তীব্র গরমে ছড়িয়ে পড়ছে রোগ, হাসপাতালে ভিড়

গত কয়েকদিনের তীব্র গরমে জনজীবন বিপর্যস্ত। দিনাজপুরের বিভিন্ন চিকিৎসাকেন্দ্র ও হাসপাতালে গরমজনিত বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত রোগীদের ভিড় বাড়ছে। গতকাল মঙ্গলবার দিনাজপুর এম আবদুর রহিম মেডিকেল হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, হাসপাতালের নির্দিষ্ট সংখ্যক আসনের বাইরেও রোগীরা মেঝেতে অবস্থান করে চিকিৎসা নিচ্ছেন। বাড়তি রোগীর চাপে সেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছে হাসপাতাল কর্র্তৃপক্ষ।

মঙ্গলবার দুপুর ১টা পর্যন্ত ওই হাসপাতালে পুরুষ মেডিসিন ওয়ার্ডে রোগী ভর্তির সংখ্যা ছিল ১৫৫ জন। যেখানে হাসপাতালের বেডের সংখ্যা মাত্র ৭৭টি। কর্তব্যরত সিনিয়র স্টাফ নার্স (এসএসএন) হাসিনা খাতুন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘সকাল থেকে বেলা ১২টা পর্যন্ত ২৪ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। গতকাল থেকে এই সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৫৫ জনে। এতে সব রোগীকে সেবা দিতেও আমরা হাঁপিয়ে পড়ছি।’

এদিকে মহিলা মেডিসিন ওয়ার্ড ঘুরেও দেখা মিলে একই চিত্র। তীব্র গরমের কারণে রোগীর সংখ্যা বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গেই বাড়ছে। মহিলা মেডিসিন ওয়ার্ডে ভর্তিরত রোগীর সংখ্যা মঙ্গলবার দুপুর ১টা পর্যন্ত ১৩২ জন। এসব রোগীর বেশির ভাগই হচ্ছেন গরমে বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত। মহিলা মেডিসিন ওয়ার্ডের কর্তব্যরত সিনিয়র স্টাফ নার্স সুফিয়া খাতুন বলেন, ‘বেশির ভাগ রোগী শ্বাসকষ্ট, জ্বর এগুলোর কারণে ভর্তি হয়েছেন। তিনি আরও বলেন, মহিলা ওয়ার্ডে ৭৪টি  বেড আছে কিন্তু রোগীর সংখ্যা ১৩২ জন হওয়ায় বাকি রোগীরা বারান্দায় বিছানা পেতে আছে। রোগীদের থাকার মতো মেট্রেসও নেই পর্যাপ্ত।’

এদিকে হাসপাতালে ভর্তি হয়ে সঠিক চিকিৎসা সেবা পাচ্ছে না বলেও অভিযোগ করেছেন অনেক রোগী। তীব্র গরমের ফলে ঘনঘন লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ রোগী ও স্বজনরা। দিনাজপুরের কৃষাণ বাজার থেকে রাজিয়া বেগমকে (৬০) নিয়ে তার ছেলে এসেছেন হাসপাতালে। ছেলে দুলাল হোসেন (২৭) বলেন, ‘গতকাল রাত ৮টায় আমার মাকে ভর্তি করিয়েছি। কিন্তু আজ (মঙ্গলবার) দুপুর হয়ে গেছে তারপরেও কোনো ডাক্তার দেখেনি।’

উত্তর গোসাইপুর থেকে জ্বর, শ্বাসকষ্ট নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন খাতেমন বিবি (৭৬)। তিনি বলেন, ‘প্রচণ্ড জ্বর, শ্বাসকষ্ট নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছি। কিন্তু এখানে এসে দেখি ডাক্তারও নেই, বিদ্যুৎও থাকছে না। অসুখ ভালো হওয়ার থেকে আরও খারাপের দিকে যাচ্ছে।’

এ বিষয়ে দিনাজপুর এম আবদুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান জাকিউল আলম বলেন, ঈদের কয়েকদিন পর থেকেই প্রচণ্ড দাবদাহে রোগী ভর্তির সংখ্যা বাড়ছে। বিশেষ করে, ডায়রিয়া, আ্যজমা, জ্বর, শ্বাসকষ্ট, হৃদরোগসহ নানাবিধ সমস্যায় পড়ছেন সাধারণ মানুষ। রোগীর চাপে হাসপাতালে জায়গা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। গরমে সুস্থ থাকতে প্রচুর পানি পান করার পরামর্শ দেন তিনি।