প্রযুক্তি ভীতি কর্মকর্তাদের

ফাইল দ্রুত ছাড়ার নির্দেশ

উন্নয়ন প্রকল্পের ফাইল দ্রুত ছাড়ার নির্দেশনা দিয়েছেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান। ডিজিটাল প্রযুক্তির যুগে নানা সুযোগ-সুবিধা নেওয়ার পরও কাজের বেলায় কর্মকর্তারা ‘অ্যানালগ’ রয়ে গেছে এমন মন্তব্য করে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেছেন, জনগণের টাকা খাচ্ছেন। তাদের জন্য কাজ করেন। দিনের কাজ দিনে শেষ করবেন, বসিয়ে রাখবেন না।

গতকাল শনিবার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে এনইসি সম্মেলন কক্ষে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের ‘কার্যক্রম বিভাগে একটি নতুন ডিজিটাল ডাটাবেজ সিস্টেম স্থাপনের মাধ্যমে উন্নয়ন বাজেট ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি শক্তিশালীকরণ’ প্রকল্পের ওপর আয়োজিত এক কর্মশালায় এসব কথা বলেন মন্ত্রী। এ সময় পরিকল্পনা বিভাগের সচিব মো. নূরুল আমিন, প্রকল্প পরিচালক মো. ছায়েদুজ্জামান, কার্যক্রম বিভাগের প্রধান মো. খলিলুর রহমান খানসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন। সরকারের বিনিয়োগ (উন্নয়ন বাজেট) ব্যবস্থাপনার দক্ষতা বাড়ানোর লক্ষ্যে কার্যক্রম বিভাগে নতুন ডাটাবেজ ও রিপোর্টিং সিস্টেম স্থাপন করা এ প্রকল্পের উদ্দেশ্য।

পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, ‘আমার কাছে আপনারা নিজের পছন্দমতো ফাইল নিয়ে আসেন। কিন্তু জনকল্যাণমূলক ফাইল আনেন না, এটা করবেন না। আমি আপনাদের বিশ্বাস করে সব ধরনের ফাইল অনুমোদন করে দিই।’ তিনি আরও বলেন, কিছু নথিপত্র খুব দ্রুত পাই। কিন্তু গ্রামের রাস্তাঘাট, কালভার্ট, ব্রিজ, স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসা নির্মাণের মতো নথিগুলো আমার কাছে অনেক ঘুরে দেরিতে পৌঁছায়। এ ধরনের ফাইলগুলোও যেন দ্রুত পাই। আমি স্বাক্ষর করব। কিন্তু জনগণের উপকার যেন হয়।’

মন্ত্রী বলেন, ‘সরকারি প্রকল্পগুলোতে প্রচুর অর্থ ব্যয় করছে। কিন্তু কাজের বেলায় কিছুই হচ্ছে না। কাজের প্রতি দরদ নেই। আপনারা এই খোলসের সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসুন। খোলসে কেবল জনগণের নয়, সরকারেরও ক্ষতি হয়। আগামীতে এসব প্রকল্প ১৫ জুনের মধ্যে শেষ করার জন্য বলা হবে। আমরা সব ফাইল অনলাইনভিত্তিক করব। এতে ফাইল নিয়ে দৌড়ঝাঁপ করতে হবে না। আমাদের অফিস হবে পেপার লেস।’

এ বিষয়ে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, ‘দিন দিন একটা সম্পূর্ণ নতুন জগৎ আসছে। এটা বাংলাদেশে পরে আসবে। কারণ আমরা বিজ্ঞানমনস্ক জাতি নই। অভিজ্ঞও নই। আমরা বিজ্ঞানকে সমীহ করি, কিন্তু বন্ধু ভাবি না। এটা আমাদের চরিত্রের মধ্যে  বৈপরীত্য।’

কর্মশালায় পরিকল্পনা সচিব নূরুল আমিন বলেন, বছরের শেষ বেলা এসে প্রতিটি মন্ত্রণালয় ফাইল পাঠাচ্ছে অর্থ ছাড়ের জন্য। প্রকল্পগুলোর সঠিকভাবে বাস্তবায়ন নিয়ে আমার যথেষ্ট চিন্তা হচ্ছে।