ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে গরু চুরির অভিযোগে আমজাদ হোসেন (২০) নামে একজনকে এবং ছেলেধরা সন্দেহে অজ্ঞাত একজনকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে।
বুধবার উপজেলার লালপুর ও উপজেলা সদরের স্টেশন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত আমজাদ কিশোরগঞ্জ জেলার ভৈরব উপজেলার আগানগর ইউনিয়নের টুকচানপুর গ্রামের তাহের মিয়ার ছেলে। তবে নিহতের পরিবারের দাবি, আমজাদকে ‘পরিকল্পিতভাবে’ পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে।
স্থানীয়দের বরাত দিয়ে আশুগঞ্জ থানা পুলিশের পরিদর্শক (তদন্ত) ময়নাল হোসেন জানান, মঙ্গলবার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে লালপুর গ্রামের মোক্তার মিয়ার বাড়িতে গরু চুরির উদ্দেশ্যে হানা দেয় আমজাদসহ আরও কয়েকজন। এ সময় স্থানীয়রা টের পেয়ে আমজাদকে আটকের চেষ্টা করলে সে তার হাতে থাকা ধারালো ছুরি দিয়ে আক্রমণ করে। পরে আমজাদকে ধরে উত্তেজিত জনতা গণপিটুনি দেয়।
বুধবার সকালে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরক চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
তবে নিহতের বাবা তাহের মিয়া অভিযোগ করে বলেন, মঙ্গলবার সকালে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার বীরগাঁও ইউনিয়নের বাইশমৌজা বাজারে গরু কিনতে আসেন আমজাদ। রাতে নৌকায় করে গরু নিয়ে ফেরার পথে পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যা করা হয়েছে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার(প্রশাসন) মো. আলমগীর হোসেন জানান, গরু চুরি করতে গিয়ে এলাকাবাসীর হাতে গণপিটুনি খেয়েই আমজাদের মৃত্যু হয়েছে।
বুধবার বিকালে জেলা সদর হাসপাতালে লাশের ময়না তদন্ত শেষে পরিবারের কাছে লাশ বুঝিয়ে দেয়া হয়। তবে এ ঘটনায় বুধবার সন্ধ্যা পর্যন্ত মামলা হয়নি বলে জানান ওসি মাসুদ আলম। তিনি বলেন, আমরা পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা দেয়ার অপেক্ষায় আছি।
এদিকে বুধবার সকাল থেকেই অজ্ঞাত একটি ছেলে আশুগঞ্জ রেলস্টেশন এলাকায় ঘুরাফেরা করা অবস্থায় তার চলাফেরা সন্দেহজনক হলে এলাকাবাসী তাকে আটক করে। পরে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করার সময় তার কথাবার্তা এলোমেলো পাওয়া যাওয়ায় তাকে গণপিটুনি দেয়া হয়।
খবর পেয়ে গুরুত্বর আহত অবস্থায় পুলিশ তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার সয়ম তার মৃত্যু হয়।
আশুগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মাসুদ আলম জানান, ছেলেটি ভবঘুরে ও মানষিক ভারসাম্যহীন ছিলেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারনা করা হচ্ছে। তবে তার নাম-পরিচয় এখনো পাওয়া যায়নি। নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালের মর্গে পঠানো হয়েছে।