উফ, একটা ম্যাচ দেখলাম বটে। আমি কেন, বোধহয় আমার সঙ্গে কমেন্ট্রি বক্সে বসা একজন ধারাভাষ্যকারও ভাবতে পারেনি ২৩৩ তুলে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে জিতে যাবে শ্রীলঙ্কা। চল্লিশ ছুঁই ছুঁই লাসিথ মালিঙ্গা একা শেষ করে দেবে ইংল্যান্ডকে। নিঃসন্দেহে এটাই বিশ্বকাপের এখনো পর্যন্ত সেরা ম্যাচ। সেরা অঘটনের ম্যাচও বটে। এতদিন পর্যন্ত একটা সেট প্যাটার্ন ধরে এগোচ্ছিল বিশ্বকাপ। সবাই বুঝতেই পারছিল, সেমিফাইনালে কোন চারটে টিম খেলবে। ভারত, অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড, নিউজিল্যান্ড। কিন্তু শুক্রবারের পর কেউ বলতে পারবে অস্ট্রেলিয়া ছাড়া বাকিদের সেমিফাইনাল যাওয়া কনফার্মড? কে বলতে পারে শ্রীলঙ্কা বা বাংলাদেশ এরপর সেমিফাইনালে চলে যাবে না আর ইংল্যান্ডকে ছিটকে যেতে হবে? মনে রাখবেন, যা চলছে তাতে ১০ পয়েন্ট না পেলে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করা খুব কঠিন। ইংল্যান্ড সেখানে ৬ ম্যাচে চারটেতে জিতেছে। পয়েন্ট ৮। কিন্তু ওদের
বাকি তিনটি ম্যাচ টুর্নামেন্টের সেরা তিনটি দলের সঙ্গে অস্ট্রেলিয়া, ভারত, নিউজিল্যান্ড। পরিষ্কার বলছি, লাসিথ মালিঙ্গা শুধু শ্রীলঙ্কাকে এদিন সেমিফাইনাল দৌড়ে এনে ফেলেনি। একই সঙ্গে বাংলাদেশকেও দৌড়ে এনে ফেলেছে। বাংলাদেশের শেষ তিনটি ম্যাচ আফগানিস্তান, ভারত ও পাকিস্তানের বিরুদ্ধে। পাকিস্তান আর আফগানিস্তান ম্যাচ জেতা উচিত বাংলাদেশের। তারপর যদি বাংলাদেশ কোনোভাবে ভারতকে হারিয়ে দ্বিতীয় অঘটন ঘটিয়ে দেয়, তখন? বাংলাদেশের কিছুটা হাতে চলে এলো ব্যাপারটা। ইংল্যান্ড বনাম শ্রীলঙ্কা ম্যাচটা দুটো জিনিস ঘটিয়ে গেল। বিশ্বকাপটাকে পুরো খুলে দিয়ে গেল। তীব্র জমিয়ে দিল। আর একই সঙ্গে ইংল্যান্ড নিয়ে বাকি টিমগুলোর মন থেকে ভয়টাকে বার করে দিল। সবাই এতদিন বলছিল, ইংল্যান্ডের ব্যাটিং বিশ্বকাপের সেরা। সেই ইংল্যান্ড-ব্যাটিং কিন্তু দু’বার রান তাড়া করতে গিয়ে ব্যর্থ হলো। পাকিস্তানের পর এবার শ্রীলঙ্কার সঙ্গে। কলকাতার সংবাদ প্রতিদিনে প্রকাশিত কলাম থেকে নেওয়া