ম্যানচেস্টারের ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে এবার এখন পর্যন্ত যে দুটি ম্যাচ হয়েছে ততটা হাই স্কোরিং হয়নি সেগুলো। প্রথম ইনিংসের গড় এখন দেখা যাচ্ছে ২৪০-এর মতো। এবারের বিশ্বকাপে এখানকার ম্যাচ তাই লো স্কোরিং চলছে। অন্য সময় এখানে কিন্তু হাই স্কোরিং ম্যাচ হয়ে থাকে। সেখানেই আজ গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে স্বাগতিক ইংল্যান্ড মুখোমুখি হচ্ছে ভারতের। এখন আবহাওয়া খুব চমৎকার। এ অবস্থায় ব্যাটিং উইকেট থাকার কথা। আমার মনে হচ্ছে ইংল্যান্ড-ভারত ম্যাচটা হাই স্কোরিং হবে। ইংল্যান্ডের জন্য এটা ‘মাস্ট উইন’ ম্যাচ। আসলে
তাদের শেষ দুই ম্যাচের অবস্থা একই। সেমিফাইনালে খেলতে হলে তাদের দুটিতেই জিততে হবে। শুনছি এই ম্যাচে ইনজুরি থেকে ফিরে খেলতে পারেন ওপেনার জেসন রয়। এই ওপেনার না থাকায় ইংল্যান্ডের উড়ন্ত সূচনাটা হচ্ছে না। গেল চার বছর ধরে যেটা নিয়মিত করে দেখাচ্ছিলেন তারা। তার ওপর বিশ্বকাপের আগেই ডোপ কেলেঙ্কারিতে রয়ের নিয়মিত পার্টনার অ্যালেক্স হেলস বাদ পড়ে গেলেন। যদিও জনি বেয়ারস্টো দারুণ ব্যাটসম্যান। কিন্তু বিশ্বকাপের আগে যে ফর্মে ছিলেন তা এখানে দেখা যাচ্ছে না।
ভারতের সঙ্গে ম্যাচ জিততে হলে ইংল্যান্ডের জন্য ওপেনিং পার্টনারশিপ খুব গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, ভারতের বোলিং অ্যাটাক খুব চমৎকার। তাদের জাসপ্রিত বুমরাহ, মোহাম্মদ শামির মতো পেসার দুর্দান্ত পারফরম করছেন। এর সঙ্গে আছেন হার্দিক পান্ডিয়া, কুলদিপ যাদব ও যুজবেন্দ্র চাহাল। এই পাঁচ বোলারই ভালো ফর্মে আছেন।
ইংল্যান্ডের মাস্ট উইন গেম, খেলা তাদের মাটিতেই। কিন্তু মজার ব্যাপার কি জানেন? এই ম্যাচে মাঠে হয়তো ভারতের সমর্থন থাকবে বেশি। তা ৬৫ থেকে ৭০ শতাংশও হতে পারে। বিশেষ করে এই মাঠে ভারত-পাকিস্তানের দর্শক হয় প্রচুর। এদিক দিয়ে স্বাগতিকদের বিপক্ষে তাদের মাটিতে খেলতে নেমে ভারত বাড়তি সুবিধা পাবে বলে মনে হয়। যেহেতু বিরাট কোহলির দল বেশি সমর্থন পাবে, তাই তাদের মনে হতে পারে যে তারা তাদের হোম কন্ডিশনে খেলছেন।
তারপরও দলটা ইংল্যান্ড। গেল চার বছর ধরে দুর্দান্ত ক্রিকেট খেলছিল। যদিও তিনটা ম্যাচ হেরে বিশ্বকাপে ব্যাকফুটে পড়ে গেছে। বিশেষ করে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে হার তাদের বেশি ক্ষতি করেছে। পাকিস্তানের কাছেও হারল। আর তাতে এমন একটা অবস্থা দাঁড়িয়ে গেছে যে গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় ঠেকিয়ে সেমিফাইনালে খেলতে হলে শেষ দুই ম্যাচই জিততে হবে। এখন ৭ ম্যাচে তাদের ৮ পয়েন্ট। দুটি জিতলে হবে ১২। আর ভারতের বিপক্ষে এই ম্যাচটা তাদের জিততেই হবে। কারণ, এটা হারলে তাদের জন্য সবকিছু আরও বেশি কঠিন হয়ে যাবে।
সব মিলে আশা করছি এজবাস্টনে আজ হাড্ডাহাড্ডি এক লড়াই হবে। বিশ্বকাপ শুরুর আগে ইংলিশরা বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়ের এক নম্বরে ছিল। তাদের তিন হার এবং ভারতের ৬ ম্যাচের ৫টিতে জেতা চিত্র বদলে দিয়েছে। ইংল্যান্ডকে দুই নম্বরে নামিয়ে দিয়ে বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়ের এক নম্বর জায়গায় এখন ভারত। এক আর দুইয়ের লড়াইয়ে তাই বিশ্বকাপের অসাধারণ একটা ম্যাচই হয়তো আমরা উপভোগ করব।
বিশ্বকাপ শুরুর আগে যেমনটা ভাবা হয়েছিল তেমনটা ঘটেনি বাস্তবে। এখনো ৩৫০ প্লাস রানের স্কোর তাড়া করে কেউ জিততে পারেনি। এই ম্যাচ নিয়ে আমার আশা, প্রথম ইনিংসে ব্যাট করা দল বড় রান করুক। এরপর সেটা তাড়া করা দল জিতুক। দর্শক হিসেবে এটাই আমি দেখতে চাই।
ইংল্যান্ড হারলে আমাদের মানে বাংলাদেশের জন্য ভালো। সেমিফাইনালে খেলার পথটা আরেকটু সহজ হবে। কিন্তু ক্রিকেটীয় দৃষ্টিকোণ থেকে বিচার করলে আমার চোখে ইংল্যান্ড এগিয়ে থাকবে ভারতের চেয়ে। হোম কন্ডিশন বলে কথা। যদিও টানা দুই ম্যাচ হেরেছে তারা। দুটি দলই ছিল উপমহাদেশের। ভারত ভালো খেলছে ঠিক। বোলিং অসাধারণ। কিন্তু তাদের শীর্ষ তিন ব্যাটসম্যান আউট হওয়ার পর মনে হচ্ছে তাদের আর আত্মবিশ্বাস সেভাবে থাকছে না। তুলনায় ইংল্যান্ডের ব্যাটিং লাইনআপ অনেক এগিয়ে। বিরাট কোহলি, রোহিত শর্মা ও লোকেশ রাহুল আউট হওয়ার পর তাদের ব্যাটিং নিয়ে আমি তেমন বিশ্বাস পাই না। যদিও এমএস ধোনি ভালো খেলছেন। তারপরও কিন্তু কন্ডিশন অনুযায়ী চিন্তা করলে ওই বিশ্বাসটা পাওয়া যায় ইংল্যান্ডের ব্যাটিংয়ে। তাই আমার কাছে ইংল্যান্ড ফেভারিট থাকবে এই ম্যাচে।