জামায়াত নেতার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করে ছাত্রলীগের ব্যানার !

জামায়াতে ইসলামীর এক নেতার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করে এলাকায় ব্যানার টানিয়েছে সাতকানিয়া উপজেলা ছাত্রলীগ। জামায়াতের কর্ম পরিষদ সদস্য মুমিনুল হক চৌধুরীর মৃত্যুতে আব্দুল মান্নান নামে এক ছাত্রলীগ নেতা শোক প্রকাশ করে এই ব্যানার টানান বলে জানা গেছে।

জামায়াত নেতার মৃত্যুতে ছাত্রলীগের ব্যানার টানিয়ে শোক প্রকাশের ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সমালোচনার সৃষ্টি হয়। উল্লেখ্য, মুমিনুল হক চৌধুরী একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধকালে রাজাকার ছিলেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে ছাত্রলীগের অনেক নেতা-কর্মী।

ব্যানারে উল্লেখ করা হয়, সাতকানিয়া-লোহাগাড়ার সংসদ সদস্য প্রফেসর ড. আবু রেজা মুহাম্মদ নেজাম উদ্দিন নদভী এমপি মহোদয়ের শ্বশুর ও রিজিয়া রেজা চৌধুরীর শ্রদ্ধেয় পিতা আলহাজ মাওলানা মুমিনুল হক চৌধুরীর মৃত্যুতে আমরা গভীরভাবে শোকাহত। আমরা মরহুমের রুহের আত্মার মাগফিরাত কামনা ও শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি।

ব্যানারের নিচের অংশে লেখা হয় শোকার্তে আব্দুল মান্নান, সভাপতি, সাতকানিয়া উপজেলা ছাত্রলীগ।

মুমিনুল সাতকানিয়া-লোহাগাড়া আসনের সংসদ সদস্য আবু রেজা মুহাম্মদ নেজাম উদ্দিন নদভীর শ্বশুর। শুক্রবার রাতে চট্টগ্রাম নগরীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি।

শনিবার বাদ জোহর চট্টগ্রাম কলেজ মাঠে (প্যারেড ময়দানে) তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় চট্টগ্রাম কলেজ ছাত্রলীগ ও জানাজায় অংশ নেওয়া নেতাকর্মীদের মাঝে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

একজন রাজাকারের মৃত্যুতে কেন শোক প্রকাশ করেছেন−জানতে চাইলে আব্দুল মান্নান বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। পাল্টা প্রশ্ন করে তিনি জানান, ব্যানারগুলো কি তার ফেসবুক প্রোফাইলে দেখা গেছে?

এ বিষয়ে জানতে চাইলে পরে কল করবেন বলে কেটে দেন। এরপর একাধিকবার তার মোবাইলে কল করা হলে তিনি কল রিসিভ করেননি।

ব্যানারে আব্দুল মান্নান নিজেকে সাতকানিয়া উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি দাবি করেছেন। তবে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগ নেতারা জানিয়েছেন, বর্তমানে সাতকানিয়ায় ছাত্রলীগের কোনও কমিটি নেই। কয়েক মাস আগে ওই উপজেলা ছাত্রলীগের কমিটি বিলুপ্ত করা হয়েছে।