আরব বিশ্বের বিভিন্ন দেশে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব পোষণকারী মানুষের সংখ্যা কমেছে। বিপরীতে বাড়ছে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিনের প্রতি ইতিবাচক মনোভাব পোষণকারীর সংখ্যা। এই অঞ্চলের মানুষের বড় একটি অংশ যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী সহিংসতাকে যৌক্তিক মনে করে। আরবি ভাষাভাষী ১১টি দেশের ২৫ হাজারের বেশি মানুষের ওপর পরিচালিত এক জরিপে এসব তথ্য উঠে এসেছে।
বিবিসি’র আরবি সংস্করণ ও প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয়ভিত্তিক গবেষণা নেটওয়ার্ক আরব ব্যারোমিটার যৌথভাবে জরিপটি পরিচালনা করেছে। আলজেরিয়া, মিসর, ইরাক, জর্ডান, লেবানন, লিবিয়া, মরক্কো, ফিলিস্তিন, সুদান, তিউনিসিয়া ও ইয়েমেনের নাগরিকেরা এতে অংশ নেন। বহুনির্বাচনী প্রশ্নোত্তরের ভিত্তিতে করা এই জরিপে আরবি ভাষাভাষী মানুষদের মনোভাবের বিষয়ে বেশ কিছু তাৎপর্যপূর্ণ তথ্য উঠে এসেছে।
আরব বিশ্বের মাত্র ১২ শতাংশ মানুষ যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব পোষণ করেন। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিনের ক্ষেত্রে এই সংখ্যা দ্বিগুণেরও বেশি (২৮ শতাংশ)। এই অঞ্চলের ৫১ শতাংশ মানুষ তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের প্রতি ইতিবাচক মনোভাব পোষণ করেন।
আরব ব্যারোমিটারের পরিচালক মাইকেল রবিনস বলেন, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, জরিপ পরিচালিত দেশগুলোর বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশ মনে করেন সরকার নাগরিকদের প্রত্যাশা পূরণ করছে না। তিনি বলেন, ‘সরকারের প্রতি আস্থা বিবেচনার ক্ষেত্রে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে নিরাপত্তা প্রদানের চেয়ে অর্থনৈতিক ইস্যু আগে বিবেচনা করা হচ্ছে।’
গবেষণা সংস্থার জরিপে আরও বলা হয়, এই বিশাল অঞ্চলে নারীর অধিকারের প্রশ্নে ভিন্নধর্মী চেতনা কাজ করে। তাদের মতে, একমাত্র প্রধানমন্ত্রী ও প্রেসিডেন্ট হওয়ার ক্ষেত্রে নারী অধিকার নিশ্চিত করা ঠিক নয়। ব্যতিক্রম হিসেবে আলজেরিয়ার ৫০ শতাংশ মানুষ মনে করে দেশের প্রধান হিসেবে নারী নেতৃত্ব গ্রহণযোগ্য। কিন্তু গৃহস্থালি ক্ষেত্রে অধিকাংশ আরব নারীই বিশ্বাস করে, পরিবারের যেকোনো সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে পুরুষের বক্তব্যই চূড়ান্ত।
মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকার দেশগুলোতে নিরাপত্তা বিষয়টি অধিক গুরুত্ব পায়। তাদের জাতীয় নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার প্রতি হুমকি হিসেবে কোন দেশকে মনে করা হয় এমন প্রশ্নের উত্তরে প্রথমেই আসে ইসরায়েলের নাম। এরপর যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানকে হুমকি হিসেবে মনে করেন তারা।