ঝালকাঠিতে শিশু পাচারকারী আতঙ্কে প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ অন্যান্য কিন্ডারগার্ডেনে উপস্থিতির হার কমে গেছে। গত কয়েক দিন আগে থেকে এ অঞ্চলে শিশু পাচারের খবরে অভিভাবকসহ বিদ্যালয়গামী শিশুদের মধ্যে এ আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
গত বুধবার জেলার কাঁঠালিয়া উপজেলার কচুয়া থেকে মিরাজ হোসেন (৩০) নামে এক সন্দেহভাজন শিশু পাচারকারীকে আটক করে স্থানীয়রা। এ খবর জেলাজুড়ে ছড়িয়ে পড়লে অভিভাবকসহ শিশুরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। ফলে অধিকাংশ অভিভাবকই শিশুদের বিদ্যালয়ে পাঠাতে ভয় পাচ্ছেন। এতে প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে শিশুদের উপস্থিতির হার কমে যায়।
কাঁঠালিয়া থানার ওসি এনামুল হক জানান, গতকাল (বুধবার) রাতে কাঁঠালিয়ার আওরাবুনিয়া এলাকার একটি বাড়িতে ঘরের জানালা দিয়ে চেতনানাশক স্প্রে করে মিরাজ। এরপর মিরাজকে ধাওয়া করে স্থানীয়রা। বাইসাইকেলে করে পালানোর একপর্যায়ে সাতানি বাজার এলাকায় স্থানীয়দের হাতে ধরা পড়ে সে। পরে গণপিটুনিতে গুরুতর আহত মিরাজকে স্থানীয়রা ইউনিয়ন পরিষদে আটকে রেখে পুলিশে খবর দিলে মিরাজকে উদ্ধার করে প্রথমে রাজাপুর স্বাস্থ্যকেন্দ্রে পাঠায় পুলিশ। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল হাসপাতালে মিরাজকে ভর্তি করা হয়।
ওসি আরও বলেন, আমরা জেনেছি আহত মিরাজের বাড়ি পার্শ্ববর্তী জেলা বরগুনার বেতাগীতে। মিরাজ শাড়ি, কাপড় ফেরি করে সংসার চালাত। এ উপজেলার শৌলজালিয়া গ্রামে ওর শ^শুরবাড়ি।
শিশু পাচারকারী আটকের খবরে বিদ্যালয়গুলোতে শিশুদের উপস্থিতি কমার ব্যাপারে জেলার ৩১ নম্বর দক্ষিণ রাজাপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আ. ছবুর খন্দকার বলেন, কয়েক দিন ধরে বিদ্যালয়ে ছাত্রছাত্রীদের উপস্থিতি কমে গেছে। বিশেষ করে শিশু শ্রেণির শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে পাঠাচ্ছেন না অভিভাবকরা।
ঝালকাঠির পুলিশ সুপার ফাতিহা ইয়াসমিন বলেন, শিশু পাচারকারী সন্দেহে কাঁঠালিয়ায় এক যুবককে আটক করার খবর শুনেছি। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি। আমরা কমিউনিটি পুলিশিংয়ের মাধ্যমে বিদ্যালয়গুলোতে এ বিষয়ে আলোচনা করে শিশু ও অভিভাবকদের সচেতন হওয়ার পরামর্শ দিচ্ছি। তা ছাড়া গুজবে আতঙ্কিত না হয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে বলেও জানান পুলিশের এই কর্মকর্তা।