বরগুনার রাস্তায় স্ত্রীর সামনে রিফাত শরীফকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যার প্রধান আসামি সাব্বির হোসেন নয়ন ওরফে নয়ন বন্ড ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হয়েছেন।
সোমবার রাতে জেলার পুরাকাটা গ্রামে এ বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন বরগুনা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবির মোহাম্মদ হোসেন।
পুলিশের দাবি, ঘটনাস্থল থেকে একটি পিস্তল, এক রাউন্ড গুলি, দুইটি শর্টগানের গুলির খোসা এবং তিনটি দেশীয় ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় চার পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন।
নয়ন বন্ডের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বরগুনা জেলা হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
ওসি আবির মোহাম্মদ হোসেন জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রিফাত হত্যা মামলার প্রধান আসামি সাব্বির হোসেন নয়ন ওরফে নয়ন বন্ডকে গ্রেপ্তার করতে বরগুনা সদর উপজেলার বুড়ির চর ইউনিয়নের পুরাকাটা নামক এলাকায় অভিযান চালায় পুলিশ। এ সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে গুলি চালায় নয়ন বন্ড ও তার সহযোগীরা।
পুলিশও আত্মরক্ষার্থে পাল্টা গুলি চালায়। গোলাগুলির এক পর্যায়ে নয়ন বন্ড বাহিনী পিছু হটে। পরে ঘটনাস্থলে তল্লাশি করে নয়ন বন্ডের গুলিবিদ্ধ মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
গত বুধবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বরগুনা সরকারি কলেজের সামনে সন্ত্রাসীরা প্রকাশ্যে রামদা দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে রিফাত শরীফকে। তার স্ত্রী আয়েশা আক্তার মিন্নি হামলাকারীদের সঙ্গে লড়াই করেও তাদের দমাতে পারেননি।
একাধারে রিফাতকে কুপিয়ে বীরদর্পে অস্ত্র উঁচিয়ে এলাকা ত্যাগ করে হামলাকারীরা। তারা চেহারা লুকানোরও কোনো চেষ্টা করেনি।
গুরুতর আহত রিফাতকে এদিন বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে বিকেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
নিহত রিফাতের বাবা দুলাল শরীফ দেশ রূপান্তরকে জানান, তার ছেলে দুই মাস আগে বরগুনার পুলিশ লাইন এলাকার জনৈক কিশোরের মেয়ে আয়শা আক্তার মিন্নিকে বিয়ে করে। বিয়ের পর মিন্নিকে নিজের সাবেক স্ত্রী দাবি করে উত্ত্যক্ত করতে শুরু করে শহরের পশ্চিম কলেজ সড়কের নয়ন বন্ড নামে এক যুবক। সে ফেইসবুকে বিভিন্ন আপত্তিকর ছবিও পোস্ট করে। এই নিয়ে রিফাতের সঙ্গে নয়নের বিরোধ সৃষ্টি হয়। এর জের ধরে বুধবার সকালে নয়ন, রিফাত ফরাজী, রিশান ফরাজী ও রাব্বি আকন রিফাতকে কুপিয়ে জখম করে ফেলে রেখে যায় বলে অভিযোগ করেন দুলাল শরীফ।
এ ঘটনায় রিফাতের বাবা দুলাল শরীফ বাদী হয়ে ১২ জনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। এ মামলার মূল আসামি নয়ন বন্ড ও রিফাত ফরাজী ঘটনার পর থেকে পলাতক ছিলেন।
এর আগে এ মামলায় এজাহারভুক্ত দু’জন ও সন্দেহজনক চারজনকে গ্রেপ্তারের কথা জানিয়েছেন বরগুনার পুলিশ সুপার মো. মারুফ হোসেন। তারা হলেন- এজাহারভুক্ত চন্দন ও মো. হাসান। এ ছাড়া জড়িত সন্দেহে মো. নাজমুল হাসান, তানভীর, মো. সাগর ও কামরুল হাসান সাইমুনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।