স্লেজিংয়ে তেতে ছিলেন স্টার্ক

মিচেল স্টার্কের বলটা ঝড়ের বেগে এসে লাগল স্টাম্পে। অস্ট্রেলিয়ান পেসারের ইয়র্কার আটকাতে না পেরে ব্যাটটাই হাত থেকে ফেলে দিলেন বেন স্টোকস, সেটিকে লাথিও মারলেন হতাশা থেকে। স্টোকসের এ আউটই অস্ট্রেলিয়ার জয় মোটামুটি নিশ্চিত করে দেয় মঙ্গলবার লর্ডসের ম্যাচে। আগুন ঝরানো বোলিংয়ে স্টার্ক নিয়েছেন ৪ উইকেট, উঠে এসেছেন বিশ্বকাপের উইকেটশিকারিদের তালিকার শীর্ষেও। ম্যাচের পর এ গতি তারকার স্ত্রী অ্যালিসা হেইলি এক টুইটে জানিয়েছেন, ম্যাচের দিন সকালে এক ইংলিশ সমর্থক ‘সেøজিং’ করেছিলেন স্টার্ককে। সেটাই নাকি ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচের সময় তাতিয়ে দিয়েছিল তাকে!

ম্যাচের দিন সকালে হোটেলে বসে সকালের নাশতা সারছিলেন স্টার্ক ও হেইলি। অজি ফাস্ট বোলারের নাশতায় ছিল পছন্দের তিনটি ডিম পোচ। ওই সময় এক ইংলিশ সমর্থক এসে তার নাশতা ও বোলিং নিয়ে কিছু কথা শুনিয়ে দেন। ম্যাচে অবশ্য বল হাতেই সেটার জবাব দিয়েছেন স্টার্ক, ৪৩ রানে নিয়েছেন ৪ উইকেট, দারুণ এক ডেলিভারিতে ফিরিয়েছেন ইংল্যান্ডের সর্বশেষ ভরসা স্টোকসকে।

ম্যাচ শেষে হেইলি এক টুইটে লিখেছেন, ‘ধন্যবাদ সেই ইংলিশ সমর্থককে যে নাশতার টেবিলে স্টার্ককে তাতিয়ে দিয়েছিল!’ স্টার্ক অবশ্য সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, ওই সমর্থকের কথায় একটুও রাগ করেননি তিনি, ‘একজন এসে আমার বোলিং ও কনুইয়ে লাগানো টেপ নিয়ে কিছু কথা বলেছিল নাশতার সময়। আমার তখন খুব ক্ষুধা পেয়েছিল, আমি তো আধো ঘুমেই ছিলাম! তার ওসব কথা হেসেই উড়িয়ে দিয়েছি। এখন পর্যন্ত এই টুর্নামেন্টে হোটেল ও হোটেলের বাইরে দর্শকের আচরণ উপভোগ্যই ছিল আমার কাছে। এটা বিশ্বকাপেরই অংশ।’

অস্ট্রেলিয়ার জয়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন এক স্টোকসই। তাকে দুর্দান্ত এক ইয়র্কারে ফিরিয়ে অজিদের জয়ের পথটা মসৃণ করেছেন স্টার্ক। স্টোকসকে এভাবে ফেরাতে পেরে খুশি এ দীর্ঘদেহী পেসার, ‘সে দারুণ একজন ক্রিকেটার। ওই মুহূর্তে তাকে ফেরানোটা গুরুত্বপূর্ণ ছিল। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সে একাই ৮০ রান করে দলকে জয়ের পথে রেখেছিল। আমরা জানতাম যতক্ষণ সে ক্রিজে আছে ততক্ষণ আমাদের স্বস্তিতে থাকার সুযোগ নেই। সৌভাগ্যক্রমে আমি তাকে ওইভাবে ফেরাতে পেরেছি। যেখানে বলটা ফেলতে চেয়েছিলাম সেখানেই ফেলেছি।’