নাদিয়া জোরে করমর্দন করলেও কুশলবিনিময়ের সময় তার গলা কাঁপছিল। জানালায় হেলান দিয়ে বসে এই নারী তার বেদনাদায়ক অতীতের বর্ণনা দিচ্ছিলেন, যিনি সন্ত্রাসীদের মুঠো থেকে বেরিয়ে বাগদাদের নারী পাচারকারী চক্রের কবলে পড়েছিলেন। ইরাকে ইসলামিক স্টেটের (আইএস) পতনের পর নাদিয়ার মতো অনেকের গল্প বেরিয়ে আসছে। জঙ্গি গোষ্ঠীটির শেষ দেখার পর মানব পাচারকারী নেটওয়ার্কের উত্থান হয় যুদ্ধপীড়িত দেশটিতে।
ইরাকের উত্তরাঞ্চলীয় সিনজার এলাকায় বাস করছিলেন নাদিয়া। ২০১৪ সালে আইএস সংখ্যালঘু ইয়াজিদি সম্প্রদায়ের হাজার হাজার নারী ও মেয়েকে ধরে নিয়ে যৌন দাসত্বে বাধ্য করে। তাদের একজন ছিলেন নাদিয়া। কিন্তু সেখান থেকে পরিবারের সঙ্গে পালিয়ে পাহাড়ি পথ বেয়ে ইরাকের কুর্দিস্তানে বাস্তুচ্যুত লোকজনের একটি ক্যাম্পে আসার কথা সিএনএনকে জানান তিনি। নিরাপত্তার স্বার্থে নাদিয়ার আসল নাম ব্যবহার করেনি সিএনএন।
নাদিয়া সংবাদমাধ্যমটিকে বলেন, তার মতো ভাগ্যবান নয়, এমন মানুষের ভবিষ্যৎ নিয়ে তিনি এখনো শঙ্কিত। তিনি আরও জানান, আইএসের কাছ থেকে পালানোর সময় একজনের সঙ্গে পরিচয় হয়েছিল তার। ওই পুরুষ নিজেকে ইয়াজিদিদের জন্য মানবিক সহায়তার সমন্বয়ক হিসেবে পরিচয় দেন। ওই লোকটিকে বিশ্বস্ত বন্ধু মনে করে তার কাছে অর্থ পাঠাতে থাকেন তিনি।
নাদিয়া আরও জানান, পাচারকারী চক্রের পুরুষটির সঙ্গে কথা বলে আশ্বস্ত হয়ে তিনি ক্যাম্পে ইয়াজিদি নারীদের মুক্তির জন্য বিক্ষোভের সংগঠক হিসেবেও কাজ করেন। এরপর থেকে তার কাছে বিভিন্ন কল আসা শুরু হয়। এই নারী বলেন, ‘ফোনে আমাকে হুমকি দেওয়া হতো।’ কারা সে হুমকি দিত, তা জানতেন না নাদিয়া। ওই মুহূর্তের বাস্তবতা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আমি নিজের জন্য নয়, ভীত ছিলাম আমার ছোট বোনের কারণে। তারা বলত, তুমি না এলে আমরা জানি, কোন জায়গায় স্কুলে যায় তোমার বোন।’
এমন পরিস্থিতির মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয়ের আবেদনে সহায়তাকারী একটি বেসরকারি সংস্থার চিঠি পান নাদিয়া। ওই সময় বন্ধু মনে করা লোকটির কাছে গিয়ে বাগদাদে দূতাবাসে নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে সাহায্য চান তিনি। কিন্তু বাগদাদ যাওয়ার পথেই ঘটে দুর্ঘটনা। বাগদাদের পাশে মাদক গ্যাংগুলোর জন্য কুখ্যাত একটি এলাকায় আসার পর অচিন্তনীয় ঘটনাটি ঘটে। বন্ধুবেশী লোকটি নাদিয়াকে তুলে দেয় একজন বয়স্ক মানুষের হাতে, যিনি তাকে নিয়ে যান একটি জীর্ণশীর্ণ ভবনে। ওই ব্যক্তিটি নারী পাচারকারী দলের প্রধান ছিলেন।