আমরা আমাদের বিশ্বাসে অটল আছি : মরগান

অস্ট্রেলিয়ার কাছে ৬৪ রানের হারে স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিদায়ের রব উঠে গেছে। পরের দুটি ম্যাচে এশীয় পরাশক্তি ভারত এবং দারুণ ফর্মে থাকা নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে। এই দুই ম্যাচে পা হড়কালেই শেষ হয়ে যাবে র‌্যাংকিংয়ের শীর্ষে থাকা দলটির সেমিফাইনাল স্বপ্ন। দলের অধিনায়ক ইয়ন মরগান অবশ্য সেমিফাইনালের আগেই বিদায়ের শঙ্কাটা উড়িয়ে দিয়েছেন। যে আক্রমণাত্মক ও ইতিবাচক ক্রিকেট খেলে গত চার বছরে ওয়ানডের শীর্ষ দলে পরিণত হয়েছে ইংল্যান্ড, মরগানের বিশ্বাস, ঠিক সেভাবে খেলেই সেমিফাইনাল নিশ্চিত করবে তারা।

সাত ম্যাচে চার জয় ও তিন হারে ইংল্যান্ড ৮ পয়েন্ট নিয়ে এই মুহূর্তে আছে চতুর্থ স্থানে। তাদের ঘাড়ে নিঃশ্বাস ফেলছে বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা, পাকিস্তান এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজ। এক অস্ট্রেলিয়া ছাড়া সেরা চার এখনো কারোই সেভাবে নিশ্চিত নয়। সমীকরণটা উন্মুক্ত থাকায় এবং ইংল্যান্ডের শেষ দুই ম্যাচের প্রতিপক্ষ বিবেচনায় অনেকেই শঙ্কা প্রকাশ করছে তাদের নিয়ে। যদিও এমনটা হবে তা কে ভেবেছিল? সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইংল্যান্ড নিয়মিতই হেসেখেলে তিনশোর ওপরে রান তুলে পেয়েছে অনায়াস জয়। এই অস্ট্রেলিয়াকেই সর্বশেষ ১২ দেখায় হারিয়েছে ১০ বার। অথচ নিজভূমে বিশ্বকাপেই ইংলিশরা সেভাবে জ্বলে উঠতে পারছে না। তারা হার মেনেছে পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা এবং অস্ট্রেলিয়ার কাছে। যা তাদের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সের সঙ্গে একেবারেই বেমানান।

মঙ্গলবার অস্ট্রেলিয়ার নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের সামনে ইংল্যান্ড বলতে গেলে তেমন কোনো প্রতিরোধই গড়তে পারেনি। তারা একের পর এক উইকেট বিলিয়ে দিয়ে লর্ডসের গ্যালারিভর্তি সমর্থকদের হতাশা উপহার দিয়েছেন। মরগান নিজেও হতাশ, ‘আমার মনে হয় ব্যাটিং নিয়ে আমাদের যে লক্ষ্য ছিল তা থেকে দূরে সরে যাওয়া আজ (মঙ্গলবার) এবং শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ম্যাচটা হেরে গেছি। আমরা আমাদের লক্ষ্যে অবিচল ছিলাম না, বড় জুটি গড়তে পারিনি। নিজেরা নিজেদের মতো ব্যাটিং করেছি। আমার ধারণা সহায়ক উইকেট না পাওয়ায় আমরা আমাদের মৌলিক দায়িত্বটা ভুলে গিয়েছিলাম।’

২৮৫ রান তাড়া করতে নেমে ইংল্যান্ড ২৬ রানেই হারিয়ে বসে ৩ উইকেট। অতিমাত্রায় আক্রমণাত্মক খেলতে গিয়েই উইকেট বিসর্জন দিয়েছেন ইংলিশ ব্যাটসম্যানরা। এরপর দলের অন্যতম ম্যাচ উইনার জস বাটলার যখন ২৫ রান করে বিদায় নেয়, তখনই বলতে গেলে ম্যাচটা হাতছাড়া হয়ে যায় ইংল্যান্ডের থেকে। বেন স্টোকস একা লড়াই চালিয়ে গেছেন, যেটা তিনি শ্রীলঙ্কার বিপক্ষেও করেছিলেন। কিন্তু ৮৯ করে তার বিদায়ের পর ইংল্যান্ডের ২২১ রানে গুটিয়ে যাওয়াটা ছিল সময়ের ব্যাপার মাত্র। অতিমাত্রায় শট খেলার প্রবণতাই কাল হয়েছে তাদের। যদিও মরগান বলেছেন, ব্যাটিং নিয়ে তাদের পরিকল্পনায় অটল থেকেই সামনে সাফল্য পাবেন, ‘দেখুন, আমরা গত দুটি বছর এভাবে খেলেই বিশ্বের এক নম্বর দলে পরিণত হয়েছি। আমাদের ভাবনায় পরিবর্তনটা হুট করে আসেনি। দীর্ঘদিন ধরেই আমরা একই মন্ত্র জপে সাফল্য পাচ্ছি। সুতরাং এ ধারাটাকে পাল্টে ফেলার কোনোই কারণ নেই।’

সাবেক অধিনায়ক জিওফ বয়কট ও মাইকেল ভন ইংল্যান্ডকে বিকল্প পরিকল্পনা নিয়ে পরের ম্যাচ দুটি খেলার পরামর্শ দিয়েছেন। কিন্তু দলের হয়ে ৮৯ রান করা বেন স্টোকস এখনই নিজেদের ধারাটাকে পাল্টে ফেলতে চান নাÑ ‘আমরা জানি, কীভাবে খেললে আমাদের ভালো হবে’, স্টোকস বলেন, ‘শেষ চার ওভারে যেভাবে খেলে আমরা সেরা হয়েছি সেটা আমরা আমাদের মস্তিষ্কে গেঁথে ফেলেছি। দুটি হারে হয়তো অনেকেই বিকল্প পরিকল্পনার কথা বলবেন, কিন্তু আমরা আমাদের সফল পরিকল্পনা থেকে বের হব না। আমাদের শুধু এ পরিস্থিতির সঙ্গে নিজেদের খাপ খাইয়ে নিতে হবে। পেছনে পা ফেলার প্রশ্নই আসে না, বিশেষ করে আমাদের শেষ দুটি ম্যাচে।’

১৯৯২ সালের পর বিশ্বকাপে ইংল্যান্ড কখনই অস্ট্রেলিয়া, ভারত ও নিউজিল্যান্ডকে হারাতে পারেনি। এ সময়টায় তাদের বিপক্ষে খেলা ১০ ম্যাচের ৯টিতেই হেরেছে তারা। একটি হয়েছে পরিত্যক্ত। কিন্তু পরিসংখ্যান সবসময় কথা বলে না। মরগান চাইছেন শেষ দুটি ম্যাচ জিতে সেটারই প্রমাণ দিতেÑ ‘এখনো আমাদের সম্ভাবনা অনেক উজ্জ্বল। সবকিছুই আমাদের নিজেদের ওপর। এখন শুধু আমাদের সেরকম পারফরম্যান্স করতে হবে যাতে করে পরের দুটি ম্যাচেই জয় নিয়ে মাঠ ছাড়তে পারি। নয়তো নিদেনপক্ষে একটা ম্যাচ জিতি।’