দেশজুড়ে আলোচিত বরগুনার রিফাত শরীফ হত্যায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছে আরও চারজন। এরা হলো রিফাত হত্যা মামলার ৪ নম্বর আসামি চন্দন, ৯ নম্বর আসামি মো. হাসান এবং সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রেপ্তার করা নাজমুল হাসান ও মো. সাগর। এর মধ্যে গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর চন্দন ও মো. হাসান এবং গতকাল শুক্রবার রাতে নাজমুল হাসান ও মো. সাগর বরগুনার জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম গাজীর আদালতে জবানবন্দি দেয়। এ ছাড়া শুক্রবার অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রেপ্তার করা কামরুল হাসান সাইমুনকে ৫ দিনের রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ।
রিফাত শরীফ হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির দেশ রূপান্তরকে জানান, চন্দন ও হাসানকে গ্রেপ্তারের পর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য গত ২৮ জুন আদালতের নির্দেশে ৭ দিনের রিমান্ডে নেয় পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে বৃহস্পতিবার আদালতে হাজির করা হলে চন্দন ও হাসান রিফাত হত্যাকাণ্ডে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে। আদালতে জবানবন্দি দেওয়া শেষে চন্দন ও হাসানকে বিচারকের নির্দেশে কারাগারে পাঠানো হয় বলেও জানান পুলিশ কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির।
তিনি আরও জানান, রিফাত হত্যায় জড়িত থাকার সন্দেহে গ্রেপ্তার নাজমুল হাসানকে প্রথমে তিন দিনের এবং পরে আরও ৫ দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ। এ ছাড়া কামরুল ইসলাম সাইমুন এবং মো. সাগরকে ৫ দিনের রিমান্ডে নেয় পুলিশ। রিমান্ড শেষে শুক্রবার সন্ধ্যার পর তাদের বরগুনার জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিমের আদালতে হাজির করা হয়। নাজমুল হাসান ও সাগর বিচারকের কাছে হত্যাকা-ে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে জবানবন্দি দেয়। অন্যদিকে কামরুল হাসান সাইমুনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৫ দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়।
এর আগে গত পহেলা জুলাই এজাহারভুক্ত ১১ নম্বর আসামি অলি এবং তানভীর রিফাত শরীফকে হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেয়। এ নিয়ে দেশব্যাপী আলোচিত এই মামলার ৪ আসামি হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিল।
গত ২৬ জুন বরগুনা শহরের কলেজ রোডে বহু পথচারীর উপস্থিতিতে স্ত্রী আয়েশা আক্তার মিন্নির সামনে রিফাত শরীফকে রামদা দিয়ে কুপিয়ে ক্ষতবিক্ষত করে একদল যুবক। এ সময় মিন্নি প্রাণপণ চেষ্টা করে হামলাকারীদের বাধা দিলেও স্বামীকে রক্ষা করতে পারেননি। রিফাতকে কুপিয়ে অস্ত্র উঁচিয়ে এলাকা ত্যাগ করে হামলাকারী ওই যুবকরা। এমনকি তারা চেহারা লুকানোরও কোনো চেষ্টা করেনি। গুরুতর আহত অবস্থায় বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে ওইদিনই বিকেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান রিফাত। প্রকাশ্যে জনবহুল সড়কে রিফাতের ওপর নৃশংস ওই হামলার একটি ভিডিও ঘটনার পরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে দেশব্যাপী আলোড়ন সৃষ্টি হয়।
রিফাতকে হত্যার ঘটনায় পরদিন তার বাবা হালিম শরীফ বাদী হয়ে বরগুনা সদর থানায় একটি মামলা করেন। মামলায় নয়ন বন্ড এবং তার দুই সহযোগী রিফাত ফরাজী ও তার ছোট ভাই রিশান ফরাজীসহ ১২ জনকে আসামি এবং অজ্ঞাতপরিচয় আরও চার থেকে পাঁচজনকে আসামি করা হয়। মামলার প্রধান আসামি নয়ন বন্ড গত মঙ্গলবার ভোরে পুলিশের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়। এ ছাড়া এই মামলায় এখন পর্যন্ত গ্রেপ্তার করা হয়েছে ১০ জনকে। তবে এজাহারভুক্ত ৬ আসামি এখনো পলাতক।