আজ ভারতের বিপক্ষে ম্যানচেস্টারে ওয়েস্ট ইন্ডিজের খেলা। ক্যারিবিয়ানদের কোনো সুযোগ নেই বিশ্বকাপের সেমিতে ওঠার। তবে তাদের জয় টুর্নামেন্টে অন্যান্য দলকে কিছুটা সুবিধা করে দেবে। পাঁচ ম্যাচে ভারতের ৯ পয়েন্ট। উইন্ডিজ ছাড়াও তাদের খেলা বাকি ইংল্যান্ড, বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কার সঙ্গে। যদি ইংল্যান্ড হারায়, আমরাও হারাই এমন হিসাবে ভারতেরও কিন্তু প্রথম পর্ব থেকে বিদায় নেওয়ার শঙ্কা আছে। শেষ চার ম্যাচই হারলে এমনটা হতে পারে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের তো হারানোর কিছু নেই। তারা প্রাণপণে চাইবে বাকি তিন ম্যাচের প্রতিটি জিততে।
ম্যানচেস্টারের এই ম্যাচে প্রচুর দর্শক হবে। আসলে ভারতের একটা বড় সুবিধা হলো যেখানেই খেলুক তারা নিজেদের প্রচুর সমর্থক পায় মাঠে। পুরো স্টেডিয়ামের ৭৫ থেকে ৮৫ শতাংশ দর্শক তাদেরই থাকে। মনে হয় যেন তারা তাদের হোম গ্রাউন্ডেই খেলছে। এই মাঠে এর মধ্যে তারা খেলে ফেলেছে। চিরশত্রু পাকিস্তানকে হারিয়েছে। তো আজকের ম্যাচে ভারত ফেভারিট কিন্তু উইন্ডিজ যেকোনো সময় ব্যবধান তৈরি করে নিতে পারে। তাদের প্রত্যেক খেলোয়াড় বিপজ্জনক। শেষ ম্যাচে দেখুন, কার্লোস ব্রাফেট কোত্থেকে এসে সেঞ্চুরি করে দিল। কেউ চিন্তাই করতে পারেনি। যদিও শেষ পর্যন্ত একটুর জন্য দলকে জেতাতে পারেনি নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে। আমি অবশ্য চাই, ভারতের সঙ্গে ওয়েস্ট ইন্ডিজ জিতুক।
ইংল্যান্ড বিপদে
অস্ট্রেলিয়ার দাপুটে জয়ে বিপদে পড়ে গেল হট ফেভারিট, স্বাগতিক ইংল্যান্ড। অজিদের দুই ওপেনার অ্যারন ফিঞ্চ ও ডেভিড ওয়ার্নার অসাধারণ ফর্মে আছে। ফিঞ্চের দ্বিতীয় সেঞ্চুরি হয়েছে টুর্নামেন্টে। ওয়ার্নারের ৫০০ রান। অস্ট্রেলিয়ার প্রত্যেক খেলোয়াড় আসলে দলকে কিছু না কিছু দিচ্ছে। যখন যেটা প্রয়োজন।
বোলিংয়ের দিক দিয়ে বিবেচনা করলে ইংলিশদের বিপক্ষে যে দলটি খেলল সেটাই সেরা। মানে গেল সাত ম্যাচের মধ্যে এটাই তাদের সেরা বোলিং অ্যাটাক। অফ স্পিনার নাথান লায়নকে নেওয়া হয়েছিল। নতুন বলে মিচেল স্টার্কের সঙ্গে ছিলেন নবীন বাঁহাতি ফাস্ট বোলার জেসন বেহরেনডর্ফ। এই পেসার চমৎকার বোলিং করেছে। বলকে দুদিকেই সুইং করাতে পারে। চলমান বিশ্বকাপে এত ম্যাচ দেখার পর এই প্রথম কোনো বোলারকে এমন সুইং করাতে দেখলাম।
অস্ট্রেলিয়াকে আসলে এখন ফেভারিট মনে হচ্ছে। বিশেষ করে তাদের বোলিং দেখে। অ্যাকুরেসি চমৎকার। পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে দারুণভাবে। স্টার্ক ও বেহরেনডর্ফ প্রথম যে ৩/৪ উইকেট নিল তখন দেখলাম তারা যা করতে চাইছিল তাই হচ্ছিল।
ইংল্যান্ড আসলে ফেভারিটই ছিল নিজেদের মাটির এই বিশ্বকাপে। কিন্তু তারা স্নায়ু শক্ত রাখতে পারেনি। শেষ দুই ম্যাচে এটাই তাদের সমস্যা দেখলাম। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষেও ঘটনা ছিল তাই। এখন স্বাগতিকদের জন্য সেমিফাইনালে যাওয়া খুব কঠিন হয়ে গেছে। তাদের পরের খেলা ভারতের বিপক্ষে। ওই খেলায় না জিতলে তাদের আউট বলা যেতে পারে। কারণ এখন পর্যন্ত তাদের পয়েন্ট ৮। সাত ম্যাচে। ভারতের পর নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে খেলা। সব মিলে ইংল্যান্ডের জন্য খুব দুঃখজনক যে, বিশ্বকাপে তাদের দলটা এমন অসাধারণ, গেল চার বছর দুর্দান্ত ক্রিকেট খেলেছে, অথচ আইসিসি ইভেন্টে এসে নিজেদের পারফরম্যান্স দেখাতে পারল না। তাদের একটু দুর্ভাগাও বলতে হবে। জেসন রয় চোটে পড়েছে। অ্যালেক্স হেলস বিশ্বকাপের আগে ডোপ টেস্টের জন্য বাদ পড়েছে।
ইংল্যান্ড র্যাংকিংয়ের এক নম্বর দল। কিন্তু অস্ট্রেলিয়া তাদের বিপক্ষে চ্যাম্পিয়নের মতো খেলেছে। এখন পর্যন্ত খেলা সাত ম্যাচের মধ্যে এ খেলাতেই তাদের সবচেয়ে ভারসাম্যপূর্ণ লেগেছে। বিশেষ করে বোলিংয়ে একটুখানি যা দুর্বলতা ছিল তা কাটিয়ে ওঠায়।