মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে পুড়িয়ে হত্যা মামলায় সাক্ষ্য দিয়েছেন কেরোসিন বিক্রেতা লোকমান হোসেন লিটন, বোরকার দোকানি জসিম উদ্দিন ও কর্মচারী হেলাল উদ্দিন ফরহাদ। গতকাল রবিবার ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দেওয়ার পর আসামিপক্ষের আইনজীবীরা তাদের জেরা করেন। এ নিয়ে সাত দিনে আটজনের সাক্ষ্যগ্রহণ ও জেরা শেষ হলো। বাদীপক্ষের
আইনজীবী এম শাহজাহান সাজু বলেন, সোমবার নুসরাতের ছোট ভাই রাশেদুল হাসান রায়হান ও দোকানদার জহিরুল ইসলামের সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ঠিক করেছেন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মামুনুর রশিদ। গত ২৭ জুন মামলার বাদী নুসরাতের বড় ভাই মাহমুদুল হাসান নোমানের সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়। পরে তার সহপাঠী নিশাত সুলতানা ও নাসরিন সুলতানা, মাদ্রাসার পিয়ন নুরুল আমিন, নৈশপ্রহরী মো. মোস্তফার সাক্ষ্যগ্রহণ ও জেরা শেষ হয়।
তিনি জানান, সোনাগাজীর চরছান্দিয়া ইউনিয়নের ভূঞাবাজারে লোকমান হোসেন লিটনের ‘লিটন স্টোর’ নামে মুদিদোকান রয়েছে। লিটন আদালতকে জানান, নুসরাতের গায়ে আগুন দেওয়ার ২-১ দিন আগে শামীম ৭০ টাকা পরিশোধ করে ১ লিটার কেরোসিন তেল ক্রয় করে।
সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, বোরকার দোকানি জসিম আদালতকে বলেন, ‘সোনাগাজী পৌরসভার জিরো পয়েন্টের মানিক প্লাজায় আমার ওয়ার্ল্ড ফেমাস বোরকা বাজার নামে একটি দোকান রয়েছে। দোকানে বোরকা সেলাই ও ওড়না-হিজাব বিক্রি করি। গত ৪ মার্চ কামরুন নাহার মনি কয়েকজন বান্ধবীসহ দোকানে আসেন ও পাঁচটি বোরকার অর্ডার করেন। তারা ১৪ মার্চের আগে বিভিন্ন তারিখে বোরকাগুলো ডেলিভারি নেন। নুসরাতকে আগুন লাগানোর ২-৩ দিন আগে মনি ১ হাজার ৯৮০ টাকা দামে দুটি কালো রঙের বোরকা ক্রয় করেন।’
গত ৬ এপ্রিল সকালে সোনাগাজী ফাজিল মাদ্রাসা ভবনের ছাদে ডেকে নিয়ে আলিম পরীক্ষার্থী নুসরাতের শরীরে কেরোসিন ঢেলে আগুন দেয় বোরকা পরিহিত পাঁচজন। পরে ১০ এপ্রিল রাতে ঢাকা মেডিকেল কলেজের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান নুসরাত। মৃত্যুর সময় নুসরাত বলে গেছেন, মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলার বিরুদ্ধে করা শ্লীলতাহানির মামলা তুলে না নেওয়ায় তার শরীরে আগুন দেওয়া হয়।
পরে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ফেনীর পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) পরিদর্শক মো. শাহ আলম ১৬ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। এ মামলায় ২১ জন গ্রেপ্তার হলেও তদন্তে সম্পৃক্ততা না পাওয়ায় পাঁচজনকে অব্যাহতি দেওয়ার সুপারিশ করে পিবিআই।
এ ছাড়া শ্লীলতাহানির মামলার পর নুসরাতের দেওয়া জবানবন্দির ভিডিও ধারণ করে তা ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে সাইবার আইনের মামলায় সোনাগাজী থানার তৎকালীন ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বর্তমানে তিনি কারাগারে রয়েছেন।