শপিং মলে লেখিকাকে ধর্ষণ করেন ট্রাম্প

যৌন কেলেঙ্কারি বিষয়ক আলোচনায় বহুবার তিনি শিরোনাম হয়েছেন। এবার তার বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন ই জিন ক্যারল নামে নিউইয়র্কের এক লেখিকা।

নিজের লেখা একটি বইয়ে ক্যারলের দাবি, দু’দশক আগে একটি শপিং মলের ড্রেসিং রুমে প্রায় তিন মিনিট ধরে তার শ্লীলতাহানি করেন ট্রাম্প। ওই বই প্রকাশের পর একটি ম্যাগাজিনের সাক্ষাৎকারে ফের সেই কাহিনির বর্ণনা দিয়েছেন তিনি।

এসব অভিযোগ অবশ্য ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। বাজারে নিজের বইয়ের চাহিদা বাড়ানোর জন্যই ওই মহিলা মিথ্যে কাহিনি রটাচ্ছেন বলেও দাবি ট্রাম্পের।

মূলত মহিলাদের স্বার্থরক্ষায় এবং নারী অধিকার নিয়ে মার্কিন পত্র-পত্রিকায় লেখালেখির জন্য জনপ্রিয় ক্যারল। নারী ক্ষমতায়ন নিয়ে তার অনেক লেখা বিভিন্ন সময়ে সমাদৃত হয়েছে।

ঠিক কী হয়েছিল সেদিন? ক্যারলের দাবি অনুযায়ী, ঘটনাটি ১৯৯৫ সালের শেষের দিকে বা পরের বছরের শুরুর দিকের। ঘটনার দিন সন্ধ্যায় ওই শপিং মলে একটি টিভি শোয়ের সঞ্চালনা করছিলেন তিনি। শো শেষ হওয়ার পর শপিং মল বন্ধ হওয়ার মুখে তিনি ট্রাম্পের কাছে যেতেই ট্রাম্প তাকে চিনতে পারেন। তাকে বলেন, ‘আপনি তো সেই উপদেশ দেওয়া মহিলা।’

ক্যারলের দাবি, কোনও এক মহিলার জন্য উপহার কিনতে তাকে সাহায্য করার আর্জি জানান ট্রাম্প। তার পর ক্যারল সেই মহিলার বয়স জিজ্ঞেস করেন। ট্রাম্প সেটা না জানিয়ে বরং ক্যারলের বয়স জিজ্ঞেস করেন। ক্যারল নিজের বয়স ৫২ বছর বলার পর ট্রাম্প তাকে বলেন, ‘আপনি অনেকটাই বয়স্ক।’ সেই সময় ট্রাম্পের বয়স ছিল ৪৯ বছর।

ক্যারলের বক্তব্য, ‘ট্রাম্প তখন একটি টুপি কেনেন এবং উপহার কেনার নাম করে মলের উপরের তলায় একটি অন্তর্বাসের দোকানে নিয়ে যান। সেই সময় যেহেতু শপিং মল বন্ধ হচ্ছিল, তাই ওই এলাকায় কোনও লোকজন ছিল না। ট্রাম্প সেই সময় কয়েকটি অন্তর্বাস ও একটি স্বচ্ছ গাউন নেন এবং আমাকে পরতে বলেন।’

তার শরীরের সঙ্গে পোশাক মানানসই বলেও ট্রাম্প মন্তব্য করেন বলে দাবি ক্যারলের। লেখিকার দাবি, পাল্টা ট্রাম্পকেই সেগুলো পরতে বলেন তিনি।

ক্যারলের দাবি অনুযায়ী, এর পরই শুরু হয় তার অগ্নিপরীক্ষা। একটি ড্রেসিং রুমের কাছে যেতেই ট্রাম্প তাকে দেওয়ালের সঙ্গে চেপে ধরেন। সেখানেই তাকে চুমু খান। তার পর জোর করে তার অন্তর্বাস খুলে যৌনাঙ্গে হাত দেন। এর পর নিজের প্যান্টের চেনও খুলে ফেলেন। এভাবে মিনিট তিনেক অতিবাহিত হওয়ার পর তিনি রক্ষা পান। কোনও রকমে ধাক্কা দিয়ে ট্রাম্পকে সরিয়ে দিয়ে দৌড়ে পালিয়ে যান তিনি।

কিন্তু এত দিন কেন সেই ঘটনা সামনে আনেননি ক্যারল? এমনকি, ২০১৬-১৭ সালে যখন মার্কিন মুলুকে #মিটু আন্দোলনের ঝড় উঠেছিল, তখনও সামনে আসেননি কেন? লেখিকার দাবি, ‘তার জন্য আমি নিজেকে দোষারোপ করেছি, আমি নীরব ছিলাম এবং আমি ভেতরে ভেতরে পাপবোধ করেছি।’

নিজের অভিযোগের প্রমাণ হিসেবে সেই সময় দুই বন্ধুর কাছে ঘটনার বিবরণ দিয়েছিলেন বলেও দাবি করেছেন ক্যারল। ওয়াশিংটন পোস্টের পক্ষ থেকে সেই দুই বান্ধবীর এক জনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছিল। তিনিও স্বীকার করেছেন যে, ক্যারল সেই সময় তাকে ঘটনার কথা বলেছিলেন।