দিনাজপুরের হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (হাবিপ্রবি) আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে অর্ধশতাধিক ছাত্র আহত হয়েছেন।
হাবিপ্রবির ক্যাম্পাস সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে শেখ রাসেল আবাসিক হলের দুই ছাত্রের অনুপস্থিতিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্র নাহিদ আহমেদ নয়নসহ আরও কয়েকজন মিলে জোরপূর্বক অপর দুই ছাত্রকে হলের ওই কক্ষে তুলে দিতে যায়। এ সময় শেখ রাসেল হল শাখার ছাত্রলীগ সভাপতি রুহুল কুদ্দুস জোহা ও হল শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক মোর্শেদুল আলম রনি তাদের বাধা দিতে যান। একপর্যায়ে নাহিদ আহমেদ নয়ন গ্রুপ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে জোহা গ্রুপের ওপর চড়াও হয়। এতে দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ বাধলে অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী আহত হন।
প্রত্যক্ষদর্শী কয়েকজন শিক্ষার্থী জানান, রাত সাড়ে ১০টা থেকে আড়াইটা পর্যন্ত ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ চলে। এ সময় দুই গ্রুপ পাল্টাপাল্টি ইট-পাটকেল ছুড়লে উভয়পক্ষের ৫০ জনের বেশি শিক্ষার্থী আহত হন। তাদের মধ্যে মামুন-উর রশিদ মামুন, শঙ্কর রায়সহ কয়েকজনকে দিনাজপুর এম আবদুুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নেওয়া হয়।
সংঘর্ষের একপর্যায়ে নাহিদ আহমেদ নয়ন পিস্তল দিয়ে ৩টি ফাঁকা গুলি ছুড়লে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে যায়। এ সময় শেখ রাসেল হলের অনেক সাধারণ ছাত্র আহত হলে হলজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে হল শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি জোহা গ্রুপের সঙ্গে অন্যান্য হলের ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা যোগ দিলে নয়ন গ্রুপ পিছু হটতে শুরু করে।
শেখ রাসেল হল ছাত্রলীগের সভাপতি রুহুল কুদ্দুস জোহা বলেন, ‘আমি হলের সভাপতি, আমাকে ও হলের অন্য পদধারী নেতাকর্মীদের না জানিয়ে নাহিদ জোরপূর্বক কক্ষে ছাত্র থাকা অবস্থায় আরও কয়েকজন ছেলেকে নিয়ে এসে হলের সেই কক্ষগুলো দখলে নেওয়ার চেষ্টা করে। পরে ছাত্রলীগ সমর্থনকারী অন্য ছাত্ররাও একত্র হয়ে প্রতিপক্ষকে প্রতিহত করলে তারা পালিয়ে যায়।
মোবাইলে ফোন দেওয়া হলে হাবিপ্রবির সাবেক ছাত্র নেতা নাহিদ আহমেদ নয়ন বলেন, ‘আমি এখন ব্যস্ত আছি।’ এ বিষয়ে কথা বলতে তিনি রাজি হননি। সংঘর্ষের বিষয়ে হাবিপ্রবির প্রক্টর ডা. মো. খালেদ হোসেন বলেন, বৃহস্পতিবার রাতের বিষয়টি অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে খতিয়ে দেখব।