রাজধানীর ওয়ারীতে একে-২২ স্বয়ংক্রিয় রাইফেলসহ দুজন গ্রেপ্তারের পর চট্টগ্রাম ও কুমিল্লা জামায়াতের চার নেতাকর্মীকে খুঁজছে পুলিশ। তারা হলেনÑ কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের ১নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর কাজী গোলাম কিবরিয়া, মো. আবদুল হাই হাসিব ওরফে হাতকাটা হাসিব ওরফে বোমা হাসিব, চট্টগ্রামের অস্ত্র সরবরাহকারী বাবুল উদ্দিন ও তার সহযোগী সাদেক আহমেদ। গতকাল শুক্রবার ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্স ন্যাশনাল ক্রাইমের (সিটিটিসি) কর্মকর্তারা দেশ রূপান্তরকে এ তথ্য জানান।
গত রবিবার সন্ধ্যায় ওয়ারীর স্বামীবাগ এলাকায় রাজধানী সুপার মার্কেটের সামনে একে-২২ রাইফেলসহ কামাল হোসেন (৩৫) ও সাইদুল ইসলাম মজুমদার ওরফে রুবেল (৩০) গ্রেপ্তার হন; উদ্ধার করা হয় ৩০ রাউন্ড গুলি ও দুটি ম্যাগাজিন। সিটিটিসি কর্মকর্তারা জানান, ঘটনাস্থলে থাকা একাধিক ব্যক্তি পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পালিয়ে যায়। তারা আরও জানান, রুবেল ও কামাল দুদিনের রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন, পলাতক আসামিরা জামায়াতের নেতাকর্মী। দীর্ঘদিন ধরে তারা একে-২২ রাইফেল
কেনাবেচা করে আসছেন। তাদের মধ্যে সবচেয়ে দুর্ধর্ষ কুমিল্লা সদরের শুভপুর গ্রামের আবদুল হাই হাসিব ওরফে হাতকাটা হাসিব ওরফে বোমা হাসিব। হত্যা, নাশকতা ও অস্ত্রসহ তার বিরুদ্ধে অন্তত আটটি মামলা রয়েছে। জামায়াত নেতা ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরের সাবেক দেহরক্ষী হাসিব ২০১৭ সালে র্যাবের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন।
স্থানীয় পুলিশের একাধিক কর্মকর্তা জানান, হাসিব কুমিল্লা জেলার শীর্ষ সন্ত্রাসী। তিনি বিভিন্ন বিস্ফোরক দ্রব্য দিয়ে বোমা তৈরি ও ভারত থেকে বিভিন্ন অস্ত্র এনে অপরাধীদের কাছে সরবরাহ করতেন। সম্প্রতি রাজধানীতে অত্যাধুনিক একে-২২ রাইফেলসহ দুজন গ্রেপ্তারের পর আবারও হাসিবের নাম সামনে এসেছে। এর আগে তিনি কুমিল্লার শুভপুরে অস্ত্র তৈরির কারখানা গড়ে তুলেছিলেন। দীর্ঘদিন ধরেই তাকে খুঁজছে পুলিশ।
সিটিটিসির অতিরিক্ত উপকমিশনার জাহাঙ্গীর আলম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘৩০ জুন একে-২২ রাইফেল ও ৩০ রাউন্ড গুলিসহ কামাল হোসেন ও সাইদুল ইসলাম মজুমদার ওরফে রুবেল নামে দুজনকে গ্রেপ্তারের পর চট্টগ্রামের অবৈধ অস্ত্র কারবারি বাবুল উদ্দিনের নাম বেরিয়ে আসে। তার বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে জানতে পারি, এই বাবুল একসময় শিবিরের দুর্ধর্ষ ক্যাডার হিসেবে পরিচিত ছিল। বর্তমানে জামায়াত কানেকশনে আন্ডারওয়ার্ল্ডের অস্ত্র সরবরাহকারী। এর আগেও বাবুল ও তার সহযোগী সাদেক আহমেদ এ ধরনের স্বয়ংক্রিয় অস্ত্রের দুটি চালান চট্টগ্রাম থেকে কুমিল্লায় পাঠিয়েছে বলে জানতে পেরেছি। এখন তাদের গ্রেপ্তার করতে পারলেই এই অস্ত্র কেনাবেচার উদ্দেশ্য জানা যাবে।’ অস্ত্র সরবরাহকারী বাবুল ও সাদেকের বিষয়েও তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।
সিটিটিসির আরেক কর্মকর্তা বলেন, উদ্ধার হওয়া অস্ত্রটি সাড়ে ৬ লাখ টাকা দিয়ে কিনেছিল কুমিল্লার কাজী গোলাম কিবরিয়া। বাবুল ও সাদেকের মাধ্যমে অস্ত্রটি কামাল ও রুবেল বহন করে হাসিবের কাছে পৌঁছে দেওয়ার কথা ছিল। পরে কিবরিয়াকে সেটি সরবরাহ করত হাসিব। কিন্তু অস্ত্রসহ দুই বহনকারী গ্রেপ্তার হলে তারা সবাই পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় ওয়ারী থানায় হওয়া মামলাটি তদন্ত করছেন সিটিটিসির আর্মস এনফোর্সমেন্ট টিমের সদস্যরা। তারা তদন্তে জেনেছেন, কিবরিয়ার বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে দুটি মামলা রয়েছে। এ ছাড়া নাশকতার আরও ডজনখানেক মামলা আছে কুমিল্লার বিভিন্ন থানায়।