ইউপি সচিবের বাড়ি দেখতে দূর থেকে আসে লোকজন

গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার তেলিহাটি ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সচিব ইসমত আরার বিরুদ্ধে এলাকাবাসীর অভিযোগ, টাকা ছাড়া তিনি কোনো কাজ করেন না। ট্যাক্স আদায়, ট্রেড লাইসেন্স, কলকারখানার ছাড়পত্র দেওয়া, নাগরিক ও জন্মসনদসহ সব ধরনের কাজে তাকে ঘুষ দিতে হয়। ঘুষের টাকায় নিজ গ্রাম তালতলী মোড়ের পাশে জমি কিনে প্রায় দুই কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করছেন আলিশান বাড়ি।

শুধু বাড়ি নয়, প্রায় দুই কোটি টাকা দিয়ে কিছুদিন আগে চার বিঘা জমিও কিনেছেন। তার অনিয়ম-দুর্নীতির তদন্ত করে ব্যবস্থা নিতে সম্প্রতি জেলা প্রশাসক ও দুদকে লিখিত অভিযোগ করেছেন তেলিহাটির উত্তর পেলাইদ গ্রামের কৃষক নওশাদ আলী নামে এক ভুক্তভোগী।

অভিযোগ থেকে জানা যায়, ইসমত আরা ২০১০ সালে গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার রায়েদ ইউনিয়ন পরিষদের সচিব (অফিস সহকারী) হিসেবে চাকরিতে যোগ দেন। দুর্নীতির কারণে চার বছর আগে তাকে শ্রীপুরের তেলিহাটি ইউনিয়নে বদলি করা হয়। ইউনিয়নটি শিল্প-অধ্যুষিত এবং নিজের ইউনিয়ন হওয়ায় একটি সিন্ডিকেট গড়ে তুলে অনিয়মে জড়িয়ে পড়েন তিনি।

অভিযোগকারী নওশাদ আলী বলেন, তার মেয়ের জন্মনিবন্ধন সনদের জন্য গেলে সচিব তার কাছে ৭ হাজার টাকা দাবি করেন। তিনি ৩ হাজার টাকা দিতে চাইলে সচিব টাকা ছুড়ে ফেলে দেন এবং তার সঙ্গে খারাপ মেজাজ দেখান।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয়রা জানায়, গ্রাম্য সালিসের দরখাস্ত জমা ও নোটিসের জন্যও তাকে দিতে হয় টাকা। টাকা ছাড়া তার সঙ্গে কথাও বলা যায় না।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তিনজন ইউপি মেম্বার জানান, চেয়ারম্যান বাতেন সরকার পক্ষে থাকায় সচিব ইসমত আরার কাছে তারাও জিম্মি। সচিবের পুরো পরিবার বিএনপি-জামায়াতের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। গত ৩ বছরে তার তিনবার বদলির আদেশ হয়েছে। প্রতিবারই টাকা ঢেলে বদলি ঠেকিয়েছেন তিনি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন গ্রাম পুলিশ জানান, বাবা-চাচার বয়সী চৌকিদার-দফাদারের সঙ্গে খারাপ আচরণ করেন ইসমত আরা।

সরেজমিনে দেখা যায়, তেলিহাটি ইউনিয়নের তালতলী মোড় থেকে ১০০ গজ উত্তরে সোয়া ৫ কাঠা জমির ওপর ইসমত আরার বাড়িটির নির্মাণকাজ চলছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দেড় বছর আগে সোয়া ৫ কাঠা জমি কেনেন তিনি। এক বছর আগে শুরু করেন নির্মাণকাজ। ডুপ্লেক্স বাড়ির বেশির ভাগ কাজ শেষ। টাইলস ও ফিটিংস বিদেশি। এত সুন্দর ও বড় বাড়ি এই ইউনিয়নে দ্বিতীয়টি নেই। বাড়ি তৈরিতে ইতিমধ্যে দুই কোটি টাকা খরচ হয়ে গেছে। পুরো কাজ শেষ হতে আরও অর্ধকোটি টাকা লেগে যাবে বলে তারা ইসমত আরার মুখে শুনেছেন। দূর-দূরান্ত থেকে অনেকে বাড়িটি দেখতে আসে।

এ ব্যাপারে ইসমত আরা দেশ রূপান্তরকে জানান, তিনি কোনো ধরনের অনিয়ম ও ঘুষ দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত নন। আর যে বাড়ি করা হচ্ছে তা তার নিজের বৈধ টাকায় করা হচ্ছে।

তেলিহাটি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুল বাতেন সরকার বলেন, পরিষদের সচিব ইসমত আরার অনিয়ম, দুর্নীতির বিষয়ে আমার কাছে কেউ অভিযোগ করেনি। তবে শুনেছি সচিবের বিরুদ্ধে কেউ জেলা প্রশাসক ও দুর্নীতি দমন কমিশনে অভিযোগ দিয়েছে।