তিন বছরে লক্ষ্য ৩৩ হাজার সরকারি ফ্ল্যাট

রাজধানীতে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য আবাসনব্যবস্থা বাড়াতে বেশ কয়েকটি প্রকল্প হাতে নিয়েছে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়। এরই মধ্যে কয়েকটি এলাকায় ২৫টি প্রকল্পে বহুতল ভবন নির্মাণের মাধ্যমে ৯ হাজার ১৯০টি আবাসিক ফ্ল্যাট বরাদ্দও দেওয়া হয়েছে। হাতে নেওয়া হয়েছে আরও ১০ হাজার ৬৭৪টি ফ্ল্যাট নির্মাণের প্রকল্প। সব মিলিয়ে ২০২২ সালের মধ্যে তাদের আবাসন চাহিদার ২২ দশমিক ১০ শতাংশ পূরণ হবে; যা গত কয়েক বছর আগেও ছিল মাত্র ৮ শতাংশ। এ ছাড়া সরকারের সিনিয়র সচিব, সচিব ও গ্রেড-১ কর্মকর্তাদের জন্য রাজধানীর ইস্কাটনে প্রায় সাড়ে ৩ হাজার বর্গফুট আয়তনের ১১৪টি অত্যাধুনিক ফ্ল্যাট বরাদ্দের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে; যা আগামী মাসের মাঝামাঝিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্বোধন করার কথা রয়েছে।

এ বিষয়ে গৃহায়ন ও গণপূর্ত সচিব মো. শহীদ উল্লা খন্দকার দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনামতে মানুষের অন্যতম মৌলিক চাহিদা বাসস্থান নির্মাণে কাজ করে যাচ্ছি। সেখানে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী ছাড়াও সাধারণ মানুষের মধ্যে বিপুল পরিমাণ প্লট ও ফ্ল্যাট যথাযথ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দেওয়া হয়েছে। আর সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য ঢাকায় এ পর্যন্ত যেসব প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়েছে তা থেকে প্রায় ১০ হাজার ফ্ল্যাট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। আরও যেসব প্রকল্প হাতে আছে, সেখানেও প্রায় সাড়ে ১০ হাজার ফ্ল্যাট নির্মাণ করা হবে। সব মিলিয়ে আমরা মোট চাহিদার ২২-২৩ শতাংশ পূরণ করতে পারব খুব শিগগির। তবে আমাদের মূল টার্গেট হলো ৮ থেকে ৪০ শতাংশে উন্নীত করা।’

গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, রাজধানী ঢাকায় ১ লাখ ৪৮ হাজার ৯১৫ জন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী বসবাস করেন। তাদের মধ্যে বেশির ভাগই সরকারি আবাসনের সুবিধা পাচ্ছেন না। ২০১৪ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় পরিদর্শনে গিয়ে দেখেন চাহিদার মাত্র ৮ শতাংশ সরকারি বাসার সুবিধা রয়েছে। এরপর তা বাড়িয়ে ৪০ শতাংশ নিশ্চিত করতে অনুশাসন দেন তিনি। এরপর থেকে গত কয়েক বছরে বেশ কয়েকটি প্রকল্পের মাধ্যমে আবাসনের ব্যবস্থা করা হয়। কিন্তু ৪০ শতাংশ আবাসনব্যবস্থা নিশ্চিত করতে ফ্ল্যাট প্রয়োজন আরও ৫৯ হাজার ৫৬৬টি। ২০২২ সালের জুন পর্যন্ত হাতে নেওয়া প্রকল্পগুলো শেষ হলে ফ্ল্যাট সংখ্যা দাঁড়াবে ৩২ হাজার ৯১৬টি। সেই হিসাবে আরও ২৬ হাজার ৬৫০টি ফ্ল্যাট নির্মাণ করতে হবে।

আবাসন অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, মোট চাহিদার ৮ শতাংশ আবাসন সুবিধা থাকায় প্রতিনিয়ত তাদের ব্যাপক চাপ সহ্য করতে হয়েছে। ৮ শতাংশ হিসাবে ফ্ল্যাট ছিল ১৩ হাজার ৫২টি। এরপর ২০১৮ সালের জুনে সমাপ্ত হওয়া চারটি প্রকল্পে নতুন করে যোগ হয়েছে ১ হাজার ৫১২টি ফ্ল্যাট। আর ২০২০ সালের জুন পর্যন্ত চলমান ২১টি প্রকল্পে যোগ হবে ৭ হাজার ৬৭৮টি ফ্ল্যাট। এ ছাড়া ২০২২ সালের জুন পর্যন্ত হাতে নেওয়া ১৩টি প্রকল্পে সরকারি আবাসনের খাতায় যোগ হবে আরও ১০ হাজার ৬৭৪টি ফ্ল্যাট। সব মিলিয়ে চাহিদার ২২ দশমিক ১০ শতাংশ পূরণ করা সম্ভব হবে।

ইস্কাটনে প্রস্তুত ‘সুপিরিয়র’ ফ্ল্যাট : রাজধানীর ইস্কাটনে সিনিয়র সচিব, সচিব ও গ্রেড-১ কর্মকর্তাদের জন্য অত্যাধুনিক ফ্ল্যাট নির্মাণ করেছে সরকার। সবকিছু ঠিক থাকলে সরকারি এ অত্যাধুনিক ফ্ল্যাট প্রকল্পটি আগামী মাসের মাঝামাঝিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্বোধন করার কথা রয়েছে।

জানতে চাইলে প্রকল্প পরিচালক গণপূর্ত অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী এ কে এম সোহরাওয়ার্দী দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘সুপিরিয়র ক্যাটাগরির এ ফ্ল্যাটগুলো নির্মিত হয়েছে আধুনিক পরিকল্পনায়। নির্ধারিত সময়ের আগেই এ প্রকল্পের কাজ শেষ হয়েছে। আশা করছি, আগামী মাসের মাঝামাঝি শেষ মুহূর্তের কাজগুলোও সমাপ্ত হবে। যদিও প্রকল্পের মেয়াদ ছিল ২০১৯ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত।’

গণপূর্ত অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, ২০১৬ সালের জানুয়ারিতে ‘ঢাকার ইস্কাটনে সিনিয়র সচিব, সচিব ও গ্রেড-১ কর্মকর্তাদের জন্য আবাসিক ফ্ল্যাট নির্মাণ’ প্রকল্প হাতে নেয় গণপূর্ত অধিদপ্তর। এই প্রকল্পের মোট ব্যয় ধরা হয় ৩১৩ কোটি টাকা। ২০তলাবিশিষ্ট ৩টি ভবনে নির্মাণ করা হয়েছে ১১৪টি অত্যাধুনিক ফ্ল্যাট; যার প্রতিটির আয়তন ৩ হাজার ৪৮৯ বর্গফুট। ৩টি ভবনেই বসবাসকারীদের জন্য রয়েছে ফিটনেস সেন্টার ও কমিউনিটি ভবন। সাঁতার কাটার জন্য সুইমিংপুল, নিজস্ব বিদ্যুৎ সাবস্টেশন, বিশুদ্ধ পানির জন্য গভীর নলকূপ, নিজস্ব স্যুয়ারেজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট (এসটিপি) ও সোলার প্যানেলের ব্যবস্থাও থাকছে। ‘সুপিরিয়র ক্যাটারির’ এই ভবনগুলো নির্মাণ করেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ন্যাশনাল ডেভেলপারস ইঞ্জিনিয়ার্স, কুশলী নির্মাতা লিমিটেড, পদ্মা ও জামাল কনস্ট্রাাকশন লিমিটেড।