ইরাকের রাজধানী বাগদাদে অবস্থিত জাতীয় জাদুঘরের কার্যালয়ে চলছে ব্যাবিলনীয় ও আসিরীয় সভ্যতার সময়কালের অমূল্য সম্পদের খোঁজে অভিযান। ওয়াফা হাসান তার ডেস্কে বসে কাগজের বিশাল স্তূপের দিকে তাকিয়ে পাতা উল্টাচ্ছেন আর দীর্ঘশ্বাস ফেলছেন। তার হাতে একটি ক্যাটালগ আছে প্রাচীন প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনের, যেগুলো ইরাকে আবিষ্কার হওয়ার পরও ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে।
প্রত্ন সম্পদগুলোর বিষয়ে ওয়াফা দি ইন্ডিপেনডেন্টকে বলেন, ‘এগুলো যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন, সুইজারল্যান্ড, লেবানন, সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই), স্পেনসহ সর্বত্র ছড়িয়ে আছে। এগুলো আমাদের এবং আমরা এগুলো ফিরে পেতে কঠোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।’ ওই নারী একই সঙ্গে প্রতœতাত্ত্বিক ও গোয়েন্দা। তিনি জাদুঘরটির উদ্ধার বিভাগের প্রধান। তার মূল দায়িত্ব ইরাক থেকে লুট হয়ে বিভিন্ন জাদুঘর ও ব্যক্তিগত সংগ্রহশালায় স্থান নেওয়া হাজার হাজার প্রতœতাত্ত্বিক সামগ্রী খুঁজে বের করা ও সেগুলোকে দেশটিতে ফিরিয়ে আনা।
গত কয়েক দশক ধরে ইরাকের প্রাচীন বস্তুগুলোর বাণিজ্য ও এগুলোর উদ্ধার তৎপরতা ইঁদুর-বিড়াল খেলার মতো হয়ে গেছে। দেশটির সীমান্তগুলোতে সম্ভবত বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রতœতাত্ত্বিক অঞ্চলগুলো রয়েছে। তাইগ্রিস ও ইউফ্রেতিস নদীদ্বয়ের মধ্যবর্তী অঞ্চল মেসোপটোমিয়ায় সভ্যতার জন্ম। সেখানে প্রথম নগর নির্মাণ হয়, লেখা হয়েছিল প্রথম শব্দগুচ্ছ। প্রথম সাম্রাজ্যের উত্থান-পতনও হয় ওই অঞ্চলে। কিন্তু যুদ্ধ ও অস্থিতিশীলতা এ অঞ্চলের সম্পদগুলো লুট করা সহজ করে দেয়।
বিশ শতকের গোড়ার দিকে ইউরোপের প্রতœতাত্ত্বিকরা নিয়মিত বিরতিতে প্রতœতাত্ত্বিক সম্পদগুলো নিজেদের দেশে পাঠিয়েছে। সাবেক প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হোসেনের আমলে অবৈধ খনন ছিল সাধারণ একটি বিষয়। বিশেষত প্রথম উপসাগরীয় যুদ্ধের পর এটি বেড়ে যায়। ২০০৩ সালে ইরাকে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন আগ্রাসনে পরিস্থিতি অন্যদিকে মোড় নেয়। ২০০৩ সালের ১০ এপ্রিল ইরাকে সেনাদের পলায়ন ও যুক্তরাষ্ট্রের সেনাদের আগমনের মধ্যবর্তী সময়ে বাগদাদে জাতীয় জাদুঘরে চুরির মচ্ছব শুরু হয়। সেখান থেকে ১৫ হাজারের বেশি সামগ্রী লুট হয়। এগুলোর মধ্যে ছোট্ট সিলিন্ডার থেকে শুরু করে সুমেরীয় রাজা এন্তেমেনার মস্তকবিহীন ভাস্কর্যও রয়েছে। একে ইতিহাসের অন্যতম জঘন্য সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যবিরোধী অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
ওই দিনের কথা স্মরণ করে ওয়াফা হাসান বলেন, ‘এই ঘটনা আমাকে ব্যাপক পীড়া দেয়। বিপুলসংখ্যক লোক ভেতরে ঢোকে। এটি পুরোপুরি ধ্বংস করা হয়।’ ২০১৫ সালে জাদুঘরটি ফের চালু হয়।