পদ্মায় তীব্র স্রোতে ডুবোচরে ফেরি আটকে যাওয়া এবং ফেরি সংকটে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে ফেরি চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। ফলে বিঘিœত হচ্ছে যান পারাপার। ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন দক্ষিণাঞ্চলের হাজার-হাজার যাত্রী, চালক ও পরিবহন-সংশ্লিষ্টরা। গতকাল বিকেল পর্যন্ত দৌলতদিয়া ঘাট থেকে তিন কিলোমিটার জুড়ে যানজট তৈরি হয়।
বিআইডব্লিউটিসির দৌলতদিয়া ঘাট শাখার ব্যবস্থাপক আবু আবদুল্লাহ রনি জানান, বৃহস্পতিবার ঝড়ো বাতাসের কারণে অন্তত আড়াই ঘণ্টা ব্যস্ততম এ নৌরুটে ফেরি চলাচল বন্ধ রাখার পর থেকেই যানজট শুরু হয়েছে। এ ছাড়া রুটের পাঁচটি ফেরি সংস্কারে থাকায় সৃষ্টি হয়েছে ফেরি সংকট। এতে দক্ষিণাঞ্চল থেকে আসা ঢাকামুখী শত শত যানবাহন পারাপারের অপেক্ষায় রয়েছে।
তিনি জানান, দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে বর্তমানে ১৫টি ফেরি যানবাহন পারাপার করছে। সন্ধ্যা পর্যন্ত সংস্কারে থাকা রোরো ফেরি বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর যানবাহন পারাপারে ব্যবহারযোগ্য হবে। এ ছাড়া তীব্র স্রোত ও বাতাসের কারণে ফেরি চলাচল কিছুটা ব্যাহত হওয়ায় ঘাট এলাকায় যানবাহনের দীর্ঘ সারি তৈরি হয়েছে।
বিআইডব্লিউটিসির দৌলতদিয়া অফিস সূত্র জানায়, এ রুটের ২০টি ফেরির মধ্যে রোরো (বড়) বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিন, বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান, ভাষা শহীদ বরকত নামের তিনটি রোরো (বড়) ফেরি এবং একটি কেটাইপ ফেরি কাবেরির প্রপেলসান সিস্টেম (তলদেশের অংশ) সংস্কারের জন্য এক সপ্তাহ আগে নারায়ণগঞ্জ ডকইয়ার্ডে পাঠানো হয়েছে। এছাড়া আরও দুটি ফেরি বিকল রয়েছে।
চালক ও যাত্রীরা জানান, শনিবার বিকেল নাগাদ দৌলতদিয়া ঘাটের জিরো পয়েন্ট থেকে মহাসড়কের দৌলতদিয়া ইউনিয়ন পরিষদ পর্যন্ত অন্তত তিন কিলোমিটার জুড়ে সৃষ্টি হয়েছে যানবাহনের দীর্ঘ সারি। এতে তাদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
দৌলতদিয়া ঘাটের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর নাজমুল হোসেন জানান, ঘাটে যানবাহনের বাড়তি চাপ থাকায় অপচনশীল পণ্যবাহী ট্রাকগুলোকে আটকে রেখে যাত্রীবাহী বাস ও পচনশীল পণ্যবোঝাই ট্রাকগুলোকে অগ্রাধিকার দিয়ে নদী পার করা হচ্ছে।