দুই বছর বয়সে মারা যান বাবা হোসেন আলী। শিশু বয়সেই এ ছেলেকে রেখে আবার বিয়ে করেন মা। মা-বাবাহীন শিশু আল আমিনের ঠাঁই হয় মাগুরা সদর উপজেলার মহিষাডাঙ্গা গ্রামে নানা লিয়াকত আলীর সংসারে।
সেখানে বড় হচ্ছিল আল আমিন। অভাব অনাটনের নানা বাড়িতে থেকে খুব একটা লেখাপড়া করা সম্ভব হয়নি। নিজের পায়ে দাঁড়াতে মাত্র ১৪ বছর বয়সে উপার্জনের পথ খুঁজতে হয়েছে তাকে।
মে মাসে স্থানীয় একটি এনজিও’র ঋণে ব্যাটারিচালিত একটি নতুন ইজিবাইক কেনে সে। কে জানত এই ইজিবাইকই কাল হয়ে দাঁড়াবে তার জীবনে।
মঙ্গলবার ভাড়ার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বেরিয়ে আর ঘরে ফেরেনি আল আমিন। বুধবার মাগুরা সদর উপজেলার কুকিলা গ্রামের একটি পাট খেতে পাওয়া গেছে তার গলাকাটা লাশ।
কে বা কারা তাকে হত্যা করে তার ইজিবাইকটি নিয়ে যায়।
মাগুরা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সিরাজুল ইসলাম জানান, সকালে পাট খেতে নিহতের গলাকাটা লাশ দেখে এলাকাবাসী পুলিশে খবর দেয়। সদর থানা পুলিশ লাশটি উদ্ধার করে। খবর পেয়ে নিহতের পরিবারের লোকজন সেখানে এসে আল আমিনের পরিচয় নিশ্চিত করে। ইজিবাইকটি উদ্ধারসহ হত্যায় জড়িতদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে বলে পুলিশ জানায়।
নিহতের মামা ইলিয়াস হোসেন জানান, মঙ্গলবার সকালে অন্যান্য দিনের মতো ইজিবাইক নিয়ে ভাড়ার উদ্দেশে বাড়ি থেকে বের হয় সে। সন্ধ্যার পর সর্বশেষ তার সঙ্গে মোবাইলে ফোনে কথা হয় নানা বাড়ির পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে। তিনি জানান, তখন জানিয়েছিল সদর উপজেলার জগদল বাজার এলাকায় আছে সে। মাগুরা শহরের একটি ভাড়া পেয়েছে সেটি নামিয়ে দিয়েই বাড়ি ফিরবে।
পরে তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায় এবং সকালে কুকিলায় লাশ পাওয়া যায়।
তার ইজিবাইকটি পাওয়া যায়নি। ইজিবাইকটি ছিনিয়ে নিতেই এই হত্যা বলে তাদের ধারণা।
কয়েক দিন আগে সাতক্ষীরায় আরেক কিশোরকে কুপিয়ে তার ভ্যান ছিনতাই করা হয়। যা সারা দেশে আলোচিত হয়। পরে ওই কিশোরের ভ্যান উদ্ধার করে পুলিশ। আহত শাহীনের চিকিৎসায় এগিয়ে আসেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।