সাবেক রাষ্ট্রপতি ও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের কবরসহ জাতীয় সংসদের মূল নকশার বাইরে যেসব স্থাপনা রয়েছে, তা অপসারণ করতে সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক। গতকাল শনিবার সংসদে ২০১৯-২০ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে মন্ত্রী বলেন, জাতীয় সংসদ চত্বরে মূল নকশার বাইরে জিয়ার কবরসহ যেসব স্থাপনা হয়েছে, এখানে আরও কিছু কবর দেওয়া হয়েছে, সেগুলো অপসারণের অনুরোধ করছি।
মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করে জিয়া ও তার তাঁবেদাররা সবাই মিলে বাকশালকে গালিতে পরিণত করেছিলেন। অথচ সে সময় বস্তুত বাকশালের মাধ্যমে কোনো রাজনৈতিক দলকে বন্ধ করা হয়নি। রাজনৈতিক দলের কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত করে জাতীয় দল গঠন করা হয়েছিল। আওয়ামী লীগকেও তখন স্থগিত করা হয়েছিল। বাঙালির মুক্তি ও শোষিতের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য যে কর্মসূচি দেওয়া হয়েছিল, এ ছাড়া বাংলার মানুষের মুক্তি আসতে পারে না। তা বিগত দিনে প্রমাণিত হয়েছে। আজকের প্রধানমন্ত্রী সেই অর্থনীতিকে পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য কাজ করে যাচ্ছেন।
এ ছাড়া গতকাল সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে সরকারি দলের সাংসদ নুরুন্নবী চৌধুরীর প্রশ্নের জবাবে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী বলেন, এ পর্যন্ত ৩ হাজার ১০৭ জন ভুয়া মুক্তিযোদ্ধার সনদ বাতিল করা হয়েছে। গত ১০ বছরে বাদ পড়া মুক্তিযোদ্ধা ক্যাটাগরি অনুযায়ী অর্থাৎ বেসামরিক গেজেট, নারী মুক্তিযোদ্ধা (বীরাঙ্গনা), মুজিবনগর সরকারের কর্মচারী, চিকিৎসাসেবা প্রদানকারী মেডিকেল টিম, শব্দসৈনিক, শহীদ এবং যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাসহ ৪ হাজার ১৮৮ মুক্তিযোদ্ধার নাম গেজেটভুক্তির জন্য সরকারের কাছে সুপারিশ করা হয়েছে।
সরকারি দলের হাবিবা রহমান খানের এক প্রশ্নের জবাবে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল-বিসিসির ডাটা সেন্টারে সংরক্ষিত ডাটাবেজে মুক্তিযোদ্ধাদের ভারতীয় তালিকা, লাল মুক্তিবার্তা, সাময়িক সনদসহ বিভিন্ন ধরনের গেজেটের ডিজিটাইজেশন করা তথ্য সংরক্ষিত রয়েছে। এ তালিকা মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের তথ্য বাতায়নে প্রদর্শিত হচ্ছে।
অচিরেই সারা দেশে একদিনে, একযোগে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের ডিজিটাল সার্টিফিকেট বা পরিচয়পত্র প্রদান করা হবে বলেও জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, প্রত্যেক মুক্তিযোদ্ধার মুক্তিযুদ্ধের সময় দায়িত্ব পালন ও অভিজ্ঞতা ১০ থেকে ২০ মিনিট রেকর্ড করার জন্য উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এগুলো আমরা স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করব।
এর আগে গত নবম ও দশম জাতীয় সংসদের একাধিক বৈঠকে জাতীয় সংসদ চত্বর থেকে জিয়াউর রহমানের কবরসহ লুই আই কানের নকশাবহির্ভূত যেসব স্থাপনা রয়েছে তা সরানোর বিষয়ে কথা ওঠে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে গণপূর্ত মন্ত্রণালয় ও জাতীয় সংসদ সচিবালয় উদ্যোগী হয়ে যুক্তরাষ্ট্র থেকে লুই কানের মূল নকশা সংগ্রহ করে। তবে ২০১৬ সালের ডিসেম্বরে নকশা আনা হলেও গত আড়াই বছরে নকশাবহির্ভূত স্থাপনা সরানোর কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি।