বাণিজ্যমন্ত্রীকে খাদ্যমন্ত্রীর ডিও

মোটা চাল রপ্তানি করা যাবে না

বোরো মৌসুমে কী পরিমাণ ধান উৎপাদিত হয়েছে, তার সঠিক পরিসংখ্যান এখনো নেই সরকারের কাছে। তাই আপাতত এক থেকে দুই লাখ টন চাল রপ্তানি করার পক্ষে মত দিয়েছে খাদ্য মন্ত্রণালয়। তবে মোটা চাল রপ্তানি করা যাবে না। সরু চাল রপ্তানি করতে হবে ব্যবসায়ীদের। পরে পরিস্থিতি বুঝে তা আরও বাড়ানো হতে পারে। তবে চাল রপ্তানিকারকরা অন্য কৃপিণ্যের মতো রপ্তানির বিপরীতে নগদ সহায়তা পাবেন না।

চাল রপ্তানি বিষয়ে সম্প্রতি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় এসব সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানা গেছে। ব্যবসায়ীরাও চাল রপ্তানিতে নগদ সহায়তা চান না। তবে তারা শুধু এক বছরের জন্য নয়, প্রতি বছরই একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ চাল রপ্তানির সুযোগ চান।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, রপ্তানি নীতি আদেশ অনুযায়ী বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন সাপেক্ষে ২৫ ধরনের সুগন্ধি চাল রপ্তানির সুযোগ রয়েছে। মোটা কিংবা সরু অন্য কোনো চাল রপ্তানির সুযোগ নেই। তবে খাদ্য মন্ত্রণালয় থেকে সুনির্দিষ্টভাবে চাল রপ্তানির সুযোগ দেওয়ার অনুরোধ করা হলে রপ্তানি নীতি আদেশ সংশোধন করে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের আগাম অনুমোদন নিয়ে রপ্তানির সুযোগ দেওয়া হবে।

মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, এবার বোরো মৌসুমে ধানের ভালো ফলন হয়েছে। কৃষক ন্যায্যমূল্য না পাওয়ার বিষয়টি দেশজুড়ে ব্যাপকভাবে আলোচিত হচ্ছে। খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার চাল রপ্তানির জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশিকে আধাসরকারি পত্র (ডিও) দিয়েছেন। এ অবস্থায় কী পরিমাণ চাল রপ্তানি করা যায়, তা নিয়ে গত ৪ জুলাই আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা করে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।

সভায় খাদ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, বোরো মৌসুমে বাম্পার ফলন হলেও ঠিক কী পরিমাণ ধান-চাল উৎপাদন হয়েছে তা এখনো চূড়ান্ত করতে পারেনি কৃষি মন্ত্রণালয়। এ অবস্থায় প্রাথমিকভাবে এক থেকে দুই লাখ টন চাল রপ্তানি করা যেতে পারে। তবে রপ্তানি করতে হবে সরু চাল। কারণ, মোটা চালের ক্রেতা গরিব মানুষ। তাছাড়া সরকারও খোলাবাজারে চাল বিতরণের জন্য মোটা চাল সংগ্রহ করে। তাই মোটা চাল রপ্তানি করে গরিব ক্রেতাদের ঝুঁকিতে ফেলা যাবে না। কৃষি ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, কৃষিপণ্য রপ্তানির বিপরীতে ২০ শতাংশ নগদ সহায়তা দেয় সরকার। কিন্তু চাল রপ্তানির ক্ষেত্রে এ ধরনের নগদ সহায়তা দেওয়া হবে না। চাল ব্যবসায়ীরাও এ শর্ত মেনে নিয়েছেন বলে জানান বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, সর্বশেষ ২০০৯-১০ সালে বাংলাদেশের ব্যবসায়ীরা চাল রপ্তানি করেছেন। তারপর থেকে চাল রপ্তানি বন্ধ রয়েছে। বাংলাদেশ যেসব দেশে চাল রপ্তানি করেছে, সেসব দেশের বাজার এখন ভারতীয় ও পাকিস্তানিদের দখলে চলে গেছে। এ অবস্থায় নতুন করে এবার বাজার দখল করার পর আগামী বছরই রপ্তানি বন্ধ করা হলে ব্যবসায়ীদের লোকসান হবে। তাই এমন নিশ্চয়তা চান যে, প্রতিবছরই যাতে সরকার থেকে পরিমাণে কম করে হলেও রপ্তানির সুযোগ দেওয়ার নিশ্চয়তা দেওয়া হয়। তবে কোনো মন্ত্রণালয়ের তরফ থেকে এ ধরনের নিশ্চয়তা পাচ্ছেন না তারা।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০০৯-১০ অর্থবছর থেকে গত ১০ বছরে বাংলাদেশ সুগন্ধি চাল রপ্তানি করেছে ৬৮ হাজার ৫০ টনের মতো। এর মধ্যে গত অর্থবছরের জুন-মে সময়ে রপ্তানি হয়েছে ৫ হাজার ৬২ টন। আগের অর্থবছরে রপ্তানি হয়েছে ৮ হাজার ২১০ টন। তবে সবচেয়ে বেশি সুগন্ধি চাল রপ্তানি হয়েছে ২০১৪-১৫ অর্থবছরে। ওই বছর রপ্তানি হওয়া সুগন্ধি চালের পরিমাণ ছিল ৩১ হাজার ৬৬৩ টন।

এদিকে গত ১০ বছরে চাল আমদানির চিত্র পর্যালোচনা করে দেখা যায়, এই সময় বাংলাদেশে চাল আমদানি হয়েছে ৯৬ লাখ ৬ হাজার ৫৫৯ টন। এর মধ্যে বিদায়ী অর্থবছরের জুন-মে সময়ে আমদানি হয়েছে ১ লাখ ৮৪ হাজার ৮৯৬ টন। এর আগের অর্থবছর আমদানির পরিমাণ ছিল ৩৯ লাখ ১২ হাজার ৭৬৫ টন।