২০২০ সালে অনুষ্ঠেয় মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন সামনে রেখে ডেমোক্রেটিক পার্টির পদপ্রার্থী প্রত্যাশীদের প্রথম বিতর্কের দ্বিতীয় রাউন্ডজুড়ে ছিল সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ও বামঘেঁষা সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্সের মতপার্থক্য। এই দুজনের কাছ থেকে আলো কেড়ে নিয়েছেন ভারতের তামিলনাড়– রাজ্যের মা ও ক্যারিবীয় দ্বীপরাষ্ট্র জ্যামাইকার বাবার সন্তান কমলা দেবী হ্যারিস। বাহাসের দুই ঘণ্টার বেশির ভাগ সময় আধিপত্য ধরে রাখেন তিনি। ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের এ সিনেটর নাগরিক অধিকার, বর্ণবাদে ঝোঁক ও অন্য পদপ্রার্থী প্রত্যাশীদের নীরব করে দেওয়ার মতো বিষয়গুলোতে একহাত নেন সাবেক সিনেটর বাইডেনকে।
দ্য ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদনে জানানো হয়, স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ডেমোক্র্যাট কিছু পদপ্রত্যাশী বর্ণসংক্রান্ত বিষয়গুলো নিয়ে কথা বলেন। তবে কমলা ভোটারদের কাছে নিজের বর্ণপরিচয় দিয়ে ভিন্ন মাত্রা যোগ করেন। তিনি বলেন, ‘এই মঞ্চের একমাত্র কৃষ্ণাঙ্গ হিসেবে আমি বর্ণবাদ নিয়ে কথা বলতে চাই।’ জবাবে বাইডেন বলেন, বর্ণবাদ নিয়ে কমলার সমালোচনা তার অবস্থানের ভুল চিত্রায়ণ। তবে কাছাকাছি দূরত্বে থেকে ও ব্যক্তিগত প্রসঙ্গ উল্লেখ করে করা কমলার প্রবল আক্রমণ দেলাওয়্যার অঙ্গরাজ্যের সাবেক আইনপ্রণেতার ওপর প্রভাব ফেলেছে। বিষয়টি ৫৪ বছর বয়সী এই নারীকে গুরুত্বপূর্ণ সম্ভাব্য পদপ্রার্থী চিত্রিত করেছে।
প্রথম বিতর্কের পর জরিপে পদপ্রার্থী প্রত্যাশীদের অবস্থান হয়তো পরিবর্তন হবে না। কিন্তু সম্ভাব্যদের মধ্যে বাছাইয়ের জন্য ডেমোক্র্যাটদের কীভাবে ভাবতে হবে, সে বিষয়টা হয়তো ঠিক করে দেবে দলটির নেতাদের বাকযুদ্ধ। এতে বাইডেন ও স্যান্ডার্সের মধ্যকার মতপার্থক্য (যা বাস্তব ও অনিষ্পত্তিকৃত) অপেক্ষাকৃত কম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে দাঁড়ায়। সে জায়গাটি নিয়ে নেন পদপ্রার্থী প্রত্যাশী অন্য ডেমোক্র্যাটরা।
বাইডেনের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক সমালোচনা করেন প্রতিদ্বন্দ্বীরা। তবে কমলা সবচেয়ে বেশি সরাসরি আক্রমণ করেন তাকে। কয়েক দশক আগে বর্ণ পৃথককরণ নীতিতে বিশ্বাসী দুই সিনেটরের সঙ্গে কাজ করা নিয়ে বাইডেনের সাম্প্রতিক মন্তব্যের বিষয়টি টানেন আইনজীবী কমলা। এ ছাড়া স্কুলবাস সেবার বিরোধিতা করায়ও বাইডেনের সমালোচনা করে এই জুনিয়র সিনেটর বলেন, তিনি বাসব্যবস্থার সুফলভোগী। এ ছাড়া অনথিভুক্ত অভিবাসীদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানো নিয়ে ওবামা-বাইডেন প্রশাসনের চিন্তার সঙ্গে দ্বিমত পোষণের কথাও জানান তিনি।
তোপে পড়া বাইডেন অভিজ্ঞ বিতার্কিক। তিনি জানেন, কখন ও কীভাবে নিজের দিকে তেড়ে আসা আক্রমণ সামলাতে হয়। তবে গত বৃহস্পতিবারের বিতর্কে সুবিধাজনক অবস্থানে ছিলেন না তিনি।
বিতর্ক শুরুর কয়েক ঘণ্টা আগে বাইডেনের নির্বাচনী প্রচার দলের উপদেষ্টারা বলেছিলেন, তিনি বিতর্কের সন্ধ্যাটাকে ‘প্রকৃত অর্থে রূপান্তরমূলক পরিবর্তন’ নিয়ে আলাপের ক্ষেত্রে পরিণত করবেন। কিন্তু তিনি সে সুযোগ কমই পেয়েছেন। এর পরিবর্তে গোটা সন্ধ্যায় রক্ষণশীল ম্যাচ খেলেছেন তিনি। তার ওপর কমলার প্রবল আক্রমণ ডেমোক্রেটিক জাতীয় কমিটির বিধি অনুযায়ী বাছাই করা ২০ পদপ্রার্থী প্রত্যাশীর পরপর দুই দিনের বিতর্কের সবচেয়ে নাটকীয় মুহূর্ত হিসেবে ধরা দিয়েছে।