‘বারবার হেনস্তা করার কোনো মানে হয় না’

গ্রেপ্তার হওয়ার এক দিন পরই ছেড়ে দেওয়া হয়েছে মিশেল প্লাতিনিকে। কিন্তু ফ্রান্সের পুলিশদের কাছ থেকে যে আচরণ পেয়েছেন তাতে খুব মনঃক্ষুণœ-ব্যথিত হয়েছেন ফরাসি কিংবদন্তি। এক দিনের মধ্যেই পুলিশি হেফাজত থেকে ছাড়া পেয়ে সংবাদমাধ্যমে নিজের অভিব্যক্তিও জানান প্লাতিনি। কাতারকে অবৈধভাবে বিশ্বকাপ আয়োজনে সাহায্য করার অভিযোগে মঙ্গলবার গ্রেপ্তার হয়েছিলেন তিনি। তবে নতুন করে জিজ্ঞাসাবাদে কোনো তথ্য বের না হওয়ায় শাস্তির খড়গ আসেনি প্লাতিনির ওপর।

তবে তিনবারের সাবেক ব্যালন ডি’অরজয়ী প্লাতিনি নিজের প্রতি পুলিশদের আচরণের সমালোচনা করেছেন। ৬৩ বছর বয়সী সাবেক উয়েফা প্রেসিডেন্ট জানান, ‘ওরা আমাকে ডাকার সঙ্গে সঙ্গে স্বেচ্ছায় এখানে এসেছি। কিন্তু উপস্থিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ওরা আমাকে কাস্টডিতে নিয়ে যায় এবং জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে। এবং এটা ছিল বেশ দীর্ঘ, তারা বারবার এক বিষয়ে বিভিন্নভাবে জিজ্ঞাসা করছিল, যেটা অবশ্যই দুঃখজনক। একটু বিশ্রামের জন্য বিন্দুমাত্র সময় দেওয়া হয়নি আমাকে। ফুটবলকে আমি যা দিয়েছি সেসব চিন্তা করলে এটা খুবই হতাশার। আমি সবরকম গোপনীয় কাজের বাইরে। সবকিছু থেকে দূরে থেকেছি। এটা অনেক আগের ইস্যু, সবাই জানে, এ নিয়ে আমি বেশ কয়েকবার ব্যাখ্যা দিয়েছি, সব সংবাদপত্রেই আমি নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করেছি। তারপরও তদন্ত চলছে এবং তারা সত্যটা বের করতে পারছে না। এর মধ্যে আমাকে বারবার হেনস্থা করার কোনো মানে হয় না।’

২০০৭ থেকে ’১৫ পর্যন্ত উয়েফার প্রেসিডেন্ট ছিলেন প্লাতিনি। ফ্রান্স ম্যাগাজিনের সংবাদে জানা যায়, ২০১০-এ ফ্রান্সের এলিস প্যালেসে গোপন বৈঠক করেন কাতারের তখনকার প্রিন্স তামিম বিন হামাদ আল-থানি, প্লাতিনি ও সেপ ব্লাটারের পরামর্শক সারকোজি। তার সপ্তাহখানেকের মধ্যে কাতারকে ২০২২ বিশ্বকাপের আয়োজক ঘোষণা করা হয়। ওই সময়ে ব্লাটারের যোগ্য উত্তরসূরি ছিলেন প্লাতিনি। তারই ফিফার পরবর্তী প্রেসিডেন্ট হওয়ার কথা ছিল। ওই বৈঠক নিয়ে খবর বেরোয়, কাতারকে ভোট কিনে দেওয়ার ব্যাপারে ফিফার কাছ থেকে ২ মিলিয়ন ডলার নিয়েছিলেন। এছাড়া কাতারের কাছ থেকেও মোটা অঙ্কের অর্থ নেন প্লাতিনি। এসব অভিযোগে ২০১৫ থেকে ফুটবল থেকে চার বছরের জন্য নিষিদ্ধ করা হয় ফরাসি গ্রেটকে।