এলাকার যুবলীগ নেতাকর্মী পরিচয়ধারী একদল যুবকের হামলার মুখে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করে আপাতত রক্ষা পাওয়া পটুয়াখালীর কলাপাড়ার সোবাহান-নাজমা দম্পতি পরিবার ফের হামলার শঙ্কায় দিন পার করছে। এলাকায় ‘হোন্ডা বাহিনী’ হিসেবে পরিচিত ওই যুবকরা আবার হামলা করতে পারে এমন আশঙ্কার মুখে জীবন-জীবিকার একমাত্র অবলম্বন খালে মাছ ধরা বন্ধ হয়ে গেছে এই দম্পতির। শুধু আয়-রোজগারই নয়, তাদের এক সন্তানের বিদ্যালয়ে যাওয়াও বন্ধ হয়ে গেছে। এই পরিস্থিতিতে জীবিকার একমাত্র অবলম্বন স্থানীয় খালে মাছ ধরার জায়গাটুকু ফিরে পেতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন হতদরিদ্র সোবাহান।
স্থানীয় বাসিন্দারা দেশ রূপান্তরকে জানান, কলাপাড়ার মিঠাগঞ্জ ইউনিয়নের পশ্চিম মধুখালী গ্রামের বাসিন্দা সোবাহান-নাজমা দম্পতি। মধুখালী থেকে তেগাছিয়া যাওয়ার সড়কের পাশে একটি ঝুপড়ি ঘরে তাদের বসবাস। সোবাহান তার নিজের জমি লাগোয়া কালভার্টের মুখে জাল পেতে মাছ ধরে বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। মাছ ধরা থেকে যে সামান্য আয় হতো তা দিয়ে কলেজ ও স্কুলপড়–য়া দুই সন্তানের লেখাপড়াসহ সংসারের প্রয়োজনীয় খরচ চালাতেন। কিন্তু বর্তমানে তা বন্ধ।
ভুক্তভোগী সোবাহান দেশ রূপান্তরের কাছে অভিযোগ করেন, গত সোমবার রাতে যুবলীগের ক্যাডার পরিচয় দিয়ে স্থানীয় বদিউল, নাদিম ও দুলালের নেতৃত্বে ২০-২৫ জনের ‘হোন্ডা বাহিনী’ তার ওপর হামলা চালায়। হামলাকারীরা প্রথমে তাকে চলা (কাঠের টুকরা) দিয়ে পেটাতে থাকে। এ সময় স্ত্রী নাজমা তাকে রক্ষায় এগিয়ে এলে তার ওপরও চলে হামলা। পরে মা-বাবাকে রক্ষায় এইচএসসি পরীক্ষা দেওয়া বড় ছেলে রুমান এগিয়ে এলে তাকেও মারধর করে হামলাকারী যুবকরা। শুধু তা-ই নয়, হামলাকারী যুবকরা সোবাহানের উপার্জনের একমাত্র অবলম্বন জালটিও ছিঁড়ে ফেলে। সোবাহানকে মারধরের সময় গ্রামের লোকজন এসে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলেও তাদের নিবৃত্ত করতে পারেনি। উল্টো ‘হোন্ডা বাহিনীর’ সদস্যরা খালে সোবাহানের জাল পাতার ওপর নিষেধাজ্ঞা এবং তারা নিজেরাই জাল পাতবে বলে ঘোষণা দেয়। তখন উপায় না দেখে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করে তার ওপর হামলার কথা জানান সোবাহান। জাতীয় জরুরি সেবার মাধ্যমে খবর পেয়ে কিছুক্ষণের মধ্যেই কলাপাড়া থানার এসআই বিপ্লব মিস্ত্রীর নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে হাজির হয়। তারা সোবাহানকে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা দেওয়া হবে বলে আশ্বস্ত করে। পরে হামলার বিষয়টি স্থানীয় সাংসদ অধ্যক্ষ মহিব্বুর রহমানকেও অবগত করেন সোবাহান। তখন হামলাকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য পুলিশকে নির্দেশ দেন সাংসদ। কিন্তু সবকিছুর পরও সোবাহান ও তার পরিবারের সদস্যরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
সোবাহান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘হামলাকারীরা আমার একমাত্র জালটি ছিঁড়ে ফেলেছে। এ ছাড়া আমার ওপর আবার হামলা হতে পারে বলে ভয় পাচ্ছি। এইচএসসি পরীক্ষা দেওয়া ছেলে রুমানের নিরাপত্তা নিয়েও টেনশনে আছি। আর নবম শ্রেণির ছাত্র ছোট ছেলে খোকনের লেখাপড়াও বন্ধের উপক্রম হয়েছে। ছোট ছেলেকে ফের মারধরের ভয়ে স্কুলে পাঠানো বন্ধ রাখছি। কারণ হামলাকারীরা সবাই স্কুলে যাওয়ার পথের আশপাশে আড্ডা দেয়।’
এ পরিস্থিতিতে নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা এবং সংসারের খরচ চালাতে খালে মাছ ধরার সুযোগ ফিরে পেতে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপ চেয়েছেন সোবাহান।
সোবাহানের নিরাপত্তাহীনতার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে কলাপাড়া থানার ওসি মনিরুল ইসলাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘সোবাহানের ওপর কোনো ধরনের হামলা তো দূরের কথা, কেউ সমস্যা করলে তাকে আইনের আওতায় আনা হবে।’
অন্যদিকে কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মুনিবুর রহমান বলেন, ‘দরিদ্র সোবাহানের পরিবারকে যারা হয়রানি কিংবা উপার্জনে বাধা হয়ে দেখা দেবে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’