নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে ইউপি সদস্য বিউটি আক্তার কুট্টিকে (৪০) কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা।
বুধবার সকালে রূপগঞ্জ উপজেলার কায়েতপাড়া ইউনিয়নের পশ্চিমগাঁও এলাকায় এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
নিহত বিউটি আক্তার কুট্টি একই এলাকার মৃত হাসান মুহুরির স্ত্রী। তিনি কায়েতপাড়া ইউনিয়নের ৭, ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সংরক্ষিত মহিলা আসনের সদস্য এবং কায়েতপাড়া যুব মহিলা লীগের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।
স্থানীয়রা জানায়, এলাকায় প্রভাব বিস্তার ও মাদক ব্যবসা নিয়ে বিরোধের জের ধরেই ইউপি মেম্বার ও আওয়ামীলীগ নেত্রী কুট্টিকে হত্যা করা হয়েছে। এর আগে একই কায়দায় তার স্বামী হাসান মুহুরিকে কুপিয়ে হত্যা করে প্রতিপক্ষরা। ওই হত্যা মামলার বাদী ছিলেন নিহত বিউটি আক্তার কুট্টি।
রূপগঞ্জ থানার ওসি মাহমুদুল হাসান হত্যাকাণ্ডের ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে দেশ রূপান্তরকে জানান, আমরা ঘটনাস্থলে এসেছি। পরিবারের সদস্যদের সাথে কথা বলে জানা গেছে বিউটি আক্তার কুট্টি প্রতিদিনই ভোরে চনপাড়া থেকে পশ্চিমগাঁও এলাকার দিকে হাঁটতে বের হতেন। প্রতিদিনের মতো মঙ্গলবার হাটতে বের হয়েছিলেন।
পরে সকাল ৭টার দিকে স্থানীয়রা পশ্চিমগাঁও এলাকায় তার রক্তাক্ত মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে নিহতের পরিবার ও পুলিশকে খবর দেয়। নিহতের মাথায়, ঘাড়ে এবং হাতে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।
প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে তাকে কোনো ধারালো অস্ত্র ধারা উপর্যুপরি আঘাত করা হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে ২ টি ধারালো চাপাতি উদ্ধার করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, তবে কে বা কারা কী কারণে এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে এখনও কিছু বলা যাচ্ছে না। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে।
এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ্ আল মামুন দেশ রূপান্তরকে জানান, এ হত্যাকাণ্ড নিয়ে প্রাথমিকভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না, বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষ। শীঘ্রই হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন করে হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িতদের আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে।
নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপারের পক্ষ থেকে গণমাধ্যমে প্রেরিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, কায়েতপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের সংরক্ষিত ( ৭,৮,৯ নম্বর ওয়ার্ড) মহিলা মেম্বর ও আওয়ামী লীগ নেত্রী বিউটি আক্তার কুট্টির হত্যাকারীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের লক্ষে পুলিশের একাধিক টিম মাঠে নেমেছে। ইতোমধ্যে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ ও ডিবির একাধিক টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে । ওই এলাকার সার্বিক পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
এদিকে ইউপি সদস্য বিউটি আক্তার কুট্টির হত্যাকারীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ-১ (রূপগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী বীরপ্রতীক।
বুধবার দুপুরে বিউটি আক্তার কুট্টি হত্যার ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে এই নির্দেশ দেন মন্ত্রী।
এসময় মন্ত্রী বলেন, ‘এক বছর আগে বিউটি আক্তার কুট্টির স্বামী হাসান মুহুরীকে মাদক ব্যবসায়ীরা কুপিয়ে হত্যা করে। ওই হত্যা মামলার বাদি ছিলেন বিউটি আক্তার কুট্টি। স্বামী হাসান মুহুরী হত্যার সঙ্গে জড়িতরা বিউটি আক্তার কুট্টিকে হত্যা করতে দীর্ঘদিন যাবৎ হুমকি দিয়ে আসছিল। তারাই বিউটি আক্তার কুট্টিকে হত্যা করেছে।
উল্লেখ্য, গত বছরের ২৯ অক্টোবর রাতে রূপগঞ্জে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে চনপাড়া পুনর্বাসন কেন্দ্রে বিউটি আক্তারের সঙ্গে বঙ্গবন্ধু যুব পরিষদের সভাপতি আনোয়ার হোসেন পক্ষের পাল্টাপাল্টি ধাওয়া, গুলি বিনিময় ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে বিউটির স্বামী হাসান মুহুরি প্রতিপক্ষের হামলায় গুরুতর আহত হন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত বছরের ৬ নভেম্বর তার মৃত্যু হয়। এই ঘটনায় বিউটি আক্তার কুট্টি বাদী হয়ে হত্যা মামলা করেছিলেন। মামলাটি বর্তমানে নারায়ণগঞ্জ আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।
রূপগঞ্জ থানা সূত্রে জানা গেছে, ২০১৮ সালের ২৮ আগস্ট ইউপি মেম্বার কুট্টির বাসা থেকে বিপুল পরিমাণ মাদক উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত বিউটি আক্তার কুট্টির বিরুদ্ধে রূপগঞ্জ থানায় ২টি মামলা রয়েছে। যার একটি দ্রুত বিচার আইনে, অপরটি বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে। দুটি মামলায়ই জামিনে ছিলেন তিনি।