‘জয় শ্রী রাম’ যেভাবে হত্যার অস্ত্র

ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে মানুষ একে অপরকে অভিবাদন জানাতে জয় শ্রী রামের নাম ব্যবহার করা হয়। কিন্তু দেশটিতে সাম্প্রতিককালে রামের নাম নিয়ে হত্যার মতো ঘটনাও ঘটছে। গত মাসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে যাওয়া এক ভিডিওতে দেখা যায়, ঝাড়খ-ে খুঁটির সঙ্গে বেঁধে এক মুসলিম ব্যক্তিকে নির্যাতন করা হচ্ছে। ভিডিওতে ওই ব্যক্তিকে নির্যাতনকারীদের উচ্চস্বরে ‘জয় শ্রী রাম’ ধ্বনি দিতে দেখা যায়।

পরবর্তী সময়ে পুলিশ ওই মুসলিম ব্যক্তিকে থানায় আটক করে রাখে। আটক অবস্থায় চারদিনের মাথায় তার মৃত্যু হয়। গত জুন মাসে দেশটির বিভিন্ন প্রান্তে এমন অনেক ঘটনা ঘটেছে। উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় আসাম রাজ্যের বারপেতা জেলায় একদল মুসলিম যুবককে মারধর ও জোরপূর্বক ‘জয় শ্রী রাম’, ‘ভারত মাতা কি জয়’ ও ‘পাকিস্তান মুর্দাবাদ’ সেøাগান দিতে বাধ্য করা হয়।

মুম্বাইয়ে ২৫ বছর বয়সী এক মুসলিম ট্যাক্সিচালককেও পেটানো ও জয় শ্রী রাম বলানো হয়। পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কলকাতায় ২৬ বছর বয়সী মুসলিম মাদ্রাসা শিক্ষক হাফিজ মোহাম্মদ শাহরুখ হালদারকে ট্রেনের মধ্যে একদল ব্যক্তি ‘জয় শ্রী রাম’ সেøাগান দিয়ে নির্মমভাবে কোপায়। হামলাকারীরা তার দাড়ি ও পোশাক নিয়ে তামাশা করে। একপর্যায়ে হাফিজকে ‘জয় শ্রী রাম’ বলতে বলা হলে তিনি তা অস্বাকীর করেন এবং হামলার শিকার হন।

গত ১৭ জুন ভারতের নিম্নকক্ষে সদ্য নির্বাচিত মুসলিম এমপিরা শপথ নেন। তখন ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) এমপিরা তাদের উদ্দেশ করে তীব্র শ্লেষাত্মক বাক্য প্রয়োগ করেন। যদিও তখন বিরোধীদলীয় নেতা কংগ্রেসের রাহুল গান্ধী এর বিরোধিতা করে নিন্দা জানান। সতীশ আচার্যের মতো কার্টুনিস্টরাও এ নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেন।

ভারতের উত্তরের গ্রামগুলোতে হিন্দুরা ঐতিহ্যগতভাবেই ‘রাম রাম’, ‘জয় শ্রী রাম’ বা ‘জয় রামজি কি’ বলে অভিবাদন হিসেবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ঈশ্বরের নামে হামলা ও হত্যার ঘটনা দেশটির কয়েক কোটি মানুষের অনুভূতির প্রতি অবিচার করা হচ্ছে।

১৯৮০ সালের দিকে অযোধ্যায় বিতর্কিত রাম মন্দির নির্মাণ নিয়ে প্রথম ‘জয় শ্রী রাম’ মন্ত্রকে রাজনীতিকীকরণ করে বিজেপি। তখন রাম মন্দিরের পক্ষে বিশাল হিন্দু জমায়েত করতে এর ব্যবহার করা হয়। তখন বিজেপির প্রেসিডেন্ট ছিলেন এলকে আদভানি। ১৯৯২ সালের ডিসেম্বর মাসে জয় শ্রী রাম ধ্বনি তুলেই ১৬ শতকের বাবরি মসজিদের দিকে যাত্রা করে দলটির কর্মী-সমর্থকরা। বিজেপি বিশ্বাস করে রাম মন্দিরের ভগ্নাবশেষের ওপরই বাবরি মসজিদ নির্মিত হয়েছিল।