ভোলায় গলাকাটা ও ছেলে ধরার ছবি দিয়ে ফেসবুক, ম্যাসেঞ্জারের মাধ্যমে গুজব ছড়িয়ে দেওয়া আবদুল সহিদ হাওলাদারকে (২৪) বৃহস্পতিবার আদালতে হাজির করে ৫ দিনের রিমান্ডের আবেদন করেছে পুলিশ। আগামী সপ্তাহে এ মামলার শুনানি হবে।
বৃহস্পতিবার দুপুরে ভোলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ের সভা কক্ষে সংবাদ সম্মেলনে জেলা পুলিশ সুপার সরকার মোহাম্মদ কায়সার এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
এসময় তিনি বলেন, আমরা গত বুধবার বিকেলে ভোলা জেলায় গুজব ছড়ানোর দলের আবদুল সহিদ হাওলাদারকে গুজব ছড়ানোর কাজে ব্যবহৃত স্মার্ট ফোনসহ আটক করা করি।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে দোষ স্বীকার করে। এবং তার এ কাজের সাথে আরো ৩ জন রয়েছে। ওই তিন জনের বাড়ি ভোলা জেলায়। এদের মধ্যে একজন আরব আমিরাতে আছেন। অন্য দু’জন সহিদকে আটকের পরে অন্যত্র পালিয়ে আছেন। মামলার স্বার্থে আমরা সহিদের সঙ্গে তিন জনের নাম ও পরিচয় এখন বলতে পারছি না। তবে তাদের সবাইকে আটকের চেষ্টা চলছে।
পুলিশ সুপার আরো বলেন, আবদুল সহিদ হাওলাদারের বিরুদ্ধে চরফ্যাশন থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ২০১৮ এ ধারায় মামলা দায়ের করে চরফ্যাশন উপজেলার জেলা অতিরিক্ত দায়রা জজ আদালতে হাজির করা হয়েছে। এসময় তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতের কাছে ৫ দিনের রিমান্ডের আবেদন করা হয়।
এছাড়াও জেলা পুলিশ গুজবের বিষয়ে জনসচেতনতা বাড়াতে মাইকিং, পোস্টারসহ বিভিন্ন পদক্ষেপের গ্রহন করেছে বলে জানান তিনি।
এসময় উপস্থিত ছিলেন, ভোলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. শাফীন মাহমুদ, সাব্বির হোসেন, গোয়েন্দা পুলিশের ওসি মো. শহিদুল ইসলাম, চরফ্যাশন থানার ওসি সামছুল আরেফিন।
উল্লেখ্য, গত কয়েক দিন ধরে ভোলায় ফেসবুক ও ম্যাসেঞ্জারের মাধ্যমে একটি চক্র পদ্মা সেতুর জন্য মানুষের মাথা লাগবে, এজন্য গলাকাটা বাহিনী নেমেছে- এমন গুজব ছড়ায়। তারা শিশুদের ধরে নিয়ে গলা কাটছে এমন গুজব ছড়িয়ে মানুষকে আতঙ্কিত করেছে।