তিতাস সেতুতে যান চলাচল বন্ধ, ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে দীর্ঘ যানজট

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলের শাহবাজপুরে তিতাস নদীর ওপর পুরোনো ক্ষতিগ্রস্ত সেতুর মেরামত কাজ শুরু হয়নি এখনো। বন্ধ রয়েছে এ সেতুর ওপর দিয়ে ভারী ও মাঝারি আকৃতির সকল প্রকার যানবাহন। এতে সেতুর দুই পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। সিলেটের সাথে সারা দেশের সড়ক যোগাযোগও বিঘ্নিত হচ্ছে।

জেলার সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী শামীম আল মামুন জানিয়েছেন, আমরা এখনো চাহিদা মাফিক বেইলি ব্রিজ পাইনি। পাওয়ামাত্র সংস্কার কাজ শুরু হবে। তাছাড়া ঢাকা থেকে বিশেষজ্ঞ দল আসার কথা রয়েছে। তাদের নির্দেশনা অনুসারেই কাজ হবে।

সেতুটির ফুটপাতসহ রেলিং ভেঙে পড়ায় মঙ্গলবার সন্ধ্যার পর থেকে সব ধরনের ভারী ও মাঝারি যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেয় সড়ক ও জনপদ বিভাগ (সওজ)। ওই দিন বিকেল সাড়ে ৫ টার দিকে সেতুর চতুর্থ স্পেনের ফুটপাতসহ রেলিং ভেঙে পড়ায় এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। পরবর্তী নির্দেশনা দেয়া না পর্যন্ত যানবাহনগুলোকে বিকল্প সড়ক হিসেবে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল-নাসিরনগর ও হবিগঞ্জের লাখাই-হবিগঞ্জ-শায়েস্তাগঞ্জ সড়ক ব্যবহার করার জন্য বলা হয়েছে।

যানবাহন চলাচল বন্ধ ঘোষণার পর সেতুর দুই পাশে শতশত গাড়ি বিশেষ করে মালবাহী ট্রাক আটকে পড়ে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। শাহবাজপুর সেতু বন্ধ হওয়ার পর থেকে বিকল্প সড়ক দিয়ে সিলেটমুখী যান চলাচল করছে। তবে সরাইল-নাসিরনগর এলাকায় সড়কটি মহাসড়কের মতো প্রশস্ত এবং বিপুল পরিমাণ যানবাহন চলাচলের উপযোগী না হওয়ায় মাঝে মাঝে যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। এমনকি প্রতিদিন চলাচলকারী যানবাহনগুলির চলাচলও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এ ছাড়া সরাইল-নাসিরনগরের ফাড়ি সড়ক দিয়ে মহাসড়কের দ্রুতগামী যানবাহন চলাচল করায় মারাত্মক দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।

তবে বিশ্বরোড খাটিহাতা হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ওসি হোসেন সরকার জানিয়েছেন, বিকল্প পথে গাড়ি চলাচলে কোন সমস্যা হচ্ছে না। আমরা সতর্ক দৃষ্টি রাখছি।

এদিকে সেতুর ওপর দিয়ে চলাচল বন্ধ ঘোষণার পাশাপাশি ওই দিনই বেইলি ব্রিজ সরবরাহ করার জন্য সড়ক বিভাগের প্রধান প্রকৌশলীর কাছে ‘অতীব জরুরি’ চিঠি পাঠিয়েছেন সড়কের কুমিল্লা জোনের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী। চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয় পুরোনো সেতুটির পাশেই নতুন একটি সেতু নির্মাণাধীন। যার কাজ ৮০ ভাগ শেষ হয়েছে। আগামী জুলাই মাসের শেষ সপ্তাহে নতুন সেতু যানবাহন চলাচলের জন্য খুলে দেয়া হবে।

তিতাস নদীর ওপর ১৯৬৩ সালে নির্মিত শাহবাজপুর সেতুর (পুরোনো) মাঝখানে বেইলি ব্রিজ বসিয়ে কোনো রকমে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখা হচ্ছে দীর্ঘদিন ধরে। মাঝে-মধ্যেই বেইলি ব্রিজে ওঠার সময় চাকা দেবে গিয়ে যানবাহন আটকে দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সওজ বিভাগ সেতুটিকে ঝুঁকিপূর্ণ উল্লেখ করে সেতুর দুই পাশে ১৫ টনের অধিক ওজনের যানবাহন চলাচল নিষেধ করে সাইনবোর্ড টানিয়েছে। তবে এই নির্দেশনা না মেনে প্রতিনিয়ত ১৫ টনের অধিক যানবাহন সেতু দিয়ে চলাচল করে। এ কারণে প্রায়ই সমস্যা সৃষ্টি হওয়ায় মহাসড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয়।