সহজ জয়ের অপেক্ষায় ভারত

ওয়ানডেতে এখন পর্যন্ত মাত্র দুবার দেখা হয়েছে আফগানিস্তান ও ভারতের। দুবারই এশিয়া কাপের লড়াইয়ে। এর মধ্যে একটি ম্যাচ টাই। ২০১৪ সালে অন্য ম্যাচটিতে ভারত ৮ উইকেটের বড় ব্যবধানে জিতেছিল। কিন্তু চার বছর পর ২০১৮ এশিয়া কাপে অন্য আফগানিস্তানের মুখোমুখি হয় বিরাট কোহলির দল। দুবাইয়ের ওই ম্যাচে দারুণ প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে ম্যাচ টাই করে আফগানিস্তান। এক বছরের ব্যবধানে উল্টো চিত্র। চলতি বিশ্বকাপের ম্যাচে তৃতীয়বারের মতো মুখোমুখি হচ্ছে দুই দল। কিন্তু এবার দু’দলের অবস্থান দুই প্রান্তে। মাঠে গড়ানো তিন ম্যাচের তিনটিতেই জিতে আসরের ফেভারিটরা সেমিফাইনালের সুবাস পাচ্ছে। আর আফগানিস্তান টানা পাঁচ ম্যাচ হেরে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায়ের ক্ষণ গুনছে। ২০১৮ ফিরিয়ে আনার কোনো লক্ষণ নেই আফগানিস্তানের। তাই এই দলটির বিপক্ষে সহজ জয়ের জন্যই মাঠে নামছে ভারত।

তালিকার তলানিতে থাকা আফগানদের নিয়ে চিন্তার কিছু নেই ভারতের। বরং তাদের চিন্তা বৃষ্টি ও ইনজুরি। গতকাল পর্যন্ত ভেন্যু সাউদাম্পটনের রোজ বোলে বৃষ্টি হয়েছে। আবহাওয়া পূর্বাভাস অবশ্য আজ বৃষ্টির ভবিষ্যদ্বাণী করেনি। কিন্তু প্রকৃতির ওপর তো আর পূর্বানুমান করা যায় না। তাই পয়েন্ট হারানোর ক্ষতি যেন না হয় সেই প্রার্থনা করছেন কোহলিরা। তাদের দ্বিতীয় চিন্তা ইনজুরি, এরই মধ্যে শিখর ধাওয়ানকে বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে পড়তে হয়েছে। গত ম্যাচে পাকিস্তানের সঙ্গে ইনজুরির কারণে মূল পেসারদের একজন ভুবনেশ্বর কুমারও দলের বাইরে। আজ তার না খেলার সম্ভাবনাই বেশি। এছাড়া গত ম্যাচে একাদশে সুযোগ পাওয়া বিজয় শঙ্করও পায়ে চোট পেয়েছেন। নেটে ব্যাটিংয়ের সময় জাসপ্রিত বুমরাহর ইয়র্কারে পায়ে ব্যথা পান এই অলরাউন্ডার। আজ খেলবেন কি না তা নিশ্চিত নয়। সব মিলিয়ে ভারতের দারুণ উইনিং কম্বিনেশন ভেঙে চৌচির। তাই একাদশ সাজানোই এখন দলটির চিন্তা। ধাওয়ানের অনুপস্থিতিতে ভারত থেকেই উড়িয়ে আনা হয়েছে ঋষভ পান্তকে। বিশ্বকাপের রিজার্ভ বেঞ্চে থাকা পান্ত আজ একাদশেই সুযোগ পেয়ে যেতে পারেন। ভুবনেশ্বরের জায়গায় বিশ্বকাপে প্রথম ম্যাচ খেলতে পারেন মোহাম্মদ শামি।

আফগানিস্তানের জন্য ভারতের বিপক্ষে একটাই ভরসা। সেই ২০১৮ এশিয়া কাপের ম্যাচ। যে ম্যাচে আগে ব্যাট করে তারা ৮ উইকেটে ২৫২ রান তুলেছিল। লক্ষ্য তাড়া করতে নামা ভারতকে সফলভাবে ওই রানেই আটকে দেন রশিদ খানরা। ওই রানের মধ্যেই ভারতের ১০ উইকেট তুলে নিয়ে জয়ের সমান টাই পায় তারা। অবশ্যই সেই ম্যাচের আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে এনেও খুব একটা লাভ হবে না আফগানদের। দলীয় বিভক্তি থেকে শুরু করে বোর্ডের সঙ্গে দ্বন্দ্বে বিশ্বকাপ গুবলেট হয়ে গেছে তাদের। সেরা বোলার রশিদ খানও ছন্দ হারিয়ে ফেলেছেন। আসরে অঘটন ঘটানোর স্বপ্ন নিয়ে আসা দলটি এখন মাথা উঁচু করে বিদায়ের সুযোগ খুঁজছে।