আগস্টে কমতে পারে ফ্ল্যাট নিবন্ধন ফি

নতুন অর্থবছরের বাজেটে ফ্ল্যাট ও প্লট নিবন্ধন ব্যয় কমানোর কথা বলেছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। ১ জুলাই থেকে বাজেট বাস্তবায়ন শুরু হলেও ফ্ল্যাট ও প্লট নিবন্ধন ব্যয় কমিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেনি জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। আবাসন খাতের ব্যবসায়ীরা আশা করছেন, চলতি মাসের মধ্যেই এ বিষয়ে এনবিআর থেকে আদেশ জারি করা হতে পারে। তবে এনবিআর কর্মকর্তারা বলছেন, ফ্ল্যাট ও প্লটের রেজিস্ট্রেশন ব্যয় কমিয়ে জারি করতে আগামী মাস লাগতে পারে।

বর্তমানে ফ্ল্যাট ও প্লটের রেজিস্ট্রেশন বা নিবন্ধন ব্যয় ১৪ থেকে ১৬ শতাংশ। এই উচ্চ ব্যয়ের কারণে অনেক ক্রেতাই ফ্ল্যাট বা প্লট নিবন্ধনের আগ্রহ দেখান না। তাতে সরকারও বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছে। সে জন্য আবাসন ব্যবসায়ীদের সংগঠন রিহ্যাব নেতারা দীর্ঘদিন ধরে নিবন্ধন ব্যয় কমানোর দাবি করে আসছেন। তারা মনে করেন, নিবন্ধন ব্যয় কমানো হলে সাধারণ ক্রেতারা কিছুটা স্বস্তি পাবেন। তাতে ফ্ল্যাটের ব্যবসা বাড়বে।

আবাসন খাতের ব্যবসায়ীদের সংগঠন রিহ্যাবের তথ্য মতে, বর্তমানে ফ্ল্যাট নিবন্ধনে ৪ শতাংশ গেইন ট্যাক্স, ৩ শতাংশ স্ট্যাম্প ফি, ২ শতাংশ নিবন্ধন ফি, ২ শতাংশ স্থানীয় সরকার কর ও ৩ শতাংশ হারে মূল্য সংযোজন কর দিতে হয়। তাদের প্রস্তাব নিবন্ধন ফি ৭ শতাংশে নামিয়ে আনা। এ ছাড়া সেকেন্ডারি বাজার প্রচলনের জন্য পুরনো ফ্ল্যাট নিবন্ধন ফি সাড়ে ৩ শতাংশে নামিয়ে আনার প্রস্তাব করেছে আবাসন ব্যবসায়ীদের এই সংগঠন। আবাসন খাতে বর্তমানে মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) দেড় থেকে ৩ শতাংশ। এটি দেড় শতাংশে নামিয়ে আনার প্রস্তাব দিয়ে রিহ্যাব বলেছে, ফ্ল্যাটের নির্মাণ ব্যয় কমানোর জন্য ভ্যাট কমানো প্রয়োজন। এটি হলে ফ্ল্যাটের দাম ক্রেতার সামর্থ্যরে মধ্যে চলে আসবে।

২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেট বক্তব্যে ফ্ল্যাট ও প্লটের রেজিস্ট্রেশন ব্যয় কমানো প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেছেন, ‘আমাদের দেশের আবাসন খাত দীর্ঘদিন ধরে প্রায় স্থবির হয়ে আছে। এ খাতটি বিকশিত না হওয়ার অন্যতম কারণ, স্ট্যাম্প ডিউটি ও রেজিস্ট্রেশন ফি অনেক বেশি। ফলে সরকার রাজস্ব হারাচ্ছে। আর অপ্রদর্শিত আয়ের পরিমাণও বাড়ছে। আমরা এসব ফি যৌক্তিক পর্যায়ে নামিয়ে আনার উদ্যোগ গ্রহণ করব। এতে করে একদিকে আবাসন খাতের সম্প্রসারণ হবে, অন্যদিকে আমাদের রাজস্বও বাড়বে। একই সঙ্গে অপ্রদর্শিত আয়ের প্রবণতাও কমে যাবে।’

ফ্ল্যাট ও প্লট রেজিস্ট্রেশন ব্যয় কমানো প্রসঙ্গে জানতে চাইলে রিহ্যাবের প্রথম সহসভাপতি লিয়াকত আলী ভূঁইয়া দেশ রূপান্তরকে বলেন, অর্থমন্ত্রী বাজেট বক্তব্যে এ শিল্পের নেমে আসা স্থবিরতার কথা উল্লেখ করে ফ্ল্যাট ও প্লট রেজিস্ট্রেশন ফি যৌক্তিক পর্যায়ে নামিয়ে আনার ঘোষণা দিয়েছেন। তবে এখনো এ বিষয়ে এনবিআর থেকে কোনো আদেশ জারি করা হয়নি। আমরা আশা করছি, চলতি মাসের মধ্যেই এ বিষয়ে এনবিআর আদেশ জারি করবে। তিনি বলেন, ফ্ল্যাট ও প্লট নিবন্ধন ফি ১০ শতাংশের নিচে নামবে বলে আশা আমাদের।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে এনবিআরের সংশ্লিষ্ট একজন কর্মকর্তা জানান, অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বিদেশে আছেন। ১৮ জুলাই তার দেশে ফেরার কথা রয়েছে। তিনি দেশে ফেরার পর বিষয়টি চূড়ান্ত করে আদেশ জারি করা হবে। তাতে আগস্ট পর্যন্তও সময় লাগতে পারে।

রিহ্যাবের একজন কর্মকর্তা জানান, বাজেটে ফ্ল্যাট ও প্লট রেজিস্ট্রেশন ফি কমানোর ঘোষণার পর থেকে ক্রেতারা নতুন আদেশের জন্য অপেক্ষা করছেন। অনেক ক্রেতা ফ্ল্যাট কেনার পরও রেজিস্ট্রেশন করছেন না। কারণ, আদেশ জারির পর তারা এখনকার চেয়ে কম খরচে রেজিস্ট্রেশন করতে পারবেন। এ কারণে যত দ্রুত আদেশ জারি হবে, রাজস্ব আহরণের জন্য ততই মঙ্গলজনক।

আবাসন খাতের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে ব্যবসায়ী ও এনবিআরের কর্মকর্তাদের নিয়ে এর আগে একটি যৌথ ওয়ার্কিং কমিটি গঠন করে দেন এনবিআর চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া। সেই কমিটির প্রথম বৈঠকে রিহ্যাবের পক্ষ থেকে নিবন্ধন ব্যয় কমানো, সম্পদ কর হ্রাস, কর অবকাশ সুবিধা, এক অঙ্কের সুদহারে গৃহঋণ দেওয়ার জন্য ২০ হাজার কোটি টাকার পুনঃঅর্থায়ন তহবিল গঠনসহ ১২ দফা প্রস্তাব দেওয়া হয়। পরে আরও দুটি বৈঠকে অধিকাংশ বিষয়ে একমত হয়েছেন কমিটির সদস্যরা।