সংযুক্ত আরব আমিরাতের শাসক শেখ মোহাম্মদ বিন রশিদ আল মাখতুমের স্ত্রী প্রিন্সেস হায়া বিনতে আল হুসেইনের পলায়নের ঘটনায় লন্ডনের সঙ্গে দুবাইয়ের কূটনৈতিক টানাপড়েন সৃষ্টি হয়েছে। দ্য গার্ডিয়ানের মতে, আরব আমিরাতের অন্যতম মিত্র দেশ যুক্তরাজ্য। কিন্তু প্রিন্সেস হায়াকে ফেরত পাঠানো নিয়ে দুই দেশের মধ্যে যে চাপা উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে, তা বৃহদাকার রূপ নিতে পারে।
গত বছর শেখ মোহাম্মদের মেয়ে ৩৩ বছর বয়সী প্রিন্সেস লতিফা দুবাই ছেড়ে পালিয়েছিলেন। কিন্তু তাকে জোর করে দেশে ফিরিয়ে নেয় আমিরাত। যদিও তখন আমিরাত কর্র্তৃপক্ষ অস্বীকার করেছিল লতিফাকে জোর করে নিয়ে যাওয়ার বিষয়টি। আর এ প্রসঙ্গ ধরেই প্রিন্সেস হায়া ভয় পাচ্ছেন, তাকেও হয়তো গোপনে লন্ডন থেকে তুলে নিয়ে যাওয়া হতে পারে।
২০০০ সালে শেখ মোহাম্মদের আরেক মেয়ে প্রিন্সেস শামসা দুবাই থেকে পালিয়ে যান। ওই বছরের আগস্টের শেষে তাকে ক্যামব্রিজের রাস্তায় দেখা গিয়েছিল। কিন্তু ধারণা করা হয়, শেখের ব্যক্তিগত বাহিনীর সদস্যরা গোপনে তাকে অপহরণ করে নিয়ে যান। এসবই জানতেন প্রিন্সেস হায়া। গত জুনে যুক্তরাজ্যের রানীর এক অনুষ্ঠানে আমিরাতের শাসককে দেখা গেলেও তার সঙ্গে তখন হায়াকে দেখা যায়নি।
লন্ডনের সর্বশেষ কূটনীতিক তালিকায় প্রিন্সেস হায়ার নাম পাওয়া যায়নি। তবে গার্ডিয়ানের মতে, হায়া লন্ডনে জর্ডানের দূতাবাসে আশ্রয়ের জন্য আবেদন করতে পারেন। কিন্তু এ বিষয়ে জর্ডানের পক্ষ থেকে কোনো মন্তব্য করা হয়নি। ধারণা করা হচ্ছে, প্রিন্সেস হায়া মধ্য লন্ডনে কেসিংটন প্যালেসের নিকটবর্তী, তা উচ্চ নিরাপত্তা-সংবলিত বাড়িতে অবস্থান করছেন। ২০১৭ সালে বিলিওনার লক্ষ্মী মিত্তালের কাছ থেকে ৮৫ মিলিয়ন পাউন্ডের বিনিময়ে ওই বাড়িটি কিনেছিলেন হায়া।
এ ছাড়া অপহরণের ভয় থাকায় হায়ার নিরাপত্তার দায়িত্বে একটি বেসরকারি নিরাপত্তা কোম্পানি রয়েছেÑ এমনটাও মনে করা হচ্ছে। যদিও এ বিষয়ে স্কটল্যান্ড ইয়ার্ডের পক্ষ থেকে কোনো বিস্তারিত জানানো হয়নি। লন্ডন মেট্রোপলিটন পুলিশের সাবেক কমিশনার জন স্টিভেনস বহু বছর ধরেই হায়ার নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করে আসছেন। তার কোম্পানিই বর্তমানে হায়ার নিরাপত্তা দিচ্ছে কি না তা নিশ্চিত না।