১৬১ টেস্টে ১২৪৭২ রান। চাইলেই শচীন টেন্ডুলকারের রেকর্ড তাড়া করতে পারতেন। করেননি। ভারতের বিপক্ষে নাগপুরে অভিষেক, শেষ টেস্ট ওভালে, একই দেশের সঙ্গে। ক্রিকেট-কলমচি হিসেবে সৌভাগ্য, দুবারই হাজির থেকে দেখেছিলাম শতরান করতে। অ্যালিস্টার কুক ভদ্র, বিনয়ী, বিতর্ক থেকে বহু দূরে তার অবস্থান। বিশ্বকাপ চলছে দেশে, বিশেষ কিছু বলতে নারাজ। উপভোগ করছেন অবসরোত্তর জীবন, খেলছেন কাউন্টিতেও। তার সঙ্গে কথার সময় পাশে ছিলেন হরভজন সিং, যিনি অভিষেক টেস্টে ফেলেছিলেন কুকের ক্যাচ! কিন্তু, অ্যালিস্টারের সঙ্গে কখনো কোনো ঝামেলা হয়নি, একবারও সেøজিং করেননি, নিজেই স্বীকার করলেন ভাজ্জি! আর কুক? সাক্ষাৎকার শেষে নিজেই মোবাইল নম্বর, ইমেল আইডি দিয়ে বলে গেলেন, যোগাযোগ রাখবেন। সত্যিই অন্যরকম, ক্রিকেটের নতুন স্যার!
আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর নিয়ে কেমন আছেন?
বেশ ভালো। ক্রিকেটেই আছি তো। কাউন্টি খেলছি। মাঝেমাঝে ধারাভাষ্যও দিই। পরিবারকে সময় দিতে পারছি। সব মিলিয়ে, ফাইন!
এখন তো আপনি স্যার! জীবন কতটা পাল্টাল?
না না, কিছুই পাল্টায়নি। একইরকম। নাইটহুড একটা উপাধি মাত্র। হ্যাঁ, অত্যন্ত সম্মানের তো বটেই। প্রত্যাশাই করিনি, এতটা তাড়াতাড়ি আমাকে ওই সম্মান দেওয়া হবে।
খবরটা যখন পেয়েছিলেন যে আপনাকে নাইটহুড দেওয়া হবে, কী মনে হয়েছিল?
রানীর বাড়ি থেকে নাইটহুড পাওয়ার খবরটা শুনে, সত্যি কথা বলতে কি, চমকে গিয়েছিলাম। শেষ টেস্ট ম্যাচ খেলার পরের ছয় মাস যেন স্বপ্নের মতো। শুধু রোমাঞ্চ, নাথিং এলস। এ সবেরই অঙ্গ হিসেবে পেয়েছি স্যার উপাধি। বিভিন্ন অনুষ্ঠানে আমাকে স্যার অ্যালিস্টার কুক বলে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয় বটে। আমি অবশ্য এই শব্দটা ব্যবহার করি না। হয়তো বয়স কম বলেই!
এত কম বয়সে স্যার উপাধি পাওয়া নিশ্চয়ই অন্যরকম? মনে আছে, শচীন টেন্ডুলকার খেলা ছাড়ার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ভারতরতœ পেয়েছিলেন।
আমার আগে নাইটহুড উপাধি পেয়েছিল স্যার ইয়ান বোথাম। খবরটা জানাজানি হওয়ার পর থেকেই যারা আমাকে টেলিফোনে অভিনন্দন জানিয়েছিল, স্যার ইয়ান বোথাম তাদের মধ্যে একজন। তার সঙ্গে যোগাযোগ আছে নিয়মিত। হোয়াট আ ক্রিকেটার হি ওয়াজ।
জীবনের প্রথম টেস্টে সেঞ্চুরি। শেষ টেস্টেও। ছিলাম দুবারই। মনে পড়ছে, অভিষেক টেস্টে ৬০ রানে আপনার ক্যাচ ফেলেছিলেন হরভজন সিং, নিজের বলেই!
এজন্য হরভজনের প্রতি আমার কৃতজ্ঞতার শেষ নেই। কোনোদিন আমার সঙ্গে ভাজ্জির গ-গোল হয়নি। (হরভজন বললেন, ‘কার ক্যাচ ছেড়েছিলাম! যে কি না ১২৪৭২ রানে
থামল। এ কথাও মুক্তমনে বলব যে, আমি কখনো অ্যালিস্টারকে সেøজ করিনি। আমার ওই ক্যাচ ফেলা যদি একজন ক্রিকেটারকে কিংবদন্তি করে থাকে, তাহলে আমার কোনো আক্ষেপ নেই। হি ইজ অ্যাবসলিউটলি আ লেজেন্ড।)
ন্যাটওয়েস্ট জিতে সৌরভ গাঙ্গুলির জার্সি ওড়ানোর ব্যাপারটা নিশ্চয়ই মনে আছে। আপনার কি মনে হয়, মুম্বাইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে অ্যান্ড্রু ফ্লিনটফ যেভাবে জার্সি খুলে দৌড়েছিলেন, ন্যাটওয়েস্ট ট্রফি জেতার পর সৌরভের জামা ওড়ানোটা কি তার জবাব?
এটুকুই বলব, ব্যাপারটা কিন্তু বেশ মজার ছিল।
ইংল্যান্ডে বিশ্বকাপ হচ্ছে। অবসর না নিলে দেশের মাঠে বিশ্বকাপ খেলার সুযোগও পেতে পারতেন...
মনে হয় না। শেষ চার বছরে আমি কটা একদিনের ম্যাচ খেলেছিলাম? সুতরাং, অবসর না নিলেও বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ আসত না আমার কাছে।
আপনি তো বোধহয় সীমিত ওভারের ক্রিকেট নিয়ে ততটা আগ্রহীও ছিলেন না। আইপিএলেও খেলেননি।
আমার মনে হয়, ঠিক সময়ে খেলা ছেড়েছি। নির্বাচকরা আমাকে ধাক্কা দিয়ে বের করার সুযোগ পায়নি। সব ভালো জিনিসের শেষ আছে। শেষ করতে জানতে হয়। সবদিক ভেবেই আমি অবসর নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। এজন্য আমার কোনোরকমের আক্ষেপ নেই। আমার বন্ধু অ্যান্ডারসন চেয়েছিল, আমি যেন আরও কয়েকটা মৌসুম খেলা চালিয়ে যাই। ওকেও বুঝিয়েছি। মনে হয় ও দ্রুত ৬০০ টেস্ট উইকেট পেয়ে যাবে।
কেন শুধুই টেস্ট?
আমি মন দিয়ে টেস্ট ম্যাচ খেলে গেছি, কারণ আমার মনে হয়েছে, ওটাই সেরা মঞ্চ। আনন্দ পেয়েছি, খেলেও গিয়েছি।