সাকিব খুনে গ্রেপ্তার তিন

ছিনতাইয়ে বাধা দেওয়ায় ছুরিকাঘাতে হত্যা

রাজধানীর উত্তরখানে সাকিব হোসেন নামে এক যুবক খুনের ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব। গত সোমবার রাতে উত্তরখান থানার বাটুলিয়া এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে হত্যায় ব্যবহৃত চাকু উদ্ধার করা হয়। র‌্যাব বলছে, সাত-আটজনের একটি দল ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে সাকিব (২০) ও তার বন্ধু শিপনকে (১৯) ঘিরে ধরে। মোবাইল ফোন ও মানিব্যাগ ছিনিয়ে নিতে গেলে বাধা দেওয়ায় সুইচ গিয়ার চাকু দিয়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করে সটকে পড়ে। এ সময় ছিনতাইয়ে অংশ নেওয়া সবাই মাদকাসক্ত ছিল। গ্রেপ্তারকৃতরা হলো মূল হোতা শাহিন ওরফে ব্ল্যাক শাহিন (২৪), মো. মঞ্জুরুল ইসলাম ওরফে মিজু (২৪) ও ফরহাদ হোসেন (২৬)। তাদের বিরুদ্ধে আগেও ছিনতাই ও মাদকের মামলা ছিল বলে র‌্যাব জানায়।

গতকাল মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর কারওয়ানবাজারে র‌্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাব-১-এর অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. সারওয়ার-বিন-কাশেম বলেন, ছিনতাই চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকায় সক্রিয়। উত্তরখান এলাকায় ঘুরতে আসা লোকদের অস্ত্রের ভয়ভীতি দেখিয়ে টাকা-পয়সা, মোবাইল, স্বর্ণালঙ্কার ছিনতাই করে আসছিল। তাদের বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসা, অপহরণ, চাঁদাবাজি, যৌন হয়রানিসহ বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে।

গত ১৫ জুন রাজধানীর উত্তরখান থানার বাটুলিয়া এলাকায় তুরাগতীরে ঘুরতে যাওয়া সাকিবকে ছুরিকাঘাতে হত্যা এবং তার বন্ধু শিপনকে গুরুতরভাবে জখম করে ছিনতাইকারীরা। এ ঘটনার পরদিন উত্তরখান থানায় হত্যা মামলা করে সাকিবের পরিবার।

আসামিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে লে. কর্নেল সারওয়ার বলেন, তিন আসামি এবং জিয়া, তানভীর, রুবেল, মিঠু, সবুজসহ সাত-আটজন ঘটনাস্থলে ইয়াবা ও গাঁজা সেবন করছিল। এ সময় মিঠু ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যেই সবাইকে নিয়ে সাকিব-শিপনের কাছে গিয়ে ঝগড়ায় লিপ্ত হয়। বাগ্বিতণ্ডার একপর্যায়ে তারা মোবাইল ও টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। দুপক্ষের হাতাহাতি হলে রুবেল সুইচ গিয়ার চাকু বের করে। এ সময় শাহিন মিয়া রুবেলের কাছ থেকে চাকু নিয়ে সাকিব ও শিপনকে উপর্যুপরি আঘাত করে পালিয়ে যায়।

এদিকে সাকিবের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, তিনি উত্তরার ৭ নম্বর সেক্টরে ‘ফড়িং’ নামক পোশাক শোরুমের কর্মচারী ছিলেন। সাকিবের বাবা রফিকুল ইসলাম পেশায় রাজমিস্ত্রি। বার্ধক্য ও শারীরিক বিভিন্ন সমস্যার কারণে বর্তমানে তিনি বেকার। সাকিব ছিলেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ১০১ নম্বর ওয়ার্ডে চিকিধসাধীন আহত শিপন দেশ রূপান্তরকে বলেন, সাপ্তাহিক ছুটি থাকায় দুজন বিকেলে বাটুলিয়া তুরাগ নদেরপাড়ে ঘুরতে যান। সেখানে বসে মোবাইল ফোনে কথা বলার সময় এক যুবক হাত থেকে ফোন কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। বাধা দিতেই তার পিঠে ছুরি দিয়ে আঘাত করে। পরে আরও তিন-চারজন যুবক এসে সাকিবের পিঠেও ছুরি দিয়ে আঘাত করে।