ট্রাকের ঘষায় হাত গেল রাজশাহী কলেজছাত্রের

শঙ্কামুক্ত ফিরোজ, ক্ষতিপূরণ দাবি

রাজশাহীর কাটাখালীতে বিপরীতমুখী ট্রাকের ঘষায় হাত বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া কলেজছাত্র ফিরোজ সর্দার আশঙ্কামুক্ত বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। তবে তার বিচ্ছিন্ন হওয়া হাতটি আর জোড়া লাগানো সম্ভব নয়। গতকাল শনিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অর্থোপেডিক সার্জারি ইউনিটের প্রধান অধ্যাপক আলমগীর হোসেন দেশ রূপান্তরকে এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘ফিরোজ সর্দারকে আমরা হাসপাতালে পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই অপারেশন থিয়েটারে নিই। এরপর অপারেশন সম্পন্ন হয়। পরে সে নিবিড় পর্যবেক্ষণে ছিল। আজ (শনিবার) সকাল থেকে ফিরোজ স্বাভাবিক কথাবার্তা বলছে। তাকে নিয়ে আপাতত কোনো শঙ্কা নেই।’ ফিরোজের কাটা পড়া হাত জোড়া লাগানোর বিষয়ে জানতে চাইলে চিকিৎসক আলমগীর আরও বলেন, ‘বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া হাতটি পুনরায় স্থাপন করার মতো ব্যবস্থা আমাদের দেশে নেই। তবে চাইলে তারা দেশের বাইরে গিয়ে কৃত্রিম হাত লাগাতে পারবে। কিন্তু তার আগে তাকে পুরোপুরি সুস্থ হতে হবে।’

দোষীদের গ্রেপ্তার ও শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন : ফিরোজের হাত হারানোর ঘটনায় দায়ী বাস ও ট্রাকচালকদের গ্রেপ্তার এবং শাস্তির দাবিতে গতকাল দুপুরে মানববন্ধন করেছেন রাজশাহী কলেজের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। রাজশাহী কলেজ রিপোর্টার্স ইউনিটি কলেজ ক্যাম্পাসে এই কর্মসূচির আয়োজন করে। মানববন্ধনে যোগ দিয়ে কলেজের অধ্যক্ষ হবিবুর রহমান বলেন, ‘রোববার (৩০ জুন) ফিরোজ সর্দারের মাস্টার্স পরীক্ষা রয়েছে। কিন্তু হাসপাতালে থাকার কারণে সে এবার আর পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবে না। এটা আমাদের সবার জন্যই কষ্টের।’ ফিরোজের চিকিৎসার সব খরচ রাজশাহী কলেজ কর্র্তৃপক্ষ বহন করবে বলেও মানববন্ধনে ঘোষণা দেন অধ্যক্ষ। মানববন্ধনে উপস্থিত হয়ে ফিরোজের ভাই আরিফুল ইসলাম বলেন, ‘ফিরোজকে নিয়ে পরিবারের অনেক আশা ছিল। লেখাপড়ার একেবারে শেষ পর্যায়ে এসে ওকে হাত হারাতে হলো। ওর ভবিষ্যৎ এখন অন্ধকার।’