জয়ে বিশ্বকাপ শেষ করল ওয়েস্ট ইন্ডিজ

মনের ঝাল হয়ত মিটেছে জেসন হোল্ডারের। বিশ্বকাপের শুরুতেই আফগানিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচটি জেতার টার্গেট করে রেখেছিলেন। লক্ষ্য পূরণের জন্য টুর্নামেন্টে নিজেদের শেষ ম্যাচ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হলো তাকে। অবশেষে ম্যাচটিতে প্রত্যাশিতভাবেই জিতল তার দল। ২৩ রানের জয় দিয়ে বিশ্বকাপে নিজেদের অভিযান শেষ করেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। একই সঙ্গে বিশ্বকাপ অভিযান শেষ হলো ‘দি ইউনিভার্স বস’ ক্রিস গেইলেরও। ম্যাচে আগে ব্যাট করে ৬

উইকেটে ৩১১ রানের বড় সংগ্রহ গড়ে ক্যারিবিয়ানরা। লড়াকু আফগানিস্তান ২৮৮ রানে অলআউট হয়।

ওয়েস্ট ইন্ডিজ অধিনায়কের আফগানিস্তানকে হারানোর আলাদা টার্গেট ঠিক করে রাখার কারণ আছে। গত বছর মার্চে জিম্বাবুয়েতে বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে দুবারের মোকাবিলায় দুবারই আফগানদের কাছে হেরেছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। সুপার সিক্স পর্বে প্রথম ম্যাচ। আর ফাইনালে দ্বিতীয়বারের লড়াইয়েও জিততে পারেনি ক্যারিবিয়ানরা। সেই থেকে বিশ্বকাপের জন্য অপেক্ষায় ছিলেন হোল্ডার। অবশেষে কাক্সিক্ষত সাফল্য পেলেন। এতে ৯ ম্যাচে ৫ পয়েন্ট সংগ্রহ করেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। আর সবকটি ম্যাচে হার নিয়ে শেষ হলো আফগানিস্তানের।

তবে এ ম্যাচেও ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ভয় ধরিয়ে দিয়েছিল আফগানরা। শুরুতে অধিনায়ক গুলবাদিন নাইবকে হারালেও ভেঙে পড়েনি তারা। রহমত শাহ ও ইকরাম আলিখাইল মিলে পাল্টা চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেন। রহমত শাহ ক্যারিয়ারের ১৩তম ওয়ানডে হাফসেঞ্চুরি তোলেন। এটি তার প্রথম বিশ্বকাপ হাফসেঞ্চুরিও। এদিকে ইকরাম তুলে নেন ক্যারিয়ারের প্রথম ওয়ানডে হাফসেঞ্চুরি। অসাধারণ খেলা এই তরুণ ক্যারিয়ারের প্রথম ওয়ানডে সেঞ্চুরি থেকে ১৪ রান দূরে থাকতে বিদায় নেন। রহমত ও ইকরাম মিলে ১৩৩ রানের জুটি গড়েন। এ জুটিতেই বড় কিছুর স্বপ্ন দেখতে থাকে আফগানিস্তান। রহমত ৭৮ বলে ৬২ করে বিদায় নিলেও নাজিবুল্লাহ জাদরানের সঙ্গে এগিয়ে যেতে থাকেন ইকরাম। অবশেষে ৯৩ বলে ৮৬ রানের অসম্ভব সুন্দর একটি ইনিংস খেলে ফিরে যান এই তরুণ। পরে নাজিবুল্লাহ ৩৮ বলে ৩১ ও অভিজ্ঞ আসগর আফগানের ৩২ বলে ৪০ রানে জয়ের ব্যবধান কমাতে পারে আফগানিস্তান। শেষ দিকে ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় ওয়ানডে খেলতে নামা সায়েদ শিরজাদ ১৭ বলে ২৫ করে দলকে ২৮৮ রানে পৌঁছে দেন। ওয়ানডেতে যা আফগানিস্তানের সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহের রেকর্ড।

নিজেদের শেষ ম্যাচে ওপেন করতে নামেন এভিন লুইস এবং গেইল। ক্যারিয়ারের শেষ বিশ্বকাপ ম্যাচটি সুখকর স্মৃতি হলো না গেইলের। মাত্র ৭ রান করে ফিরে যান তিনি। ইনজুরি থেকে ফিরে লুইস ৫৮ রানের ঝলমলে ইনিংস খেলেন। গেইল আউট হওয়ার পর দ্বিতীয় উইকেটে ৮৮ রানের জুটি গড়েন শেই হোপ এবং লুইস। গতকাল হোপ খেলেছেন ৭৭ রানের ইনিংস। প্রতিভাবান শিমরন হেটমায়ার তেমন সুবিধা করতে পারেননি। ৩১ বলে ৩৯ রান করে তিনি প্যাভিলিয়নে ফেরেন। এরপর শেই হোপ আউট হন। উইন্ডিজের স্কোর তখন ১৯২। নিকোলাস পুরান এবং জেসন হোল্ডার জুটি বাঁধেন তারপর। এই সময়টাতেই উইন্ডিজ খেলছিল উইন্ডিজের মতো। রানটাও তাই তরতর করে বাড়তে থাকে। পঞ্চম উইকেটে ১০৫ রানের জুটি গড়েন তারা। একই ওভারে আউট হন পুরান এবং হোল্ডার। মাত্র ৪৩ বলে ৫৮ রান করেন পুরান। গতকাল ছয়টি বাউন্ডারি আর একটি ছক্কা হাঁকান তিনি। অধিনায়ক হোল্ডার অবশ্য হাফ-সেঞ্চুরি পাননি। ৪৫ রানে আউট হয়েছেন। একটি বাউন্ডারির সঙ্গে চারটি ছক্কা মারেন তিনি। শেষ দিকে কার্লোস  ব্রাফেট ৪ বলে ১৪ রান করলে উইন্ডিজের রান তিনশো পেরোয়। শেষ ১০ ওভারেই ১১১ রান তোলে তারা। আফগানিস্তানের পক্ষে দুটি উইকেট নেন দৌলত জাদরান। মোহাম্মদ নবি এবং রশিদ খান একটি করে উইকেট নিয়েছেন।