নৈরাজ্যকর একটি সপ্তাহ ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে যায় যুক্তরাষ্ট্রকে। এ সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পররাষ্ট্রনীতির মূলে অসঙ্গতিগুলো ধরা পড়েছে। এই অসংলগ্নতা মধ্যপ্রাচ্যের ক্ষেত্রে নয়, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ক্ষেত্রেই সত্য। দ্য ওয়াশিংটন পোস্টের এক বিশ্লেষণে এসব কথা বলা হয়েছে।
এতে বলা হয়, জনসমক্ষে শক্ত-সামর্থ্য হিসেবে হাজির হতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ট্রাম্প। সমস্যাটা হলো প্রেসিডেন্টের নীতিগুলোর লক্ষ্য, তার কাক্সিক্ষত ফল কখনোই স্পষ্ট ছিল না। সংশয় শুধু যুক্তরাষ্ট্রের শত্রু ইরান, উত্তর কোরিয়া কিংবা ভেনেজুয়েলার ক্ষেত্রে নয়, ইউরোপ ও এশিয়ায় দেশটির মিত্রদের বেলায়ও একই অবস্থা। মার্কিন প্রেসিডেন্টের দপ্তর হোয়াইট হাউজের সিচুয়েশন রুমে ট্রাম্প প্রশাসনের জ্যেষ্ঠ ও প্রেসিডেন্টের নীতিগুলোকে সফল করার দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তারাও দৃশ্যত কমান্ডার ইন চিফকে সন্তুষ্ট করা নিয়ে সংশয়ে থাকেন। এর নিট ফল হলো, দুই বছরের বেশি সময় ধরে ক্ষমতায় থাকা প্রেসিডেন্ট পররাষ্ট্রনীতির সংকট সৃষ্টিতে পারদর্শী হলেও সেগুলো নিরসনে তিনি দৃশ্যত অক্ষম। ট্রাম্পের এই সংশয় ইরান নীতির মতো কোনো ক্ষেত্রে এত স্পষ্ট বা মারাত্মক হয়নি।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও গত বছর ইরানের ওপর থেকে কঠিনতম কয়েকটি অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে বেশ কিছু ‘মৌলিক শর্ত’ দেন। এর মধ্যে রয়েছে আঞ্চলিক মিলিশিয়া ও সন্ত্রাসীদের প্রতি ইরানের সমর্থন বন্ধ করা, প্রতিবেশীদের সঙ্গে শান্তি বজায় রাখা ও একটি দেশকে পর্যবেক্ষক বানানো, যাতে করে ইরান কখনো পারমাণবিক অস্ত্র বানাতে না পারে। ট্রাম্পের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জন বোল্টন ইরানে শাসনব্যবস্থা বদলাতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। অন্যদিকে ট্রাম্পের ইঙ্গিত, ইরানের সঙ্গে ২০১৫ সালে পূর্বসূরি বারাক ওবামার করা পরমাণু চুক্তি নিয়ে ফের দরকষাকষির মধ্যে লক্ষ্য সীমাবদ্ধ রেখেছেন তিনি।
এ বিষয়ে সাবেক প্রেসিডেন্ট ওবামা ও জর্জ হার্বার্ট ওয়াকার বুশের সাবেক উপদেষ্টা ও মধ্যপ্রাচ্য বিশেষজ্ঞ ডেনিস রস বলেন, “যতক্ষণ পর্যন্ত ট্রাম্প বলতে পারেন ‘আমি ওবামার চেয়ে ভালো করেছি’, আমি মনে করি ততক্ষণ পর্যন্ত তিনি এ নিয়েই থাকবেন।”
সমর্থকরা মারাত্মক পর্যায়ের দ্ব্যর্থবোধকতার প্রতি ট্রাম্পের সহনশীলতাকে তার দরকষাকষির প্রতিভার গুরুত্বপূর্ণ অংশ মনে করেন। এ বিষয়ে পররাষ্ট্র নীতিবিষয়ক রক্ষণশীলঘেঁষা প্রতিষ্ঠান ফাউন্ডেশন ফর ডিফেন্স অব ডেমোক্রেসিসের প্রধান নির্বাহী মার্ক ডুবোউইৎজ বলেন, ‘সর্বোচ্চ দাবি নিয়ে ও কক্ষের সবচেয়ে খ্যাপাটে লোক হিসেবে জাহির হয়ে ট্রাম্প দরকষাকষি করেন; এরপর তিনি দৃশ্যত গ্রহণযোগ্য একটি চুক্তি করেন এবং একে এ যাবতকালের সবচেয়ে ভালো চুক্তিতে রূপ দেন।’
প্রশ্নটা হলো, এ ধরনের অনিশ্চিত পন্থা অর্থনৈতিকভাবে কোণঠাসা অবস্থায় থাকা ইরানকে আলোচনার টেবিলে বসাতে পারবে নাকি তাদের বর্তমান অবস্থা যুক্তরাষ্ট্রকে যুদ্ধের কাছাকাছি ঠেলে দেবে। এ বিষয়ে ওবামা আমলে ইরানের সঙ্গে গোপন সমঝোতায় অংশ নেওয়া জেক সুলিভান বলেন, ‘আপনার লক্ষ্য কেউ না জানলে এবং আপনার কোনো লক্ষ্য আছে, এমনটা কেউ বিশ্বাস না করলে কোনো ফায়দা নেই। এমন যুক্তি থাকতে হবে যা আপনার প্রতিপক্ষ বুঝতে পারে। আপনি তাদের কিছু না দিলে আপনার চাওয়া অনুযায়ী তাদের দেওয়ার কোনো উপায় নেই।’