১৯৩৮ সালের এই দিনে জন্মগ্রহণ করেন সংগীতশিল্পী অজিত রায়। ১৯৫৭ সালে তিনি মাধ্যমিক পরীক্ষা পাস করে রংপুর কারমাইকেল কলেজে পড়াশোনা করেন। অজিত রায়ের সংগীত জীবনে সাফল্যের পেছনে তার মা কণিকা রায় অপরিমেয় প্রভাব রেখেছেন। কিশোর বয়স থেকেই তিনি তবলা বাজানো এবং নিয়মিত চর্চার মাধ্যমে সুর ও স্বরের সাধনা শুরু করেন। ষাটের দশকের মাঝামাঝি থেকে প্রতি বছর একুশে ফেব্রুয়ারির স্মরণে একটি করে নতুন গান করে আসতেন তিনি। এই রকমই একটি গান ছিল জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম রচিত বিদ্রোহী কবিতায় আলতাফ মাহমুদের সুর করা গান। রংপুরে থাকাকালীন ১৯৬১ সালে রবীন্দ্রশতবার্ষিকী অনুষ্ঠানে ‘চণ্ডালিকা’ গীতিনাট্যে ‘আনন্দ’-এর ভূমিকায় অংশগ্রহণ করে তিনি ভূয়সী প্রশংসা অর্জন করেন। তখন থেকেই তিনি রবীন্দ্রসংগীত সাধনায় ব্রতী হন। অজিত রায় ১৯৬২ সালে ঢাকায় আসেন। ১৯৬৩ সালে রেডিওতে ও পরে টেলিভিশনের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের মাধ্যমে তিনি রবীন্দ্রসংগীতশিল্পী হিসেবে সুপরিচিত হওয়ার গৌরব অর্জন করেন। ১৯৬৯ সালের গণ-অভ্যুত্থানের সময় অজিত রায় কবিতা আবৃত্তি, অভিনয় ও সংগ্রামী গান গেয়ে সংগ্রামে অংশগ্রহণের জন্য জনগণকে উজ্জীবিত করেন। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি ভারতে গিয়ে স্বাধীন বাংলা বেতারের অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর অজিত রায় ১৯৭২ সালে বাংলাদেশ বেতারে চাকরি গ্রহণ করেন এবং ১৯৯৫ সালের ৯ অক্টোবর চাকরি থেকে অবসর নেন। অজিত রায় বিভিন্ন সময় বুলবুল ললিতকলা অ্যাকাডেমি, ছায়ানট, সংগীত মহাবিদ্যালয় ও উদীচীতে প্রশিক্ষক হিসেবে কাজ করেন। ১৯৬৩ সালে সুখেন্দু চক্রবর্তীর সংগীত পরিচালনায় ‘রিপোর্টার’ ছায়াছবিতে তিনি প্রথম কণ্ঠদান করেন। এ ছাড়া ‘জীবন থেকে নেয়া’, ‘কোথায় যেন দেখেছি’, ‘যে আগুনে পুড়ি’, ‘আমার জন্মভূমি’, ‘কসাই’ প্রভৃতি ছায়াছবিতেও তিনি কণ্ঠদান করেছেন। ২০১১ সালের ৪ সেপ্টেম্বর তিনি মৃত্যুবরণ করেন।