মাদ্রাসা ছাত্র অপহরণের ঘটনায় গ্রেপ্তার ৬

নরসিংদীতে মাদ্রাসা ছাত্র বায়েজিদ ইব্রাহিম (১৪) অপহরণের ঘটনায় ৬ জনকে গ্রেপ্তার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ।

রবিবার নারায়ণগঞ্জ ও নরসিংদী জেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

সোমবার দুপুরে নরসিংদী পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান নরসিংদী পুলিশ সুপার মিরাজ উদ্দিন আহমেদ।

অপহরণের শিকার বায়েজিদ ইব্রাহিম (১৪) শিবপুর উপজেলার ভরতেরকান্দী গ্রামের ব্যাংক কর্মকর্তা ইলিয়াছ মিয়ার ছেলে ও নরসিংদী জামেয়া কাসেমিয়া কামিল মাদ্রাসার ৮ম শ্রেণির ছাত্র।

এসময় গ্রেপ্তার করা হয় শিবপুর উপজেলার ভরতেরকান্দি গ্রামের শামসুর হকের ছেলে মো. খালেদ (২৫), বেলাব উপজেলার মরিচা কান্দা গ্রামের উত্তম দাসের ছেলে নয়ন দাস (১৯), শিবপুর উপজেলার সাদারচর গ্রামের নাজমুর হাসানের ছেলে মেহেদি হাসান (২০), দক্ষিণ কারারচর গ্রামের বশির মিয়ার ছেলে রানা মিয়া (১৮), দক্ষিণ কারারচর গ্রামের বাবুল মিয়ার ছেলে তাইজুল ইসলাম (১৭) ও পলাশ উপজেলার নোয়াকান্দা গ্রামের আলতাব হোসেনের ছেলে রাশেদুল ইসলাম (২১)।

এ ঘটনায় জড়িত রায়পুরার পলাশতলী এলাকার সৌরভ (২০) নামে আরও একজন পলাতক রয়েছে।

নরসিংদী পুলিশ সুপার মিরাজ উদ্দিন আহমেদ সংবাদ সম্মেলনে বলেন, শনিবার দুপুরে বায়েজিদ মাদ্রাসা থেকে অর্ধবার্ষিকী পরীক্ষা শেষে বাড়ি ফিরছিল।  মাদ্রাসার অদূরে বন বিভাগের সামনের রাস্তায় পৌঁছালে নয়ন, মেহেদি ও সৌরভ জোড় পূর্বক তাকে প্রাইভেটকারে তুলে নিয়ে যায়। তারা বায়েজিদকে নিয়ে রায়পুরা, বেলাব, মাধবদী ও পলাশ থানার বিভিন্ন স্থানে আটকে রাখে।

অপহরণকারীরা শনিবার বিকেলে বায়েজিদের বাবার কাছে বায়েজিদ অপহরণ হয়েছে বলে জানিয়ে ৫০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। মুক্তিপণ না দিলে বায়েজিদকে প্রাণে মেরে লাশ গুম করে ফেলবে বলে হুমকি দেয়।

পরে বায়েজিদের বাবা বিষয়টি পুলিশ সুপারের নিকট অবহিত করলে তিনি গোয়েন্দা পুলিশকে দায়িত্ব দেন। পরে গোয়েন্দা পুলিশের অভিযান চলাকালে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে রাত ৮ টার সময় পলাশ উপজেলার দড়িচর এলাকায় বায়েজিদকে রেখে অপহরণকারীরা পালিয়ে যায়।

এ ঘটনায় পুলিশ প্রাইভেটকারের নম্বরের সূত্র ধরে গাড়ি চালক রাশেদুলকে রবিবার রাতে নারায়ণগঞ্জ থেকে আটক করে। পরে তার দেওয়া তথ্য মতে নরসিংদীর বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে বাকি ৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ ঘটনায় নরসিংদী মডেল থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।