ভারতের ১৭তম লোকসভা নির্বাচনে পরাজয়ের দায় নিয়ে কংগ্রেস সভাপতির পদ থেকে রাহুল গান্ধী বিদায় নিয়েছেন বলে জানিয়েছে এনডিটিভি। গত ২৩ মে ভোটের ফল প্রকাশের দুই দিনের মাথায় পার্টির ওয়ার্কিং কমিটির (সিডব্লিউসি) কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছিলেন রাহুল। কিন্তু তখন তাকে সিদ্ধান্ত পাল্টানোর জন্য অনুরোধ করেন পার্টির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা।
কিন্তু নিজের সিদ্ধান্তে অনড় রাহুল গতকাল বুধবার দলীয় সভাপতির পদে না থাকার বিষয়ে তার অবস্থান স্পষ্ট করেছেন। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেছেন, ‘আমি আর কংগ্রেস সভাপতি নই। আমি ইতিমধ্যে পদত্যাগ করেছি। সিডব্লিউসির উচিত দ্রুতই বৈঠকে বসা এবং নতুন কংগ্রেস সভাপতি নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।’
সভাপতি পদ ছাড়ার পর এক টুইটে রাহুল গান্ধী বলেন, ‘কংগ্রেস পার্টির নেতৃত্ব দিতে পেরে আমি সম্মানিত। এই পার্টির আদর্শ ও মূল্যবোধ এই সুন্দর দেশে প্রবাহিত। এই দেশ ও আমার পার্টির কাছে আমি ঋণী। কংগ্রেসের সভাপতি হিসেবে আমি ২০১৯ সালের নির্বাচনে পরাজয়ের জন্য দায়ী। পার্টির ভবিষ্যৎ অগ্রগতির জন্য দায়িত্ব বড় বিষয়। আর এ কারণেই আমি সভাপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেছি।’
রাহুলকে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত থেকে সরিয়ে আনার চেষ্টার অংশ হিসেবে দুই দিন আগে কংগ্রেস ক্ষমতাসীন রাজ্যগুলোর মুখ্যমন্ত্রীরা তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। তবে তাদের কারও কথায় কান দিলেন না ভারতের রাজনীতিতে প্রভাবশালী গান্ধী-নেহরু পরিবারের উত্তরসূরি রাহুল।
কংগ্রেসের পক্ষ থেকেও জানানো হয়, রাহুলের পদত্যাগ গ্রহণ করেছে পার্টি। তবে কে দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন তা নিয়ে কিছু জানা যায়নি। দলটির নেতৃত্বে বেশির ভাগ সময়ই ছিল নেহরু ও গান্ধীর পরিবারের সদস্যরা। রাহুলের এমন সিদ্ধান্তের কারণে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যেই নতুন নেতা নির্বাচিত করবে কংগ্রেস। রাহুল গান্ধী নিজেই বলেছেন, নতুন নেতা যেন গান্ধী পরিবারের বাইরের কেউ হয়।
গত লোকসভা নির্বাচনে মাত্র ৫২টি আসনে জয় পায় কংগ্রেস। অপরদিকে ৩০৩ আসনে জয়ী হয়ে টানা দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় বসে নরেন্দ্র মোদি নেতৃত্বাধীন বিজেপি সরকার। নির্বাচনে এই পরাজয়ের নৈতিক দায় নিয়ে ২৫ মে কংগ্রেসের ওয়ার্কিং কমিটির সভায় পদত্যাগপত্র জমা দেন রাহুল। সে সময় তার পদত্যাগপত্র নাকচ করে উল্টো তাকে দলের সব পর্যায়ে পরিবর্তন আনার ক্ষমতা দিয়েছিল ওয়ার্কিং কমিটি।