প্রেমিকার সঙ্গে দৈহিক মেলামেশা করে মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করেন এক এনজিও কর্মকর্তা। এখন বিয়ের দাবিতে প্রেমিকা প্রেমিকের বাড়িতে অবস্থান নিলে গা-ঢাকা দিয়েছে পরিবারসহ প্রতারক প্রেমিক।
এদিকে প্রেমিকের বাবা অসুস্থ হওয়ার ভান করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। বাড়ির প্রধান ফটকে ঝুলছে তালা। দেড়দিন অতিবাহিত হলেও কোনো সুরাহা হয়নি।
জানা গেছে, রংপুর সদর উপজেলার দক্ষিণ মমিনপুর বানিয়াপাড়ার কলেজ পড়ুয়া (১৬) ছাত্রীর সঙ্গে মমিনপুর মন্ডলপাড়া এলাকার মোসাদ্দেক আলীর ছেলে এনজিও কর্মকর্তা মুরাদ আল বাঁধন প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন।
উভয়ের মন দেওয়া-নেওয়ার সুবাদে বাঁধন বিভিন্ন সময়ে বিনোদন কেন্দ্রসহ তার বন্ধু-বান্ধব, কর্মস্থলে স্ত্রীর পরিচয় দিয়ে কলেজছাত্রীকে নিয়ে বেড়াতে যেতেন। তাকে স্ত্রী পরিচয়ে পীরগাছায় বাঁধনের কর্মস্থলের কাছে ভাড়া বাসায়ও নিয়ে যান।
সেখানে তার সঙ্গে দৈহিক সম্পর্কের ভিডিও মোবাইল ফোনে ধারণ করেন বাঁধন। পরবর্তীতে বিষয়টি যাতে তিনি কাউকে না জানান এবং বেশ কয়েকবার ওই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখান। এভাবে ব্ল্যাকমেল করে ওই কলেজছাত্রীর সঙ্গে গত দুই বছর বিভিন্ন সময়ে দৈহিক সম্পর্কে জড়ান বাঁধন।
সম্প্রতি বিয়ের চাপ দিলে বাঁধন তার পরিবারের কাছে প্রস্তাব পাঠাতে বলেন প্রেমিকাকে। এরই প্রেক্ষিতে তার পরিবারের লোকজন বাঁধনের পরিবারের কাছে বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে যায়। কিন্তু বাধ সাধে মেয়ের পরিবারের দারিদ্র্য। তার সঙ্গে ছেলের বিয়ে দিতে অস্বীকৃতি জানায় বাঁধনের পরিবার।
এদিকে বিয়ের দাবিতে গত রবিবার সকাল ১১টার দিকে প্রেমিকের বাড়িতে ওঠে প্রেমিকা। এসময় বাঁধন সুযোগ বুঝে বাড়ি থেকে পালিয়ে যান। আর পরিবারের সদস্যরা ওই কলেজছাত্রীকে মারধর করে। মারধর সত্ত্বেও অবস্থান চালিয়ে যান প্রেমিকা।
এ অবস্থা দেখে বাঁধনের বাবা মোসাদ্দেক আলী ‘অসুস্থ’ হয়ে পড়েন বলে জানায় পরিবারের লোকজন। এ সুযোগে তাকে একটি বেসরকারি ক্লিনিকে ভর্তি করার নামে বাড়ির প্রধান ফটকসহ বাড়িতে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়।
এদিকে দরজা বন্ধ বাড়ির প্রধান ফটকে অবস্থানরত প্রেমিকাকে প্রতিবেশী আইয়ুব আলীর স্ত্রী আনোয়ারা বেগম তার নিজের বাড়িতে ঠাঁই দেন। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে হাজির হয় সদর থানা পুলিশের একটি টিম।
এসময় ওই কলেজছাত্রী জানান, বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে দৈহিক সম্পর্ক করে সেটার ভিডিও ধারণ করে বাঁধন। পরে ওই ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে আরও কয়েকটি স্থানে নিয়ে গিয়ে স্ত্রীর পরিচয় দিয়ে তার সঙ্গে রাত কাটায় সে।
তিনি বলেন, এখন বিয়ে করবে না বলে জানায় বাঁধন। এজন্য আমি তার বাড়িতে রবিবার সকালে এসেছি। পরিবারের লোকজনকে অন্যত্র সরিয়ে রেখেছে সে। বিয়ে দেওয়া না হলে আত্মহত্যা করা ছাড়া আর কোনো পথ খোলা থাকবে না বলে জানান এই কলেজছাত্রী।
খবর পেয়ে গত রবিবার সদর থানার পুলিশ উপস্থিত হয় ঘটনাস্থলে। কর্তব্যরত পুলিশ অফিসার মেয়ের কাছে ঘটনার বিবরণ শুনে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।
অন্যদিকে, ৭নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য সবুজ মিয়া বাঁধনের পরিবারের লোকজনের সঙ্গে বিয়ের বিষয়ে কয়েক দফা আলাপ করেন।
এসময় পুলিশের উপস্থিতিতে পরিবারের এক সদস্য বলেন, আমাদের এক ঘণ্টা সময় দেন বিয়ের বিষয়ে কথাবার্তা বলব। ইউপি সদস্য সবুজ মিয়াও একই কথা জানান থানার অফিসার্স ইনচার্জ (ওসি) সাজেদুর ইসলামকে।
কিন্তু ওই কথার পর রাতভর দেন দরবার চললেও কোনো সুরাহা হয়নি। সোমবার বিকেল নাগাদ বিয়ের পিঁড়িতে বসা হয়নি।
বাঁধনের চাচা গোলাম কিবরিয়া বলেন, আমার ভাই এখন আইসিইউতে রয়েছে। তাকে নিয়ে আমরা চিন্তিত। তবে ভাতিজার বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি তিনি।
ইউপি সদস্য সবুজ মিয়া বলেন, বিয়ে দেওয়ার জন্য ছেলের চাচাসহ কয়েকজনের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলাম। এ বিষয়ে তারা কোনো কর্ণপাত করেনি। এখন আমার একার পক্ষে কিছু করার নাই। আমার ওপরে চেয়ারম্যান রয়েছেন। তার সঙ্গে কথা বলুন।
সদর থানার ওসি সাজেদুর ইসলাম বলেন, আমি ওই কলেজছাত্রীকে থানায় অভিযোগ দিতে বলেছি। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।