি ও এসএসসিতে জিপিএ-৫ পাওয়া মেধাবী মহসিন আলী। নাটোরের সিংড়া উপজেলার মহিষমারী গ্রামের হতদরিদ্র, দিনমজুর সোহরাব হোসেনের ছেলে।
ভালো ফলাফল করেও ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষে কলেজে ভর্তি হতে পারছে না মহসিন। মহসিনের দিন কাটছে তাই হতাশায়। মহসিনের পিতা দিনমজুরির কাজ করে সামান্য মজুরি পান। তার পরিবারের সদস্য সংখ্যা ৮ জন। স্ত্রী, ৪ মেয়ে ও ২ ছেলে নিয়ে সোহরাব হোসেনের সংসার। ৩ মেয়েকে বিয়ে দিয়েছে। বর্তমানে ১ মেয়ে ও ২ ছেলের পড়াশোনা ও সংসারের ভরণপোষণ চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন তিনি। প্রতিমাসে ধার করে সংসার চালাতে হয়। মহসিনের অন্য দুই ভাইবোনও পড়াশোনা করছে স্থানীয় প্রাথমিক বিদ্যালয়ে।
মহসিন ২০১৯ সালের এসএসসি পরীক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগ থেকে জিপিএ ৫ পায় এবং কলেজে ভর্তি হওয়ার স্বপ্ন দেখে। ভর্তি বিজ্ঞপ্তি দেখে নাটোর কাদিরাবাদ ক্যান্টনমেন্ট স্যাপার কলেজে বিজ্ঞান বিভাগে ১ম পছন্দ অনুযায়ী ভর্তির সুযোগ পায়। সেখানে ভর্তিসহ অন্যান্য ফি জোগানো তার পরিবারের পক্ষে দুঃসাধ্য। এর পর থেকেই মহসিনের পরিবার তার ভর্তি নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়ে। মহসিন গুণীও। সে কবিতা লেখে। এ পর্যন্ত ৪টি যৌথ কাব্যগ্রন্থে মহসিনের লেখা প্রকাশিত হয়েছে। বিভিন্ন পত্রিকা ও অনলাইন সংবাদ মাধ্যমে তার লেখা অসংখ্য কবিতা প্রকাশিত হয়েছে।
মহসিনের বাবা সোহরাব হোসেন জানান, সমাজের বিত্তবানরা যদি তার ছেলের পড়াশোনার জন্য সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন তাহলে মহসিনের স্বপ্ন পূরণ হবে।