তিন দশকের ক্যারিয়ারে প্রায় সব ধরনের চরিত্রে অভিনয় করেছেন টম হ্যাঙ্কস। শুরুটা ছিল টিভি সিরিজ ‘বোসম বাডিস’-এ ফানিম্যান চরিত্রে। এরপর ‘স্প্যালস’ ও ‘দ্য মানি পিট’-এর মতো রোমান্টিক কমেডি দিয়ে আস্তে আস্তে স্থান করে নেন বড়পর্দায়। পরে ‘সেভিং প্রাইভেট রায়ান’ বা ‘ফরেস্ট গাম্প’-এ করেছেন সিরিয়াস চরিত্র। পেয়েছেন প্রশংসা।
গোল্ডেন গ্লোব থেকে অস্কার, এমনকি প্রেসিডেনশিয়াল মেডেল অব ফ্রিডম- কোনো স্বীকৃতিই বাদ নেই টম হ্যাঙ্কসের ঝুলিতে। মঙ্গলবার এই অভিনেতার জন্মদিন। আজ দেখতে পারেন এই পাঁচটি মুভি।
ফরেস্ট গাম্প : খুব কম মানুষেই ‘ফরেস্ট গাম্প’ উপন্যাসটি পড়েছিলেন, যখন কিনা একই নামের সিনেমাটি মুক্তি পায়। ১৯৯৪ সালে রবার্ট জেমেকিস দর্শকদের ছবিটি উপহার দেন। হলে গিয়ে তারা এক সাধারণ মানুষের অসাধারণ সব কাহিনি দেখতে থাকেন। যেখানে উঠে এসেছে বিশ শতকে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসের অনেক ঘটনা। ফরেস্ট গাম্পের ব্যক্তিগত জীবনের আবহে এসেছে ভিয়েতনাম যুদ্ধ, ওয়াটারগেট কেলেঙ্কারি, হিপ্পি আন্দোলনসহ অনেক কিছু। দর্শকের আবেগ নিয়ে খেলা করা সিনেমাটি বেশ কয়েকটি বিভাগে অস্কার পায়। আর সেরা অভিনেতার পুরস্কারটি গেছে হ্যাঙ্কসের ঝুলিতে। অবশ্য এর আগেই ‘ফিলাডেলফিয়া’য় অভিনয়ের জন্য একই স্বীকৃতি পান।
ইনফার্নো: টম হ্যাঙ্কসের বুড়িয়ে যাওয়া নিয়ে অনেকেই কথা বলছিলেন, তখন তিনি এই সিনেমার মাধ্যমে তৃতীয়বার পর্দায় ফেরেন ড্যান ব্রাউনের বিখ্যাত চরিত্র সিম্বোলজিস্ট ড. রবার্ট ল্যাঙডন হয়ে। শুরুতে অসুস্থ-জবুথবু অবস্থায় দেখা যায় এই নায়ককে। ক্রমে অপ্রতিরোধ্য হয়ে ওঠেন। তার সংকল্প দুষ্টু লোকের হাত থেকে এই বিশ্বকে বাঁচানো। সিনেমাটি মুক্তি পায় ২০১৬ সালে।
সুলি: দীর্ঘ ক্যারিয়ারে বেশ কয়েকটি সত্য ঘটনা অবলম্বনে নির্মিত ছবিতে অভিনয় করেন হ্যাঙ্কস। এই ছবিতে সাহসী বিমানচালকের চরিত্রে অভিনয় করেন তিনি। যাকে বলা হয় অল-আমেরিকার হিরো। নিশ্চিত দুর্ঘটনার হাত থেকে যাত্রীদের বাঁচান নদীতে বিমান অবতরণ করিয়ে।
দ্য গ্রিন মাইল: স্টিফেন কিং-এর একই নামের উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত হয়েছে সিনেমাটি। মৃত্যুদণ্ড পাওয়া এক আসামির অতিপ্রাকৃতিক ক্ষমতা নিয়ে এর গল্প। সেখানে জেলের প্রহরী চরিত্রে অভিনয় করেন টম হ্যাঙ্কস। খুবই আবেগঘন গল্পটি দর্শককে ছুঁয়ে গেছে। ফ্রাঙ্ক ডারাবন্ট পরিচালিত সিনেমাটি চারটি বিভাগে অস্কার মনোনয়ন পায়।
সেভিং প্রাইভেট রায়ান: দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ নিয়ে সিনেমা ও টিভি শো হয়ে এন্তার। এর মধ্যে বিশেষ স্থান দখল করে আছে ‘সেভিং প্রাইভেট রায়ান’। পুরো ছবি জুড়ে চমকেছেন টম হ্যাঙ্কস। ওয়াশিংটন ডিসি’র ইউএস যুদ্ধ বিভাগে জেনারেল জর্জ মার্শালকে জানানো হয়, রায়ান পরিবারের চার ভাইয়ের মধ্যে তিন ভাই মরে গেছে। তিন ভাইয়ের মৃত্যু সংবাদ তাদের মাকে জানানো হয়। আরও খবর নিয়ে জর্জ মার্শাল জানতে পারলেন চতুর্থ ভাইয়ের নাম জেমস ফ্রান্সিস রায়ান। তিনি নরম্যান্ডির আশপাশে কোথাও যুদ্ধ করছেন। মার্শাল তৎক্ষণাৎ তাকে খুঁজে বের করতে নির্দেশ দিলেন। খুবই হৃদয়ছোঁয়া গল্পে ১৯৯৯ সালের ছবিটি পরিচালনা করেন স্টিভেন স্পিলবার্গ।
টম হ্যাঙ্কসের উল্লেখযোগ্য বাকি ছবির মধ্যে রয়েছে বিগ, ফিলাডেলফিয়া, অ্যাপোলো থার্টিন, ইউ হ্যাভ গট মেইল, দ্য পোস্ট, ব্রিজ অব স্পাইস, স্লিপলেস ইন সিয়াটল, ক্যাস্ট অ্যাওয়ে, দি ডা ভিঞ্চি কোড, ক্যাপ্টেন ফিলিপস, সেভিং মি. ব্যাঙ্কস, ক্যাচ মিই ইফ ইউ ক্যান ও দ্য টার্মিনাল।