গোল্ডেন ক্রাউন জাতের তরমুজ চাষ করে ভাগ্য ফিরেছে সোনারগাঁ উপজেলার কৃষক রমজান আলীর। উপজেলার গৌরিবর্দী গ্রামে গোল্ডেন ক্রাউন ও ব্ল্যাক প্রিন্স জাতের তরমুজ চাষ করে এলাকায় সারা ফেলে দিয়েছেন তিনি। জীবিকার তাগিদে প্রবাসে গেলেও সেখানে ভাগ্য ফেরেনি তার। প্রবাস থেকে খালি হাতে ফিরতে হয়েছে দেশে। ২০১৮ সালে ১ বিঘা জমি বর্গা নিয়ে প্রথম গোল্ডেন ক্রাউন জাতের তরমুজ চাষ শুরু করেন। প্রথম বছরই সাফল্যের দেখা পান কৃষক রমজান। ১ বিঘা জমিতে গোল্ডেন ক্রাউন জাতের তরমুজ চাষে তার ব্যয় হয় মোট ৩৫ হাজার টাকা আর এ থেকে তিনি আয় করেন ১ লাখ ২০ হাজার টাকা। এতে উৎসাহিত হয়ে এ বছর তিনি ৩ বিঘা জমিতে এ তরমুজের চাষ করেছেন।
কৃষক রমজান আলী জানান, গোল্ডেন ক্রাউন জাতের তরমুজ চাষে বিঘাপ্রতি প্রায় এক থেকে দেড় লাখ টাকা আয় হয়। প্রতি বিঘায় প্রায় ৪০ থেকে ৫০ মণ তরমুজ উৎপাদন হয়ে থাকে। বীজ বপনের দুই মাস পর ফলন পাওয়া যায়। খরচ তুলনামূলক কম হওয়ায় লাভ বেশি।
তিনি আরও জানান, গোল্ডেন ক্রাউন জাতের তরমুজের পাশাপাশি ব্ল্যাক প্রিন্স জাতের তরমুজও চাষ করেন তিনি। তবে গোল্ডেন ক্রাউন জাতের তরমুজের চাহিদা সবচেয়ে বেশি। এ জাতের তরমুজ বাজারে প্রায় ৮০ থেকে ৯০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়। আর ব্ল্যাক প্রিন্স তরমুজ বিক্রি হয় ৫০ থেকে ৬০ টাকা। এ তরমুজ চাষ করতে হয়ে মাচায়। এ বছর ৩ বিঘা জমিতে এ তরমুজ চাষে তার ব্যয় হয়েছে প্রায় ৮৫ হাজার টাকা। তিনি ৩ বিঘা জমি থেকে এবার প্রায় ৩ লাখ ২০ হাজার টাকা আয় করেছেন। আগামী বছর ৫-৬ বিঘা জমিতে এ তরমুজ চাষ করবেন বলে জানান।
সোনারগাঁ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মনিরা আক্তার জানান, গোল্ডেন ক্রাউন তরমুজ বিদেশি ফল। এ দেশে স্বল্প পরিসরে এর চাষ শুরু হয়েছে। এ তরমুজ চাষে কৃষকরা স্বল্প পরিশ্রম ও স্বল্প ব্যয়ে অধিক লাভবান হতে পারেন। সোনারগাঁ উপজেলার গৌরিবর্দী গ্রামের কৃষক রমজান আলী এ তরমুজের চাষ করে এরই মধ্যে সাফল্য পেয়েছেন। এটি গ্রীষ্মকালীন ফল, মাচায় চাষ করতে হয়। বীজ বপনের দুই মাস পর ফলন পাওয়া যায়। এ জাতের তরমুজ আকারে কিছুটা ছোট। ভেতরের রং গাঢ় লাল ও বেশ সুস্বাদু। এ তরমুজ চাষের ব্যাপারে সোনারগাঁ উপজেলার কৃষি অফিস থেকে কৃষকদের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়া হবে।