অনেক দিন পর টানছে নাটক

বছরের শুরুতেই নতুন নাটক মঞ্চে আনে থিয়েটার আর্ট ইউনিট। নাম ‘অনুদ্ধারণীয়’। বুদ্ধদেব বসুর গল্প থেকে নাট্যরূপ ও নির্দেশনা দিয়েছেন ড. মোহাম্মদ বারী। ১১ জানুয়ারি মঞ্চে আসে এটি। এ ছাড়া বছরের মাঝামাঝি সময়ে দলটি মঞ্চে আনে ‘সুতায় সুতায় হ্যানা ও শাপলা’ নামের আরেকটি নাটক। সম্প্রতি সুইডেনে মঞ্চায়িত হয়ে বাংলাদেশের জন্য গৌরব বয়ে এনেছে এ নাটকটি। আনিকা মাহিনের লেখা নাটকটি নির্দেশনা দিয়েছেন রোকেয়া রফিক বেবী। এ ছাড়া দেশের শিল্প-সাহিত্য অঙ্গনে তুমুল আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছে সৈয়দ জামিল আহমেদ নির্দেশিত নাটক ‘জীবন ও রাজনৈতিক বাস্তবতা’ এবং কামালউদ্দিন নীলু নির্দেশিত ‘স্তালিন’ নাটক দুটি। প্রখ্যাত সাহিত্যিক শহীদুল জহিরের মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস ‘জীবন ও রাজনৈতিক বাস্তবতা’ মঞ্চায়নের পরই ইতিহাস বিকৃতির অভিযোগ ওঠে। বঙ্গবন্ধুর সাধারণ ক্ষমার বিষয়টিকে নেতিবাচকভাবে তুলে ধরা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন কেউ কেউ। নির্দেশক জামিল আহমেদ জানান, উপন্যাসটিই হুবহু তিনি মঞ্চে তুলে ধরেছেন। যেখানে আশির দশকের গল্প দেখানো হয়েছে। নাটকটি মঞ্চে এনেছে প্রযোজনাভিত্তিক নাট্য সংগঠন ‘স্পর্ধা’। গত ১৪ মার্চ সন্ধ্যায় জাতীয় নাট্যশালায় নাটকটির উদ্বোধনী প্রদর্শনী হয়।

অন্যদিকে কামালউদ্দিন নীলুর নির্দেশনায় ‘স্তালিন’ নাটকটি মঞ্চে আসে গত ১০ জুন। পরদিন নাটকটির দ্বিতীয় প্রদর্শনী শেষে জাতীয় নাট্যশালার ভেতরে এর বিরুদ্ধে সেøাগান ওঠে। প্রতিবাদকারীরা ‘দুনিয়ার মজদুর এক হও’, ‘সাম্রাজ্যবাদের দালালেরা হুঁশিয়ার সাবধান’সহ নানা স্লোগান দেন। এ সময় নাটকটি বন্ধের দাবিও করেন তারা। নির্দেশক কামালউদ্দিন নীলু দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘যারা নাটকটি নিয়ে সমালোচনা করছে, ইতিহাস বিকৃতির অভিযোগ করছে; তারা সঠিক ইতিহাস তুলে ধরুক না। আমি বিষয়টি নিয়ে গবেষণা করেই নাটকটি করেছি।’ চলতি বছর আরও কিছু নতুন নাটক মঞ্চে প্রশংসিত হয়েছে। এর মধ্যে ফ্রান্স অ্যাম্বাসির প্রযোজনা এবং মণিপুরি থিয়েটার ও হৃৎমঞ্চের সহযোগিতায় গত ১ ফেব্রুয়ারি মঞ্চে আসে ‘হ্যাপি ডেইজ’। স্যামুয়েল বেকেটের লেখা এবং শুভাশিস সিনহার নির্দেশনায় নাটকটিতে একক অভিনয় করেছেন জ্যোতি সিনহা। মঞ্চ নির্মাণ করেছেন শাহনাজ জাহান। সহযোগিতায় আসফিকুর রহমান। আলোক প্রক্ষেপণে আসলাম অরণ্য। সংগীত প্রক্ষেপণে হুমায়ূন আজম রেওয়াজ। স্টেজ ম্যানেজার পারভেজ সরকার।

১৯ এপ্রিল নতুন নাট্যদল তাড়–য়া মঞ্চে এনেছে নাটক ‘লেট মি আউট’। রুনা কাঞ্চনের লেখা নাটকটি নির্দেশনা দিয়েছেন বাকার বকুল। মঞ্চ ও আলোক পরিকল্পনা আসলাম অরণ্য, সংগীত পরিকল্পনা রবিউল ইসলাম শশী ও ইসমাইল পাটোয়ারী। পোশাক পরিকল্পনা শাহনাজ জাহান। কোরিওগ্রাফি ফরহাদ শামীম। দ্রব্যসামগ্রী মো. শামিম শেখ। প্রযোজনা সমন্বয়ক ইসতিয়াক হোসাইন।

২৩ মার্চ নাট্যচক্র মঞ্চে আনে ‘একা এক নারী’। দেবপ্রসাদ দেবনাথের নির্দেশনায় নাটকটিতে একক অভিনয় করেছেন তনিমা হামিদ। দারিও ফো ও ফ্রাংকা রামের লেখা থেকে অনুবাদ করেছেন আবদুস সেলিম।

৩০ এপ্রিল লোক নাট্যদল মঞ্চে এনেছে নতুন নাটক ‘আমরা তিনজন’। বুদ্ধদেব বসুর গল্প অবলম্বনে নাটকটি নির্দেশনা দিয়েছেন লিয়াকত আলী লাকী।

১৬ এপ্রিল ঢাকা থিয়েটার মঞ্চে এনেছে ‘ফিয়ারলেস’। রুমা মোদকের লেখা নাটকটি নির্দেশনা দিয়েছেন সামিউন জাহান দোলা। ৫ মার্চ মহড়া থিয়েটার মঞ্চে এনেছে ‘বেহুলা আমি এবং সতীত্ব’। জাকির তালুকদারের ছোটগল্প ‘বেহুলার দ্বিতীয় বাসর’ অবলম্বনে নির্দেশনা দিয়েছেন মেহেদী তানজীর এবং একক অভিনয় করেছেন লাবণী আকতার।

জানা যায়, গত জানুয়ারি থেকে চলতি জুন পর্যন্ত দেশের নাট্যাঙ্গনে এসেছে ২০টিরও বেশি নতুন নাটক।