ট্রাম্প-পরবর্তী যুক্তরাষ্ট্রের আকাক্সক্ষা

মার্কিন প্রেসিডেন্ট হওয়ার রাজনীতির নতুন মৌসুমে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির পদপ্রার্থী প্রত্যাশীদের প্রথম বড় সম্মুখযুদ্ধের প্রথমার্ধ শেষ হলো। দলটির ১০ নেতা স্থানীয় সময় বুধবার রাতে মঞ্চে ওঠেন। তারা প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অধীন মৌখিক হেনস্তা ও জাতীয়তাবাদী সংরক্ষণবাদের বদলে আরও বৈচিত্র্যপূর্ণ ও অর্থনৈতিকভাবে ভারসাম্যপূর্ণ যুক্তরাষ্ট্রের কথা বলেছেন। ২০২০ সালের নির্বাচনকে সামনে রেখে দলটির বাকি নেতারা স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার মুখোমুখি হবেন বিতর্কে।

সিএনএনের প্রতিবেদনে জানানো হয়, বিতর্ক শেষের পর্যালোচনায় এগিয়ে রাখা হয়েছে ম্যাসাচুসেটস অঙ্গরাজ্যের সিনেটর এলিজাবেথ ওয়ারেন, সাবেক গৃহায়ন ও নগর উন্নয়ন মন্ত্রী জুলিয়ান কাস্ত্রো ও নিউ জার্সি অঙ্গরাজ্যের সিনেটর কোরি বুকারকে। দ্বিতীয় দফার বিতর্কে আলোচনায় থাকা জো বাইডেন, সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স ও কমলা হ্যারিস প্রথম দফায় এগিয়ে থাকাদের কাছ থেকে আলো কেড়ে নেবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

প্রথম বিতর্কে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনায় ট্রাম্প-পরবর্তী যুক্তরাষ্ট্রে রাজনীতি কেমন হবে, তারও চিত্র উঠে এসেছে। এতে মনে হয়েছে, ২০২১ সালে নতুন কোনো ডেমোক্র্যাটিক প্রেসিডেন্ট প্রকাশ্যে স্প্যানিশ বলতে পারেন। ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের মায়ামির বিতর্কে এমনটা করেছেনও কেউ কেউ। ট্রাম্পের সঙ্গে ধরনগত বৈসাদৃশ্য দেখা গেছে দুই নারী সিনেটর ওয়ারেন ও অ্যামি ক্লোবুচারের মধ্যে। দুজনই প্রথম নারী প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী হতে চাইছেন। একই অবস্থা লাতিন আমেরিকা থেকে প্রথম কোনো ব্যক্তি হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হতে চাওয়া কাস্ত্রোর। তারা যেকোনো মুহূর্তে উত্তপ্ত হওয়ার দ্বারপ্রান্তে থাকা প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে একজন শ্বেতাঙ্গ খ্যাপাটে পুরুষ প্রার্থী ভালো বিকল্প কি না সে বিষয়ে প্রশ্নকে ব্যক্তিগতভাবে নেন।

দ্বিতীয় দফার বিতর্কে জো বাইডেন যুক্তি দিয়ে বোঝাতে চাইবেন, একই জনগোষ্ঠীর মানুষ হওয়া সত্ত্বেও অভিজ্ঞতা তাকে ট্রাম্পের সবচেয়ে ভালো বিকল্প হিসেবে দাঁড় করিয়েছে। তার আগে প্রথম দফার বিতর্কে ট্রাম্পের মতো অপমানের ভঙ্গিতে থাকা, উন্মত্ত কাউকেই পাওয়া যায়নি। দ্বিতীয় দফায়ও এমন কাউকে আশা করা যাচ্ছে না। এদিকে প্রথম দফার বিতর্ককে ‘বিরক্তিকর’ বলেছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। মার্কিন প্রেসিডেন্টকে বহনকারী এয়ার ফোর্স ওয়ানে চড়ে জাপানে যাওয়া ট্রাম্প টুইটে এ মন্তব্য করেন।

দ্বিতীয় মেয়াদে ট্রাম্পের রাজনৈতিক ভাগ্য নির্ভর করছে মার্কিন জনগণ তার সঙ্গে একমত নাকি তারা নীরব, অনেক বেশি সাধারণ রাজনৈতিক বিতর্ক চান (যেখানে বড় বিভক্তি ব্যক্তিগত না হয়ে নীতিগত বিষয়ে হয়), তার ওপর। আগামী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটিক পদপ্রার্থী প্রত্যাশীদের বিশদ সরকারি সংস্কার পরিকল্পনা ইলেকটোরাল ভোটের বড় অংশ টানতে পারে কি না, তাও বলে দেবে। প্রগতিশীল ভোটারদের কাছে অর্থনীতি, স্বাস্থ্যসেবা, বৈশ্বিক উষ্ণায়ন, অস্ত্রের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দেওয়া যুক্তিগুলো জাতীয় নৈতিকতার চেতনায় প্রোথিত ও সাহসী বিষয়। অন্যদিকে অধিকতর রক্ষণশীল ভোটারদের কাছে এগুলো মৌল পরিবর্তন বা ভীতি সঞ্চারকারী বিবেচিত হতে পারে। এ বিতর্কের মাধ্যমে ডেমোক্র্যাটদের কট্টর সমাজতন্ত্রী প্রমাণে যথেষ্ট রসদ পেয়েছে ট্রাম্প ও তার দল।