টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে দুই ছাত্রীর শ্লীলতাহানির ঘটনায় মির্জাপুর মহিলা কলেজ অধ্যক্ষ হারুন অর রশিদকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
এছাড়া অভিযোগের বিষয়ে ১৫ দিবসের মধ্যে তাকে কারণ দর্শাতে বলা হয়েছে।
মঙ্গলবার সকালে কলেজ পরিচালনা পরিষদের সভাপতি মো. জাকির হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
শ্লীলতাহানির ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে গত ২৪ জুন কলেজ পরিচালনা পরিষদের সভায় অধ্যক্ষ হারুন রশিদকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।
উল্লেখ্য, গত ২০ ডিসেম্বর দুপুর বারটার দিকে মির্জাপুর মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ হারুন অর রশিদ কলেজের একটি কক্ষে আটকিয়ে দুই ছাত্রীকে শ্লীলতাহানি করে বলে দুই ছাত্রীর মা মির্জাপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন। ঘটনাটির সত্যতা উদ্ঘাটনের জন্য উপজেলা নির্বাহী অফিসার আব্দুল মালেক উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা হারুন অর রশিদকে প্রধান করে তিন সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেন। কমিটির অপর দুই সদস্য হলেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মশিউর রহমান ও মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা মিনু পারভিন।
তদন্ত কমিটি ছাত্রী (ভিকটিম) ও তার মা, দু'জন প্রত্যক্ষদর্শী ও অধ্যক্ষ হারুন অর রশিদের বক্তব্য প্রহণ করে ঘটনার সত্যতা পায় বলে তদন্ত কমিটির সদস্য ও উপজেলা শিক্ষা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা হারুন অর রশিদ দেশ রূপান্তর’কে নিশ্চিত করেছেন। পরে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রতিবেদন উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নিকট দাখিল করেন।
মির্জাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল মালেক জানান, তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় অধ্যক্ষ হারুন অর রশিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হয়েছিল।
মির্জাপুর মহিলা কলেজ পরিচালনা পরিষদের সভাপতি মো. জাকির হোসেন বলেন, কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে কলেজ পরিচালনা পরিষদের সভায় শ্লীলতাহানি, স্বেচ্ছাচারিতা আর আর্থিক অনিয়ম এই তিন অভিযোগের ভিত্তিতে অধ্যক্ষকে হারুন অর রশিদকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এছাড়া ১৫ দিবসের মধ্যে কারণ দর্শাতে বলা হয়েছে। উপযুক্ত কারণ দর্শাতে ব্যর্থ হলে তাকে স্থায়ীভাবে বরখাস্ত করা হবে বলে তিনি জানান।
এদিকে ভিকটিমের মা অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আদালতে একটি মামলা করবেন বলেও জানিয়েছেন।